প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে পাকিস্তানের একজন নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তানের দুই পাইলট মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদ কয়েক মাস ধরে চীনে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে তাদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিত নভোচারী শরৎকালে প্রায় এক সপ্তাহ তিয়াংগংয়ে অবস্থান করবেন।
পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো-এর মানব মহাকাশযাত্রা কর্মসূচির কর্মকর্তা আমের জিলানি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই পাইলট বর্তমানে বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তারা ম্যান্ডারিন ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কাজ করা এবং উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড জি-ফোর্স সহ্য করার অনুশীলন করছেন।
এই নভোচারী চীনের মহাকাশযানে করে, চীনের উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে মহাকাশে যাবেন এবং চীনা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের নিজস্ব কোনো ক্রুড মহাকাশযান বা উৎক্ষেপণযান নেই। তাই, এই মিশনটি ইসলামাবাদের জন্য মানব মহাকাশযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, পাশাপাশি চীনের ওপর প্রযুক্তিগত নির্ভরতার একটি স্পষ্ট উদাহরণও।
নির্বাচিত পাকিস্তানি নভোচারীর পদবি হবে ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’। অর্থাৎ তিনি মহাকাশযান পরিচালনা করবেন না; বরং তিয়াংগংয়ে পাকিস্তানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করবেন। সুপারকো-তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন শতাধিক গবেষণা প্রস্তাব জমা পড়ার পর চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো চারটি পরীক্ষাকে এ মিশনের জন্য বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবপ্রযুক্তিসংক্রান্ত গবেষণা, যার লক্ষ্য খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যার মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধান খোঁজা।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জিশান আলী ও খুররম দাউদকে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে চীনে উন্নত নভোচারী প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সুপারকো জানিয়েছিল, দুই প্রার্থী ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের একজনকে অক্টোবর-নভেম্বরের মিশনের জন্য বেছে নেওয়া হবে।
এ মিশনটি দুই দেশের বৃহত্তর মহাকাশ সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীন ও পাকিস্তান নভোচারী সহযোগিতা চুক্তি করেছে। এর আগে দুই দেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, নেভিগেশন প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা করেছে। পাকিস্তানের নিজস্ব তৈরি একটি চন্দ্রযানও চীনের Chang’e-8 চন্দ্র অভিযানের সঙ্গে প্রায় ২০২৮ সালে চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চন্দ্রযানটির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টেরিও ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চাঁদের পৃষ্ঠে বাধা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার পথ নির্ধারণ করতে পারে। পৃথিবী থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।
১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিনের প্রথম মহাকাশযাত্রার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ দেশের নাগরিক মহাকাশে গেছেন। তবে নিজেদের ক্রুড মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে মাত্র তিন দেশ-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। পাকিস্তানের নভোচারী তিয়াংগংয়ে গেলে তিনি হবেন এই চীনা মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া প্রথম বিদেশি নভোচারী।
তবে পাকিস্তানের কোনো নভোচারীকে ভবিষ্যতে চীনের চন্দ্র অভিযানে পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি বা আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সুপারকো কর্মকর্তারা। তাদের ভাষায়, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা অনেকটাই নির্ভর করবে পাকিস্তানের এই প্রথম মানব মহাকাশ মিশনের ফলাফলের ওপর।
এশিয়ার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এই মিশন শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা নয়; বরং চীন কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।
সূত্র : রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন