মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৮ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরে ২০১০ সালে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম বা বিপি পরিচালিত তেলকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দুর্ঘটনার পর উপসাগরের গভীর সমুদ্রের একটি এলাকায় মাছ, চিংড়ি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এসব প্রাণীর সংখ্যা পূর্বের অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী পিএনএএসে প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালের দুর্ঘটনার পর সমুদ্রের ওপরের আলো পৌঁছানো অংশ ও গভীর অন্ধকারের মাঝামাঝি এলাকায় সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তেল ছড়িয়ে পড়ার পরের বছর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় মাছের সংখ্যা ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। চিংড়ি এবং তিমির গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ক্রিলসহ খোলসযুক্ত প্রাণীর সংখ্যা কমেছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে স্কুইড ও অক্টোপাসের মতো বড় প্রাণীর সংখ্যা ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে।
গবেষকেরা সমুদ্রের এই মধ্যবর্তী অঞ্চলকে ‘গোধূলি অঞ্চল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে বিস্তৃত এ এলাকায় অসংখ্য প্রাণী বাস করে। এসব প্রাণী আবার ডলফিন ও তিমির মতো বড় সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তবে বিশাল এই বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান এখনো সীমিত রয়েছে।
গবেষণাটির প্রধান লেখক ও নোভা সাউথইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ট্রেসি সাটন জানিয়েছেন, ২০১০ সালের তেল ছড়িয়ে পড়ার আগে মেক্সিকো উপসাগরের ওই এলাকায় সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।
২০১১ সালে গবেষকেরা বিভিন্ন গভীরতায় ছয় ধরনের জাল এবং শব্দতরঙ্গভিত্তিক যন্ত্র ব্যবহার করে ওই এলাকার সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা পরিমাপ করেন। সাড়ে তিন বছর পর একই জায়গায় একই পদ্ধতিতে গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেন, প্রাণীর সংখ্যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
সাটন বলেন, প্রথমে তারা তাপমাত্রা, অক্সিজেনের সরবরাহ এবং খাদ্যের পরিমাণের মতো প্রাকৃতিক কারণগুলো পরীক্ষা করেন। কিন্তু এসব কারণে প্রাণীর সংখ্যা কমার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ওই সময়ে বড় ধরনের যে ঘটনা ঘটেছিল, তা হলো তেল ছড়িয়ে পড়া। তাই এটিকেই প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করছেন তারা।
২০১৫ সালের পরও গবেষকেরা ওই এলাকায় নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা দীর্ঘ সময় ধরে কমই ছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে সামান্য বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেলেও তা পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল না এবং স্থায়ীও হয়নি।
গবেষকেরা তিন ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাণীর সংখ্যা কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জালে ধরা প্রাণীর সংখ্যা, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যন্ত্রে পাওয়া তথ্য এবং জিনগত বিশ্লেষণ। জিনগত গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য কমেছে, যা নিজেদের মধ্যে প্রজননের কারণে হতে পারে।
২০১০ সালের ২০ এপ্রিল ডিপওয়াটার হরাইজন তেলখনন স্থাপনায় বিস্ফোরণে ১১ জন কর্মী নিহত হন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস ধরে সেখান থেকে তেল ও গ্যাস বের হতে থাকে। গবেষকদের মতে, বিস্ফোরণ ও দূষণের কারণে অনেক সামুদ্রিক প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া প্রাণীদের ডিমেও দূষিত পদার্থ জমা হতে পারে, যা পরবর্তী প্রজন্মের প্রাণীদের দুর্বল করে দেয়।
গবেষণার সহলেখক ও সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক রসায়নবিদ ইসাবেল রোমেরো বলেন, ছড়িয়ে পড়া তেল এবং তা পরিষ্কারে ব্যবহৃত রাসায়নিক—দুটিই মাছের ক্ষতি করেছে। তবে ক্ষতির ধরন আলাদা। তেল বেশি বিষাক্ত, আর তেল ছড়িয়ে দেওয়ার রাসায়নিক সেটিকে ছোট ছোট কণায় ভেঙে গভীর পানিতে থাকা প্রাণীদের দূষণের সংস্পর্শ বাড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান তহবিলের সাবেক পরিচালক ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী রিটা কোলওয়েল বলেন, তেল পরিষ্কারে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বদলে তেল ভেঙে ফেলতে সক্ষম অণুজীবের কার্যক্রম বাড়ায়—এমন উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি ভবিষ্যতের দুর্ঘটনায় বিবেচনা করা উচিত।
বিপির মুখপাত্র পল তাকাহাশি বলেন, এ দুর্ঘটনা প্রতিষ্ঠানটিকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি নানা পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান তিনি।
গবেষকেরা ক্রিলের সংখ্যা ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য পেয়েছেন। নীলচে-সবুজ আলো ছড়ানো বিশেষ ধরনের ল্যান্টার্নফিশের সংখ্যাও আগের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মাথায় আলোর অঙ্গ ও শিকার আকর্ষণের জন্য বিশেষ অঙ্গ থাকা ড্রাগনফিশের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমেছে।
সাটনের মতে, এসব প্রাণী সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি। অনেক সামুদ্রিক প্রাণী এগুলো খেয়ে বেঁচে থাকে। ফলে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পুরো সামুদ্রিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশানোগ্রাফির বিজ্ঞানী ক্যাটলিন ফ্রেজার বলেন, সমুদ্রের গভীর অংশ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান মহাকাশের তুলনায়ও অনেক ক্ষেত্রে কম। এসব অঞ্চলে সরাসরি দেখা কঠিন বলে সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন গবেষণায় গুরুতর ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালে ফ্রেজারের প্রকাশিত আরেক গবেষণায় মেক্সিকো উপসাগরের তিমি ও ডলফিনের সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য উঠে আসে। ওই গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে প্রাণীর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞানী বরিস ওয়ার্ম বলেন, একটি খননযন্ত্রের ত্রুটি হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তেল ছড়িয়ে পড়ার ১৩ বছর পরও ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরে না আসা উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞানীদের মতে, গভীর সমুদ্রে তেল উত্তোলন ও খনিজ আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করার সময় এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষজন বের হতে শুরু করেছেন। এ কারণে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ স্টেশনে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লম্বা এই ছুটির সুযোগে সোমবার বিকেল থেকেই সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মব্যস্ত নগরজীবন পিছনে ফেলে আপনজনের কাছে ফেরার এই যাত্রায় অনেকের হাতে ব্যাগ রয়েছে, কেউ পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন। সবার মুখে উৎসবের আনন্দ এবং বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা স্পষ্ট।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে অনেকেই আগেভাগে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ছুটি শুরুর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহন কেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে বাড়ি ফেরার তাড়া লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থানরত মানুষ ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন।
রাজধানীর আরামবাগে কুমিল্লাগামী তিশা প্লাস বাস কাউন্টারেও যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউন্টারে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি ছিল। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত বেড়ে গেছে। তবে বাড়তি চাপ থাকলেও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে। হাতে ব্যাগ, পরিবারের সদস্য এবং শিশুদের নিয়ে ট্রেন ধরার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে স্টেশনজুড়ে ছিল বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা। দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন, যাতে পূজার দিনগুলো স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোর উপলক্ষ। কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন। পূজার প্রস্তুতিতে পরিবারের পাশে থাকা, মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শৈশবের পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। কেউ ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে। উৎসবের আনন্দ, পরিবারের সান্নিধ্য এবং আপনজনের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশায় এই ঘরে ফেরা যেন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা নয়; বরং শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, সম্পর্কের বন্ধন নতুন করে অনুভব করা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি আবেগঘন উপলক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব স্পেনে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে বেশ কিছু শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত শনিবার শুরু হওয়া অ্যাডাম ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যার পানির কারণে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নদীর পানি উপচে পড়ছে এবং রাস্তাঘাট খরস্রোতা নদীতে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্য দুই বছর আগে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উপকূলীয় রিসোর্ট শহর অলিভাতে দুজন, সাগুনতোর একটি সৈকতে একজন এবং কাতালোনিয়ায় একটি খরস্রোতা খালে পড়ে আরেকজন মারা গেছেন।
এদিকে সোমবার সকালে ৮ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকেল নাগাদ এই নির্দেশ শুধুমাত্র আটটি মিউনিসিপ্যালিটির ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য কার্যকর রাখা হয়।
সরকারি প্রতিনিধি পিলার বের্নাবের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ৪০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, বাড়ির ছাদে আটকা পড়া ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝড়টি ব্যালেরিক দ্বীপপুঞ্জ এবং কাতালোনিয়াতেও আঘাত হানে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সোমবার প্রায় ১০০টি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
আঞ্চলিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিকেলের আগেই অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
আলিকান্তের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এলস পোবলেতস এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে গাড়ি ও ভ্যানগুলো একে অপরের ওপর স্তূপ হয়ে জমে গেছে। বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে যতটুকু সম্ভব জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেজ বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা—সত্যি বলতে, এটি একটি বিপর্যয়। ২০০৭ সালেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। তখন মানুষ সবকিছু হারিয়েছিল, আর এবারও তারা আবারও সবকিছু হারাল।’
সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার মূলত অলিভা এলাকা থেকে ২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্যালেন্সিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
পেগোর মেয়র এনরিক মল সোমবার আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম ‘আ পুন্ত’ রেডিওকে জানান, বেশ কয়েকজন মানুষ এখনো তাদের বাড়ির ছাদে আটকা পড়ে আছেন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘এইএমইটি’ শুক্রবার জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট ছিল স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ইতিহাসে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। এর ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বর মাসটিও ছিল দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ সেপ্টেম্বর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের ফলস্বরূপ শ্বশুরের কুড়ালের আঘাতে জামাই নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার কারী গোলাম রহমানের পুত্র। অপরদিকে, অভিযুক্ত শ্বশুর তরিকুল ইসলাম ওই গ্রামের গাজী রহমানের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাই আব্দুর রহমান গতকাল শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিছুদিন ধরে শশুর ও জামাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এর ফলে আজ ভোররাতে শ্বশুর তরিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে আব্দুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় এলাকাবাসী মিথ্যা অভিযোগ, বানোয়াট সংবাদ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মামুরদী ও হরিহরদী গ্রামের জনগণের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, মামুরদী গ্রামের আল আমিন, শাহ জালাল, জাকির, শাহ আলম, গিয়াসউদ্দিন, সাইদ ও শফিকুল এবং হরিহরদী গ্রামের আল আমিন, মাসুম, সামসুল ডাক্তার ও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন যে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা সবাই মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তারা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, "কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত।" যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ বা অভিযোগ প্রচার করা হলে এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত লোকজন একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা মিথ্যা অভিযোগ এবং বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ