ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‎রাঙামাটিতে সাইবার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার ৬১ হারানো মোবাইল


‎রাঙামাটিতে সাইবার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার ৬১ হারানো মোবাইল

‎তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ৬১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
‎
‎এ উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে। ধারাবাহিক প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে মোবাইল ফোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৬১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
‎পরে উদ্ধার করা ফোনগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের কার্যক্রমের প্রশংসা করে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
‎
‎অনুষ্ঠানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ইনচার্জ এইচ.এম. মাহমুদসহ সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং কোর্সের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং কোর্সের উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত অঞ্চলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মাসব্যাপী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়ারিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন, ৫৩বিজিবির উদ্যোগে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন, ৫৩বিজিবির অধিনায়ক লে, কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রেখেছেন পুলিশ পরিদর্শক শাহীন হোসেন, চরবাড়ডাঙ্গা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল হক এবং ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বিজিবি অধিনায়ক উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, "এতে করে অন্যরাও বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে পারবে।" তিনি জানান, আগামীতে বিভিন্ন বিষয়ে বেকার ও শিক্ষিত যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুঙ্গির কোচে রাখা ৫ লাখ টাকা দেখে ইসমাইলকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


লুঙ্গির কোচে রাখা ৫ লাখ টাকা দেখে ইসমাইলকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে লুঙ্গির কোচ থেকে ভাড়া দেওয়ার জন্য টাকা বের করেন ইসমাইল হোসেন। এই সময় বাসের সুপারভাইজার জানতে পারেন যে, তার কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এরপর ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। নির্ধারিত গন্তব্যে না নামিয়ে বাসের মধ্যেই হাত-মুখ বেঁধে তাকে হত্যা করা হয়।

পরে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইলের লাশ ফেলে রেখে যায় তারা। এই ঘটনার পর ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে বনানী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লাশ উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে তথ্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

মো. ফারুক হোসেন জানান, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক পুরুষের লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ।

খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় মৃত ব্যক্তির মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো এবং গলায় কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পরে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ইসমাইল হোসেন। পরিবারের সদস্যরাও থানায় এসে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইসমাইল হোসেন জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তার ছেলে হাসান জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে ইসমাইলের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়।

পরে জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের বাসটি জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং হেলপার মো. মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান মো. ফারুক হোসেন।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে ওই বাসে যাত্রী হিসেবে তোলা হয়। একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু ভাড়া চাইলে ইসমাইল কোমরের লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। এ সময় লুঙ্গির কোচে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান সুপারভাইজার। পরে তিনি বিষয়টি বাসচালককে জানান এবং ইসমাইলের কাছে অনেক টাকা রয়েছে বলে ধারণা দেন। এরপর ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চালকসহ অন্যরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে বাসের অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। ইসমাইলকে বলা হয়, ঘুমিয়ে থাকুন, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে ডেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়ার পর সুযোগ নিয়ে তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নামিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গামছা প্যাঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মো. ফারুক হোসেন বলেন, হত্যার পর বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীর দিকে আসে। পরে ইউটার্ন নিয়ে আবার এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইলের লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

নিহতের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা থাকলেও গ্রেপ্তাররা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি বলে জানান তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তবে বাকি টাকার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ধ্রুপদি সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলি উঠে এসেছে।

রবিবার সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দপ্তরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালকও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, বরং এটি একটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং ঐক্যবদ্ধ করে। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক এবং পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তাদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে, শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সাহিত্য, সংগীত, নাটক এবং লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদারে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রস্তাব দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি ধ্রুপদি সংগীত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুজন ধ্রুপদি সংগীতশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও তিনি দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটি আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে গভীর অভিন্নতা রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রতিভাবানদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, আবাসিক কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে।

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার ও নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারের সাক্ষাৎ

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ার ইয়োহেই সাসাকাওয়া ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেছেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বলেন, নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের সহযোগিতার যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, এরপর থেকে নিপ্পন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সাসাকাওয়া আরও জানান, গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ও তার সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও এবং কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন।

বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগীদের সহায়তায় তারা কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে জাপানের প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও আঞ্চলিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%