ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়


নারিকেল গাছের চূড়াতেই যেন আহালুর রুটিরুজি কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ান জেলা থেকে জেলায়

ভোরের আলো ফুটতেই হাতে দা, কোমরে দড়ি আর কাঁধে প্রয়োজনীয় কয়েকটি সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আহালু। দিনের গন্তব্য কখনো নকলার কোনো গ্রাম, কখনো পাশের উপজেলা, আবার কখনো জেলার সীমানা পেরিয়ে দূরের কোনো জনপদ। গন্তব্যে পৌঁছে মুহূর্তেই উঠে যান উঁচু নারিকেল গাছের মাথায়। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে যা রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য, আহালুর কাছে সেটিই প্রতিদিনের কর্মজীবন। নারিকেল গাছের চূড়াই যেন তার রুটিরুজির ঠিকানা।

শেরপুরের নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের বাড়ইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে ৪৭ বছর বয়সী আহালু। প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি পেশাদার গাছি হিসেবে নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করে আসছেন। জীবনের ঝুঁকি নেওয়া এই পেশাই তার পরিবারের প্রধান অবলম্বন।

আহালুর সংসারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। দারিদ্রতার কারনে ছেলেরা কেউ লেখাপড়ায় বেশি দূর যেতে পারেনি। বড় ছেলে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মেজ ছেলে কোরআনে হাফেজ। মেজ ও ছোট ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সবার ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি প্রয়োজন মেটানোর পেছনে রয়েছে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশার ঘাম।

আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর

আহালু জানান, প্রায় দেড়যুগ ধরে বোরো ও আমন মৌসুমে ধান রোপণ ও কাটার কাজ করেন। আর বছরের বাকি সময় নারিকেল গাছ পরিষ্কার, শুকনো ডাল অপসারণ ও পরিচর্যার কাজ করেন। তিনি বলেন ‘আগের মতো প্রতিদিন এত গাছে উঠতে পারি না। তবু মাসে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগে যখন শরীরে বেশি শক্তি ও সাহস ছিল, তখন মাসে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেছি। শক্তি, সাহস ও সামর্থ কমে যাওয়ায় আয় দিন দিন কমছে।’

তার ভাষ্য, নকলা উপজেলার পূর্বাঞ্চলে নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওইসব এলাকায় কাজও বেশি মেলে। তবে এখন আর তিনি শুধু নকলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহালুর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ছবি ও তার মোবাইল নম্বর প্রকাশ করার পরথেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকেও কাজের ডাক পান। বছরে অন্তত দুই থেকে তিন মাস জেলার বাইরে অবস্থান করে নারিকেল গাছ পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, নিজ জেলার বাহিরে কোনো এলাকায় গেলে সেখানে টানা ১০ থেকে ১২ দিন অবস্থান করে কাজ শেষ করেন। একটি গাছ পরিষ্কার করতে সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেন। তবে শহরাঞ্চলে বৈদ্যুতিক লাইনের পাশের কিংবা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছে কাজ করলে গাছের মালিকরা স্বেচ্ছায় গাছপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।

আহালুর দেয়া তথ্য মতে, নকলা উপজেলায় অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন পেশাদার গাছি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাড়ইকান্দি গ্রামের কডা মিয়া, গফুর মিয়া ও ছাইফুল; গনপদ্দী ইউনিয়নের কিংকরপুর এলাকার ছাইদুল ইসলাম এবং মেদীরপাড়ার এলাকার হাকিম মিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের সবার জীবিকার প্রধান উৎস ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশা।

স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম রেজা বলেন, ‘আহালুর সংসার ও সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য আয় সহজে আসে না। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবু সংসারের প্রয়োজনে সেই ঝুঁকিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনেকে। যদিও অনেকে এই পেশার পাশাপাশি অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন।”

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

অন্য এক সাংবাদিক নূর হোসেন জানান, আগে নারিকেল গাছ ছিলো বেশি পক্ষান্তরে গাছির সংখ্যা ছিলো কম। স্বাভাবিক কারনেই সেসময় তাদের চাহিদা বেশি ও মজুরি বেশি ছিলো। এখন গাছ কমেছে, বেড়েছে গাছির সংখ্যা। তাই চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমেছে, কমেছে তাদের আয়।’

গ্রামবাংলার এই গাছিদের জীবন খুব কমই আলোচনায় আসে। অথচ বাড়ির আঙিনার উঁচু নারিকেল গাছ নিরাপদ রাখা, শুকনো ডাল অপসারণ এবং ফলন ধরে রাখতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা আর কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। নিচে অপেক্ষা করে থাকে পরিবার, আর ওপরে থাকে জীবিকার সন্ধান।

ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্জ মো. ছায়েদুল হক জানান, আহালুর মতো নিম্ন আয়ের মানুষের এই গল্প শুধু একজন গাছির গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাংলাদেশের অসংখ্য নীরব শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাহস ও আত্মমর্যাদার গল্প। প্রতিটি গাছে ওঠার সঙ্গে তিনি যেন নতুন করে প্রমাণ করেন, জীবিকার জন্য মানুষের সাহস কতটা উঁচুতে পৌঁছাতে পারে। জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তারা প্রতিদিন গাছের চূড়ায় ওঠেন। সেই ঝুঁকির বিনিময়েই চলে সংসার, এগিয়ে যায় সন্তানের পড়াশোনা, টিকে থাকে একেকটি পরিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, আহালুর মতো গাছিরা আছেন বলেই এখনো নারিকেল গাছ পরিষ্কার করা নিয়ে কৃষকরা চিন্তা করেন না। তানাহলে সময়মত গাছ পরিষ্কারের অভাবে ফলন কমে যেত। ফলশ্রুতিতে কৃষকরা নারিকেল গাছ রোপনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেতন। গাছিদের নিখুঁত হাতের স্পর্শে সময়মত নারিকেল গাছ যথাযথভাবে পরিষ্কারের কারনেই ফলন বাড়ছে এবং নিজেদের উৎপাদিত নারকেলে স্থানীয় চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্কের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপ দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


সার্কের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপ দিতে হবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বিআইআইএসএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ছবিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এখনো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রিবিল্ডিং ট্রাস্ট, রিনিউইং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেশন: পাথওয়েজ ফর রিভাইটালাইজিং সার্ক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটিই সেই জায়গা, যেখানে ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মিলন ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সার্ককে শুধু একটি আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে এমন একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে দেশের কূটনৈতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার সমন্বয় ঘটেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক উত্তরাধিকার, যার দূরদর্শী উদ্যোগ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাকে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় স্থান করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘তবে এ উত্তরাধিকার শুধু অতীতের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।’

সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ব্যাখ্যা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কেবল একটি স্লোগান নয়। বরং এটি আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে এর অর্থ হলো এমন একটি প্রতিবেশ গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিভক্তি ও দুর্বল অর্থনৈতিক সংযোগের কারণে এটি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে কম সমন্বিত অঞ্চলগুলোর একটি।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অবিশ্বাস, অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ফলে গত কয়েক দশকে এই অঞ্চল বহু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে এবং সার্কও তার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।

তিনি বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সার্ক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে, রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে এবং আঞ্চলিক সংহতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।’

তবে তিনি বলেছেন, সার্ক এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রাসঙ্গिक। কারণ, এর সনদ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এর সচিবালয়, বিশেষায়িত সংস্থা, আঞ্চলিক কেন্দ্র, আইনি কাঠামো, কারিগরি নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা এখনো সক্রিয় রয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার যে কোনো অর্থবহ উদ্যোগ শুরু করতে হবে সংস্থাটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর সৎ মূল্যায়নের মাধ্যমে।

কথার সঙ্গেসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সার্কের বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আরও কার্যকর বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন ও অনুসরণ সংস্কৃতি জোরদার করাও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাস্তবধর্মী ও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কৌশলের মাধ্যমে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবেশ শীর্ষ পর্যায়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটিকে ‘সর্বোত্তম কার্যকর পর্যায়ে’ পরিচালিত রাখার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘সর্বোত্তম কার্যকর সার্ক’ বলতে নিয়মিত কর্মকর্তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বৈঠক, পূর্বনির্ধারিত কার্যক্রমের ক্যালেন্ডার, শক্তিশালী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, বিতর্কহীন খাতে অধিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাকে বোঝানো হয়েছে।

তিনি আগ্রহী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রকল্পভিত্তিক নমনীয় সহযোগিতার উপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, যেসব দেশ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত এবং পরবর্তীতে অন্য দেশগুলোর যোগদানের পথও উন্মুক্ত রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত প্রায় চার মাসে তিনি সার্কের প্রতিটি সদস্য দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সবাই অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমার মনে হয়, আমাদের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। সদিচ্ছাকে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপে পরিণত করতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ডকে (এসডিএফ) আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু অভিযোজন, পল্লী উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতে কার্যকর আঞ্চলিক প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ তহবিলের সুশাসন, নেতৃত্ব ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সার্ককে অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সার্ক সনদে বিতর্কিত দ্বিপক্ষীয় বিষয় সংস্থার অভ্যন্তরে আলোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এ নীতিই ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয় যে সার্কের মাধ্যমে কোনো দুটি দেশকে রাজনৈতিক সংলাপে বাধ্য করা হবে। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রকে অচল করে দিতে না পারে।’

আঞ্চলিক কাঠামোর বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সার্ক ও বিমসটেককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা হিসেবে দেখে না।

তিনি বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়াকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে, আর সার্ক সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে প্রতিনিধিত্বকারী সবচেয়ে বিস্তৃত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, ‘এ দুটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিপূরক সম্পর্ক থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কর্মপ্যাকেজ বিবেচনা করছে।

এর মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা, কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়ের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে পরামর্শ, মন্ত্রী পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই এবং সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সার্ক এখন প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব, বাস্তবধর্মী সহযোগিতা এবং নবায়িত আস্থার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ সেই আস্থা গড়ে তুলতে অবদান রাখতে প্রস্তুত।’

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের বিশিষ্ট ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত তারিক এ. করিম।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. শামসুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে ছাড় ও সরকারের নীতিতে প্লাস্টিক শিল্পে স্বস্তি : বিপিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বাজেটে ছাড় ও সরকারের নীতিতে প্লাস্টিক শিল্পে স্বস্তি : বিপিজিএমইএ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্ভূত অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি ফলে দেশটির এই উদীয়মান শিল্প খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

তবে, এই সংকটের মাঝে চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর দাবির প্রেক্ষিতে কিছু শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ার ফলে এ খাতে শিল্পে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

আজ সোমবার সকাল ১২টায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে এলাকাভেদে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই স্থবিরতা আরও প্রকট, দৈনিক ১ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই অনিশ্চয়তা প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিকের মূল উপাদানসমূহের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমান সময়ে হরমোজ প্রণালী বন্ধের ফলে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্লাস্টিক শিল্পকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলতে সরকারের তরফে কিছু কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পিভিসি রেজিন, জিপিএস রেজিন এবং পিইটি রেজিনের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ফলে তা প্রত্যাহার করে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। ফার্মাসিউটিক্যালস মেডিসিন প্যাকেজিং মেটেরিয়ালের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বজায় রাখা হয়েছে এবং ওয়েস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়াও, রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, নতুন বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হিসেবে আমরা দেখছি। প্লাস্টিক কাঁচামালের মূল সোর্স হলো মিডল ইস্ট যেমন ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরান। যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টনে ৮০০-৯০০ ডলার ছিল, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে তা বেড়ে ১৫০০-১৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তৈরি পণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পিভিসি, পিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যে প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগের দাম আগে ছিল ৩২০০ টাকা, তা বর্তমানে ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেজিংয়ের খরচ ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় ঠেকেছে।

তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিক খাতের সংযোজনের জন্য মোট ২৪টি আইটেমের ওপর ডিউটি বা শুল্ক ছাড়ের দাবি করা হয়েছিল। সরকারি তরফে মাত্র ১২টি আইটেমে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পলিসি মেকারদের প্রতি আহ্বান, প্লাস্টিক সেক্টর শুধুমাত্র নিজের জন্য ব্যবসা করে না, বরং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির জন্যও ব্যবসা করে, তারা সাপ্লাই দেয়, প্যাকেজিং, কম্পোনেন্টে সহায়তা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ মন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসীদের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতেই মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইওএম’র নতুন চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানান।

তিনি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিতকরণের জন্য আইওএম’র ধারাবাহিক সমর্থন ও পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন নীতি প্রণয়ন এবং গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইওএম’র কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আগামীতে জাতীয় ডায়াসপোরা নীতি এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের পুনঃএকত্রীকরণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, ওআইডিএফ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এছাড়া সমন্বিত অভিবাসী তথ্য ও সেবা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সামগ্রিক অভিবাসন সেবাকে আধুনিকায়ন করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, আইএফএডি’র অর্থায়নে 'ডায়াসপোরা প্রকল্প' এবং বিশ্বব্যাংক ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ‘রেইজ প্রকল্প’র সফল বাস্তবায়নসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।

ভবিষ্যতে নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম’র মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’র সুবর্ণ সময় পার করছে।

আমাদের বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তবে দক্ষ রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে তাদের পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমাদের আরও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই বিশাল জনশক্তিকে বৈশ্বিক চাহিদার উপযোগী করে গড়ে তুলতে আইওএম’র কৌশলগত এবং কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ড. লরা টম বন্ড জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে শীর্ষস্থানীয় চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সফল পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচি, নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে অনন্য অগ্রগতি প্রদর্শন করছে, তা ধরে রাখতে আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ২০টি সুনির্দিষ্ট ধারা আইওএম-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী ও জিনাত আরাসহ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীনগরে সওজের অভিযানে ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


নবীনগরে সওজের অভিযানে ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সোমবার (৬ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে পুনরায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস। অভিযানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস জানান, স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।

আগে একাধিকবার নোটিশ ও মাইকিং করে এসব অবৈধ দখলদারকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। ফলে বিধি অনুযায়ী এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে, উপজেলার সহকারী কমিশনা ভূমি আবু মোছা, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহাবুবুর রহমান এবং শতাধিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এই একই জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানঘর উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%