প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাশিয়ার বিভিন্ন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে রোববার অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মস্কো যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর এসব হামলা সংঘটিত হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা বোমা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
কিয়েভে হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, আসন্ন কঠিন শীতের প্রস্তুতির মধ্যে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে রাশিয়ার হামলায় একটি শিশু-কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী একটি কিশোরীও রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
ওডেসা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানায়, কৃষ্ণসাগরসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত ‘বড় ধরনের হামলায়’ আরও একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কিয়েভের প্রশাসন বলছে, ‘শত্রুপক্ষ কিয়েভ অঞ্চলে হামলাকারী ড্রোন দিয়ে নিরলস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদনকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপের জানিয়েছেন, রুশ হামলায় আবাসিক ভবন, একটি দোকান, একটি হোটেল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একটি শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘বেসামরিক অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২ হাজার ২০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি বিমানবোমা ও বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।’
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো।
পরে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত—যেমনটি তারা বিশেষ করে মার্কিন আলোচকদের কাছে দাবি করছে— তাহলে ‘শাহেদ ড্রোন দিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাস চালানো হতো না।’
মস্কোয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভে কিয়েভস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার এবং ওমেগা টেলিকম নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন