ফাতিমা আক্তার মিম কাঠালিয়া সংবাদদাতা
সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানো’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র 'ছৈলার চরে' জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ছৈলার চরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, "ছৈলার চরকে কেবল সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং একটি 'সাংস্কৃতিক ভিলেজ' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটিকে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পর্যটন স্পট হিসেবে উন্নত করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব হবে এবং জেলার সার্বিক পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।"
কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন গ্রাম আদালত উপজেলা সমন্বয়কারী ওমর ফারুক।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন যে, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সাজানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ জন্য দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোদ বরন জয়ধর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমানুল্লাহ সরকার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলারা খানম, রাজাপুর ইউএনও রিফাত আরা মৌরি এবং ঝালকাঠি সদর ইউএনও সেগুফতা মেহনাজ।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় সুধীজন উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাশিয়ার বিভিন্ন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে রোববার অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মস্কো যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর এসব হামলা সংঘটিত হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা বোমা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
কিয়েভে হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, আসন্ন কঠিন শীতের প্রস্তুতির মধ্যে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে রাশিয়ার হামলায় একটি শিশু-কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী একটি কিশোরীও রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
ওডেসা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানায়, কৃষ্ণসাগরসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত ‘বড় ধরনের হামলায়’ আরও একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কিয়েভের প্রশাসন বলছে, ‘শত্রুপক্ষ কিয়েভ অঞ্চলে হামলাকারী ড্রোন দিয়ে নিরলস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদনকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপের জানিয়েছেন, রুশ হামলায় আবাসিক ভবন, একটি দোকান, একটি হোটেল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একটি শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘বেসামরিক অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২ হাজার ২০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি বিমানবোমা ও বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।’
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো।
পরে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত—যেমনটি তারা বিশেষ করে মার্কিন আলোচকদের কাছে দাবি করছে— তাহলে ‘শাহেদ ড্রোন দিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাস চালানো হতো না।’
মস্কোয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভে কিয়েভস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার এবং ওমেগা টেলিকম নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি ( সাবেক দরিরামপুর হাই স্কুল) এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা সোমবার ক্লাব মিলনায়তেন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান দীপক, প্রচার উপকমিটির আহবায়ক অধ্যাপক বজলুর করিম শাহিন, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিব, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ পিনাকী, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিহাব, রেজিস্ট্রেশন উপকমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠিতে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে, যার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাউছার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।
মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সনাক সদস্য এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রশিদ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিফাত আহমেদ, ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি শাখাওয়াত হোসেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার, এবং টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সনাক সদস্যরা।
সভায় জানানো হয়, টিআইবির পর্যবেক্ষণে ঝালকাঠির ৬৭টি সরকারি ওয়েব পোর্টালের মধ্যে মাত্র ১০টিতে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ পাওয়া গেছে, এবং ৩টিতে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। নোটিশ বোর্ড, খবর, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হালনাগাদের ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে নোটিশ ও খবর অংশের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম।
সভায় তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া, নাগরিকের অধিকার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। এ সময় তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সরকারি ওয়েব পোর্টালে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও নাগরিকদের জন্য সহজে তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে পাকিস্তানের একজন নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তানের দুই পাইলট মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদ কয়েক মাস ধরে চীনে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে তাদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত নভোচারী শরৎকালে প্রায় এক সপ্তাহ তিয়াংগংয়ে অবস্থান করবেন।
পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো-এর মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচির কর্মকর্তা আমের জিলানি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই পাইলট বর্তমানে বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তারা ম্যান্ডারিন ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কাজ করা এবং উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড জি-ফোর্স সহ্য করার অনুশীলন করছেন।
এই নভোচারী চীনের মহাকাশযানে করে, চীনের উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে মহাকাশে যাবেন এবং চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের নিজস্ব কোনো ক্রুড মহাকাশযান বা উৎক্ষেপণযান নেই। তাই, এই মিশনটি ইসলামাবাদের জন্য মানব মহাকাশযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, পাশাপাশি চীনের ওপর প্রযুক্তিগত নির্ভরতার একটি স্পষ্ট উদাহরণও।
নির্বাচিত পাকিস্তানি নভোচারীর পদবি হবে ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’। অর্থাৎ তিনি মহাকাশযান পরিচালনা করবেন না; বরং তিয়াংগংয়ে পাকিস্তানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করবেন। সুপারকো-তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন শতাধিক গবেষণা প্রস্তাব জমা পড়ার পর চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো চারটি পরীক্ষাকে এ মিশনের জন্য বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবপ্রযুক্তিসংক্রান্ত গবেষণা, যার লক্ষ্য খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যার মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধান খোঁজা।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জিশান আলী ও খুররম দাউদকে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে চীনে উন্নত নভোচারী প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সুপারকো জানিয়েছিল, দুই প্রার্থী ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের একজনকে অক্টোবর-নভেম্বরের মিশনের জন্য বেছে নেওয়া হবে।
এ মিশনটি দুই দেশের বৃহত্তর মহাকাশ সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীন ও পাকিস্তান নভোচারী সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এর আগে দুই দেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, নেভিগেশন প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা করেছে। পাকিস্তানের নিজস্ব তৈরি একটি চন্দ্রযানও চীনের Chang’e-8 চন্দ্র অভিযানের সঙ্গে প্রায় ২০২৮ সালে চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চন্দ্রযানটির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টেরিও ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চাঁদের পৃষ্ঠে বাধা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার পথ নির্ধারণ করতে পারে। পৃথিবী থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।
১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিনের প্রথম মহাকাশযাত্রার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ দেশের নাগরিক মহাকাশে গেছেন। তবে নিজেদের ক্রুড মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে মাত্র তিন দেশ-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। পাকিস্তানের নভোচারী তিয়াংগংয়ে গেলে তিনি হবেন এই চীনা মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া প্রথম বিদেশি নভোচারী।
তবে পাকিস্তানের কোনো নভোচারীকে ভবিষ্যতে চীনের চন্দ্র অভিযানে পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি বা আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপারকো কর্মকর্তারা। তাদের ভাষায়, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা অনেকটাই নির্ভর করবে পাকিস্তানের এই প্রথম মানব মহাকাশ মিশনের ফলাফলের ওপর।
এশিয়ার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এই মিশন শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা নয়; বরং চীন কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।
সূত্র : রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ