বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৩ এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির কোনো পদধারী নেতা যদি প্রার্থী হতে চান, তাহলে মনোনয়ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অবশ্যই দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রার্থী হওয়ার আগে জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে লিখিত তথ্য প্রদান করতে হবে।
বুধবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ঘাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন বুলু।
বুলু এমপি বলেন, "ভোট করতে হলে আগে লিখিত দিতে হবে- প্রার্থী জনপ্রিয় এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো অবস্থানে আছেন।" তিনি আরও জানান, মনোনয়ন নিয়ে পরাজিত হলে তা মেনে নেয়া হবে না।
তিনি বলেন, "দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে বিবেচনা করা হবে।" বিএনপির এই নেতা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে।
এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরকত উল্লাহ বুলু এমপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকায় কবরস্থানের জমি কেনার জন্য টাকা উত্তোলন সংক্রান্ত বিরোধের ফলে প্রতিপক্ষ জয়দুল ঢালীর হামলায় আনোয়ার ভূঁইয়া (৪২) নামের একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ভুমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার ভূঁইয়া ওই এলাকার সেকেন্দার ভূঁইয়ার পুত্র।
পুলিশ এবং স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মানাখান এলাকায় একটি কবরস্থানের জমি কেনার জন্য টাকা উত্তোলন নিয়ে জয়দুল ঢালী এবং আনোয়ার ভূঁইয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এই বিরোধের কারণে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জয়দুল ঢালী আনোয়ার ভূঁইয়ার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে আনোয়ার গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।
এদিকে আনোয়ার ভূঁইয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজনরা জয়দুল ঢালীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "কবরস্থানের জমি কেনার টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে আনোয়ার ভূঁইয়া নামে একজন ব্যক্তি প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে এরলিং হালান্ডের বিতর্কিত গোল নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা দেখে ক্ষুব্ধ ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকা; তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২৩ সালে সিটির বিরুদ্ধে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
এবার এনজো মারেসকা পাল্টা জবাব দিয়েছেন হালান্ডের গোল নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এত আলোচনা হওয়ায় ১০ জন নিয়ে প্রায় ৭০-৭৫ মিনিট খেলা ম্যানচেস্টার সিটির অসাধারণ পারফরম্যান্সটি আড়ালে চলে যাচ্ছে।
রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়লাভ করে সিটি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন হালান্ড। তবে গোলের আগে এনজো ফার্নান্দেজ অফসাইড অবস্থান থেকে খেলার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
হালান্ডের গোলটি প্রথমে অফসাইডের কারণে বাতিল করেছিলেন মাঠের রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার প্যাট্রিক দর্গুর বুটের কারণে হালান্ড অনসাইড ছিলেন। তবে ফার্নান্দেজও গোলের সামনে অফসাইড অবস্থানে থেকে হেড করার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েব পরে স্বীকার করেন যে, ভিডিও সহকারী রেফারি ম্যাট ডনাহু হালান্ডের অবস্থানের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় ফার্নান্দেজের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি।
তবে মারেসকা এই বিতর্ক নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করতে রাজি নন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ম্যাচের এত বড় সময় ১০ জন নিয়ে খেলার পর শুধু একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা ‘খুবই হতাশাজনক’।" তাঁর মতে, সিটির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ এবং সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।
মারেসকা স্বীকার করেছেন যে, ওই সিদ্ধান্তে সিটির ভাগ্য সহায়তা করেছে। তবে তিনি মনে করেন, ফুটবলে কখনো সিদ্ধান্ত পক্ষে যায়, কখনো বিপক্ষে—এটাই খেলার একটি অংশ। তাঁর ভাষায়, "ভুল হয়েছে, সেটি সবাই জানে; কিন্তু সেখানেই বিষয়টির ইতি টানা উচিত।"
২০২৩ সালের ডার্বির উদাহরণ
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ২০২৩ সালের আরেকটি ম্যানচেস্টার ডার্বির উদাহরণও তুলে ধরেছেন মারেসকা। সে সময় তিনি পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবে সিটির সঙ্গে কাজ করছিলেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ওই ম্যাচে ইউনাইটেড ২-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেজের করা সমতাসূচক গোলটি নিয়ে তখনও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ গোলের আগে মার্কাস রাশফোর্ড অফসাইড অবস্থান থেকে বলের দিকে দৌড়েছিলেন। তিনি বল স্পর্শ না করলেও পরে সেটি ফার্নান্দেজের জন্য ছেড়ে দেন।
মারেসকার দাবি, সেবারও একই ধরনের পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত ইউনাইটেডের পক্ষে গিয়েছিল, কিন্তু সিটির কাছে কেউ ক্ষমা চাননি। তিনি বলেন, "তিন বছর আগে আমি যখন এখানে ছিলাম, ইউনাইটেডের বিপক্ষে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল। গোলটি নিয়মসিদ্ধ ছিল না, কিন্তু কেউ ক্ষমা চায়নি। সেই ক্ষমার অপেক্ষায় আমরা এখনো আছি।"
অর্থাৎ হালান্ডের গোলের সিদ্ধান্তে ভুল স্বীকার করা হলেও মারেসকা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা ফুটবলে নতুন নয়। তাঁর মূল বক্তব্য হলো—একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ১০ জন নিয়ে প্রায় পুরো ম্যাচ খেলে সিটির প্রাপ্ত ১-০ গোলের জয় এবং দলের পারফরম্যান্স যেন আড়ালে না পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন মন্তব্য করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, বরং আইনটিকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী করে তুলতে হবে। নিরাপরাধ কোন ব্যক্তি যেন অবিচারের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্যে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য, এবং বর্তমান সরকার এই প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, যে কোন প্রকার চোরাচালান, অনৈতিক কর্মকান্ড, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি নির্মূলের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তার সব কিছুই করবে।
আজ বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শহীদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন এসব মন্তব্য করেন।
সভাটি জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ এশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পাচারের পর সাইবার স্ক্যাম বা অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনানুষ্ঠানিক দালালের মাধ্যমে লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের আটকে রেখে অনলাইন স্ক্যাম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে। জাতিসংঘ এ ধরনের মানবপাচার মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) যৌথভাবে প্রকাশিত এক আঞ্চলিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘ট্রাফিকড টু স্ক্যাম : সাউথ এশিয়ান রেসপন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসন্স ফর দ্য পারপাস অব ফোর্সড ক্রিমিনালিটি ইন স্ক্যাম অপারেশনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটি সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। জোরপূর্বক অপরাধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচারের ঘটনায় জাতীয় নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও কার্যক্রমের অগ্রাধিকার আরো শক্তিশালী করতে এই প্রতিবেদনের বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ সহায়ক হবে।’
বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের ১০৩ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। গত ২ থেকে ৪ জুন শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক যাচাই কর্মশালায় পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবেদনের খসড়া পর্যালোচনা করে মতামত দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্ক্যাম কার্যক্রমে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উৎস হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। একই সঙ্গে সংগঠিত অপরাধী চক্র দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে স্ক্যাম কার্যক্রম ছড়িয়ে দিচ্ছে। অপরাধীরা নতুন জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি তাদের পুরনো পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শনাক্ত হওয়া স্ক্যাম কার্যক্রমে বড় কম্পাউন্ডের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন স্থাপনা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিলা, হোটেল, ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিসে এসব কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব বড় কম্পাউন্ডকে স্ক্যাম কার্যক্রমের সঙ্গে সাধারণত যুক্ত করা হয়, এসব স্থাপনা তার চেয়ে আলাদা। ফলে অপরাধী চক্র শনাক্ত করা এবং সেখানে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধের তদন্তে সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, ডিজিটাল ও আর্থিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ভুক্তভোগী শনাক্ত করা এবং তাদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ করা, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে স্ক্যাম কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের সবাইকে সরাসরি অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, পাচারের শিকার অনেক ব্যক্তিকে প্রতারণা করে, ভয় দেখিয়ে বা জোরপূর্বক অনলাইন অপরাধে যুক্ত করা হতে পারে। বাইরে থেকে তাদের অপরাধী মনে হলেও তারা একই সঙ্গে মানবপাচারের ভুক্তভোগী হতে পারেন।
এ কারণে স্ক্যাম কার্যক্রম থেকে উদ্ধার বা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তারা কিভাবে সেখানে পৌঁছেছেন এবং কী পরিস্থিতিতে অপরাধে যুক্ত হয়েছেন, তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার পর তাদের যথাযথ সেবা ও সুরক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি পাচারের সরাসরি পরিণতিতে বাধ্য হয়ে করা বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের শাস্তি না দেওয়ার নীতির প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মানবপাচার মোকাবেলায় তিনটি বিষয়কে পরস্পর সম্পর্কিত হিসেবে দেখানো হয়েছে—অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং পাচার প্রতিরোধ। এর মধ্যে সংগঠিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ও আর্থিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে বলেন, প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান রেজাউল করিম এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোসেন এ ধরনের মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধে জড়ানোর ঘটনায় তদন্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন, মানবপাচারের ঘটনায় মানবাধিকারভিত্তিক ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইউএনওডিসির সদর দপ্তরের মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিষয়ক বিভাগের উপপ্রকল্প সমন্বয়কারী ও আইন ও নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা জি এই লি প্রতিবেদনের পদ্ধতি, ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রিভেন্টিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং ট্রাফিকিং ইন হিউম্যান বিইংস অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস ইন সাউথ এশিয়া (২০২৪–২০২৭)’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার মোকাবেলায় কার্যকর ও মানবাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ