ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১০২ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত


পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১০২ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ নতুন করে আরও ১৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে নিয়োজিত রয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সমন্বিত বিমান ও স্থল অভিযানের মধ্যে এসব সশস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে নিহত হওয়ায় ‘অপারেশন শাবানে’ নিহতের সংখ্যা ৬৪ এ পৌঁছেছে। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ১০২।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

এদিকে, চলমান অভিযানের মধ্যেই সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকসহ ৪২ জন নিহত হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, শেষ সশস্ত্র ব্যক্তিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত বেলুচিস্তানে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে, এন-২৫ মহাসড়কে পৃথক একটি অভিযানে আরও দুটি সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করারও তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেছেন, জিয়ারাতে হামলাকারীরা ভারতের সমর্থনপুষ্ট ছিল। তিনি বলেন, প্রথম সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করলেও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। 

আরও পড়ুন: রাতভর ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৩

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কিছু পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করেছিল।

পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বৃ্দ্ধি পেয়েছে।

এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তপারের অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে আফগান তালেবান ও তাদের মিত্রদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন।

তাছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবি মতে, ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনাসদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুন: মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস বন্ধ, যাত্রীরা দুর্ভোগে

পাকিস্তানের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও আফগান তালেবান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোনও সমঝোতা এখনো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ এম


চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ চীনের উপকূলে আঘাত হেনেছে। এটি দেশের উপকূলে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘটে। তবে টাইফুনটি আঘাত হানার আগেই প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত টাইফুনটি শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় শুরুতে চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।

জাপানের কিছু দূরবর্তী দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাংশ ঘেঁষে অতিক্রম করে, ফলে সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। টাইফুনের প্রভাবে ফিলিপাইনে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে টাইফুন বাভির শক্তি কিছুটা কমে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপান্তরিত হলেও, এর মধ্যে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে এখনও ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকবে।

रোববার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছায়। পূর্বাভাস বলছে, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। পাশের প্রদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষও সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস ও প্রতিটি ধরনের বহিরঙ্গন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।

২০ লাখের বেশি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনের গতিপথের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কয়েক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।

ওয়েনঝৌর বাসিন্দা লি লিয়াংশিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।’

এদিকে, রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে জন্ম নেয়। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপশান্তে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রমের সময় এর গতি কমে ১৪৪ কিলোমিটার হয় এবং এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত করতে সক্ষম হয়। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয় এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে এখন পর্যন্ত জাপান ও তাইওয়ান—দুই দেশে কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংককের এক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ২৭ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ এম


ব্যাংককের এক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ২৭ জনের

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা এ তথ্যটি জানিয়েছেন।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা রুয়ামকাটানিউ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আনওয়ুত ফো-আমপাই জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৭ জনের বেশি হতে পারে। এছাড়া, উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে তাই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, ব্যাংককের চাতুচাক জেলার রং বিয়ার না লাত ফ্রাও নামের একটি বারে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কিভাবে আগুন লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডের পর্যটনকেন্দ্রিক রাজধানী ব্যাংককে এটি একটি ভয়াবহ বারে অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাড়ি প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


শাড়ি প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের কারণে দায়ের করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একটি সমন জারি করেছেন। আগামী ১৩ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’-এর এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তানজিন তিশা ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পছন্দ করেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, শর্ত ছিল শাড়িটি পরে তিনি পেজটির প্রচারণা করবেন। এই বিষয়ে তিনি ভয়েস ও টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও তিনি শাড়িটি পরে কোনো প্রচারণা করেননি এবং গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেননি।

বাদীর অভিযোগ অনুসারে, তানজিন তিশা প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার জানান, ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। তিনি আরও জানান, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মামলাটি করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য তেলের রপ্তানির বিকল্প পথ তৈরি করতে সিরিয়া, ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ মাইল দীর্ঘ একটি পুরোনো তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার কথা সম্পূর্ণ বিশেষভাবে ইরাকের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নেতাদের বরাতে মিডল ইস্ট আই প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাইপলাইনটি ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কিরকুক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের শহর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৮০-এর দশকে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি যদি পুনরায় চালু করা হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে ইরাকের তেল সরাসরি ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ হবে। এতে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মধ্যে এই প্রকল্প সংক্রান্ত একটি চুক্তি ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকের পূর্বে, প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক, যিনি তুরস্কে নিযুক্ত রয়েছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টম বারাক এই পাইপলাইনটিকে শুধুমাত্র একটি জ্বালানি প্রকল্প মনে করছেন না, বরং তিনি এটিকে লেভান্ট অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য লাভজনক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

পাইপলাইনটি ১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি নির্মাণ করেছিল এবং এটি প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা রাখত। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিয়ে বাগদাদের পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। ২০০৩ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পর এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, পাইপলাইনটি পুনরায় চালুর জন্য শুধুমাত্র সংস্কার করা নয়, অনেক অংশ নতুন করে নির্মাণেরও প্রয়োজন হতে পারে। নতুন স্টোরেজ ট্যাংক, পাম্পিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি পুরো প্রকল্প শেষ করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানিকে নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, সিরিয়া এবং ইরাক প্রথমবারের জন্য পাইপলাইনটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করে, যদিও তখন তা অধিক অগ্রসর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে এই বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধের সময় ইরাক সীমিত পরিসরে সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ট্যাংকার ট্রাকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করলেও এটি বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না, ফলে স্থায়ী বিকল্প রুট তৈরির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সারহাং হামাসাইদ মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরাককে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা সিরিয়াকে এড়িয়ে চলতে পারবে না। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে।

মিডল ইস্ট আই আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরে অংশ নিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও ইরাক সরকারের ওপর ইরানপন্থী শিয়া রাজনৈতিক দল ও মিলিশিয়াদের প্রভাব রয়েছে, তবে বর্তমান সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বাগদাদ আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন কোম্পানির জন্য সিরিয়ায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করার পথ সহজ হতে পারে।

ইরাক সরকার ইতিমধ্যে হাদিসা ও কিরকুক থেকে বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল টিআই, শেভরন এবং কাতারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুমোদন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু ইরাক নয়, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। বর্তমানে ইরাকের প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল; দেশের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তেল বিক্রির আয় থেকে। ভোরটেক্সার তথ্যমতে, গত মে মাসে সমুদ্রপথে ইরাকের তেল রপ্তানি আগের বছরের গড়ের মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরি করা বাগদাদ জন্য অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%