প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই শপথের মাধ্যমে তিনি ‘লর্ড খান অব টুটিং’ উপাধি লাভ করেন। তিনি উচ্চকক্ষ থেকে লন্ডনের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বর্তমানে সাদিক খান লন্ডনের মেয়রের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি লেবার পার্টির নতুন সদস্য লর্ড রবার্তো নেরির সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। ঐতিহ্যবাহী এই শপথ গ্রহণের সময় তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন লেবার এমপি উপস্থিত ছিলেন।
সাদিক খান টুটিং এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানে ১১ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতেন এবং পরে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০০০ সালে বর্তমান মেয়র ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে রয়েছেন। তিনি লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং করোনা মহামারি ও সন্ত্রাসী হামলার মতো কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর তিনি নাইট উপাধিও লাভ করেন।
সাদিক খান পিয়ার উপাধি পাওয়াকে নিজের জন্য একটি বড় সম্মান হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, "এই দেশ ও রাজধানী আমাকে সাধারণ এক জীবন থেকে লন্ডনের মেয়র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।"
মেয়র হিসেবে তিনি প্রাথমিক স্কুলের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার নিশ্চিত করা, শহরের বাতাস পরিষ্কার করা, গণপরিবহন উন্নত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো কাজগুলো উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সবুজ শহর গড়ার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, হাউস অব লর্ডসের সদস্য হওয়ার পরও সাদিক খানকে লন্ডনের মেয়রের পদ ছাড়তে হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে মেয়র ও লর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। তবে তিনি চতুর্থ মেয়াদে এই পদে লড়বেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানাননি।
অতীতে তিনি হাউস অব লর্ডস প্রথা তুলে দেওয়ার পক্ষে কথা বললেও বর্তমানে নিজেই এই পদে আসীন হওয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে এই উপাধি তাকে একটি দারুণ সুযোগ প্রদান করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন