প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ নতুন করে আরও ১৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে নিয়োজিত রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সমন্বিত বিমান ও স্থল অভিযানের মধ্যে এসব সশস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে নিহত হওয়ায় ‘অপারেশন শাবানে’ নিহতের সংখ্যা ৬৪ এ পৌঁছেছে। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ১০২।
এদিকে, চলমান অভিযানের মধ্যেই সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকসহ ৪২ জন নিহত হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, শেষ সশস্ত্র ব্যক্তিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত বেলুচিস্তানে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
এদিকে, এন-২৫ মহাসড়কে পৃথক একটি অভিযানে আরও দুটি সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করারও তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেছেন, জিয়ারাতে হামলাকারীরা ভারতের সমর্থনপুষ্ট ছিল। তিনি বলেন, প্রথম সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করলেও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কিছু পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করেছিল।
পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বৃ্দ্ধি পেয়েছে।
এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তপারের অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে আফগান তালেবান ও তাদের মিত্রদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন।
তাছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবি মতে, ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনাসদস্যও নিহত হন।
পাকিস্তানের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও আফগান তালেবান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোনও সমঝোতা এখনো হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন