বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৭ পি.এম
ভারতে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে চলেছে। দুই হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনে এবার মাশুল কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই ইউপিআইয়ের এতদিনের শূন্য মাশুল নীতিতে পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার চুপিসারে ইউপিআইয়ের ওপর মাশুল বসানোর রাস্তা তৈরি করেছে। তার দাবি, দুই হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়ীদের ইউপিআই লেনদেনের ওপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ব্যবসায়ী মাশুল বসানো হতে পারে। যদিও এ ধরনের লেনদেনের সংখ্যা মোট ইউপিআই লেনদেনের তুলনায় খুবই কম, তবে এর অর্থমূল্য মোট লেনদেনের বড় অংশের আওতায় পড়ে।
রাহুলের প্রশ্ন, সরকার যদি বলে গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি কোনো মাশুল নেওয়া হবে না, তাহলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত কে বহন করবেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ব্যবসায়ীরা যদি অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েন, তাহলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই অর্থ সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই আদায় করা হতে পারে।
রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শূন্য মাশুল নীতির বিরোধিতা করে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারত আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে। তবে এসব রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইউপিআইয়ের ব্যক্তিগত লেনদেন সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে থাকবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে যত টাকাই পাঠান না কেন, তার জন্য কোনো মাশুল দিতে হবে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া অর্থও বিনা মাশুলে থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও শূন্য মাশুলের ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
সরকারের হিসাবে, প্রায় ৯৬ শতাংশ ব্যবসায়ীভিত্তিক ইউপিআই লেনদেন এর ফলে প্রভাবিত হবে না। তবে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী লেনদেনে দুই হাজার টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।
জাতীয় পেমেন্ট সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে এই মাশুল ০.৪ শতাংশ হতে পারে এবং একটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমা থাকবে। রেল, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও বিমার মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আলাদা নির্দিষ্ট মাশুলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই মাশুল সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়।
সরকারের বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের খরচ সামলাতেই এই কাঠামো আনা হয়েছে। ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন বিনা মাশুলে রাখার দাবি করছে কেন্দ্র, অন্যদিকে বেশি অঙ্কের ব্যবসায়ী লেনদেনে মাশুল চালুর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই শপথের মাধ্যমে তিনি ‘লর্ড খান অব টুটিং’ উপাধি লাভ করেন। তিনি উচ্চকক্ষ থেকে লন্ডনের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বর্তমানে সাদিক খান লন্ডনের মেয়রের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি লেবার পার্টির নতুন সদস্য লর্ড রবার্তো নেরির সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। ঐতিহ্যবাহী এই শপথ গ্রহণের সময় তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন লেবার এমপি উপস্থিত ছিলেন।
সাদিক খান টুটিং এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানে ১১ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতেন এবং পরে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০০০ সালে বর্তমান মেয়র ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে রয়েছেন। তিনি লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং করোনা মহামারি ও সন্ত্রাসী হামলার মতো কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর তিনি নাইট উপাধিও লাভ করেন।
সাদিক খান পিয়ার উপাধি পাওয়াকে নিজের জন্য একটি বড় সম্মান হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, "এই দেশ ও রাজধানী আমাকে সাধারণ এক জীবন থেকে লন্ডনের মেয়র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।"
মেয়র হিসেবে তিনি প্রাথমিক স্কুলের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার নিশ্চিত করা, শহরের বাতাস পরিষ্কার করা, গণপরিবহন উন্নত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো কাজগুলো উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সবুজ শহর গড়ার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, হাউস অব লর্ডসের সদস্য হওয়ার পরও সাদিক খানকে লন্ডনের মেয়রের পদ ছাড়তে হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে মেয়র ও লর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। তবে তিনি চতুর্থ মেয়াদে এই পদে লড়বেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাননি।
অতীতে তিনি হাউস অব লর্ডস প্রথা তুলে দেওয়ার পক্ষে কথা বললেও বর্তমানে নিজেই এই পদে আসীন হওয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে এই উপাধি তাকে একটি দারুণ সুযোগ প্রদান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মাধনগর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন নলডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, মাধনগর এলাকার মৃত দুলাল মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), সাইদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫) এবং মৃত আহাদ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলামকে গাঁজা সেবন এবং হেরোইন রাখার অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম হোসেন জানিয়েছেন, নলডাঙ্গায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গুলবদন নেছা মনিকার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে মোহাম্মদপুরের বাসায় গিয়েছেন। গুলবদন নেছা মনিকা ভাষাসৈনিক প্রয়াত আব্দুল মতিনের অসুস্থ সহধর্মিণী।
মন্ত্রী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাসায় গিয়ে গুলবদন নেছা মনিকার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের অবদান, তার রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের স্মৃতি এবং মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেন, "ভাষাসৈনিকদের ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।"
মন্ত্রী এ সময় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গুলবদন নেছা মনিকার চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তার হাতে তুলে দেন। তিনি পাশাপাশি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের দুই কন্যা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ