০৯:২৭ এম
জুমার দিবস মুসলমানদের জন্য এক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা থাকে। তবে সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন, সে সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মত রয়েছে, যা হাদিসের বর্ণনার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মতে—
فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
আরও পড়ুন: মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার দায় রাষ্ট্রেরও: শায়খ আহমাদুল্লাহ
অর্থ: জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)
প্রথম মত: খুতবা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত
একদল আলেমের মতে, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হলো ইমামের খুতবার জন্য বের হওয়া থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া সময়। আবু বুরদা ইবন আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) জুমার দিনের সেই বিশেষ সময় সম্পর্কে জানতে চান, তিনি বলেন যে, তাঁর বাবা আবু মুসা আশআরি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন—
هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الْإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلَاةُ
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৭ দিনের সফরে আসছেন মাওলানা সায়্যিদ মাসউদ আসআদ মাদানি
অর্থ: ইমামের বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়ার সময়টিই সেই বিশেষ সময়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৮)
দ্বিতীয় মত: আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
অন্যদিকে, আরেকদল সাহাবি ও আলেমের মতে, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে, বিশেষত, দিনের শেষ সময়। হাদিসে বলা হয়েছে—
اثْنَتَا عَشْرَةَ سَاعَةً لَا يُوجَدُ فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ إِيَّاهُ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ
আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ নভেম্বর ২০২৬
অর্থ: জুমার দিনে এমন একাধিক সময় রয়েছে, যখন যদি কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চান, তিনি তা দান করেন। তাই আসরের পর দিনের শেষ সময়টি খুঁজুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮; সুনানে নাসাঈ সহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে)
অতএব, জুমার দিনকে সাধারণ দিনের মতো না দেখে, ইবাদত এবং দোয়ার জন্য বিশেষভাবে কাজে লাগানো উচিত। আলেমদের এই দুই মত অনুযায়ী, খুতবা ও জুমার নামাজের সময়ে এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে।
জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটিকে নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, সারাদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করা উত্তম। বিশেষ করে নিজেদের, পরিবারের, ও প্রিয়জনদের জন্য এই দোয়ার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা উচিত।
আরও পড়ুন: অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া: শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবায় অনন্য জীবন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন