প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে এরলিং হালান্ডের বিতর্কিত গোল নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা দেখে ক্ষুব্ধ ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকা; তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২৩ সালে সিটির বিরুদ্ধে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
এবার এনজো মারেসকা পাল্টা জবাব দিয়েছেন হালান্ডের গোল নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এত আলোচনা হওয়ায় ১০ জন নিয়ে প্রায় ৭০-৭৫ মিনিট খেলা ম্যানচেস্টার সিটির অসাধারণ পারফরম্যান্সটি আড়ালে চলে যাচ্ছে।
রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়লাভ করে সিটি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন হালান্ড। তবে গোলের আগে এনজো ফার্নান্দেজ অফসাইড অবস্থান থেকে খেলার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
হালান্ডের গোলটি প্রথমে অফসাইডের কারণে বাতিল করেছিলেন মাঠের রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার প্যাট্রিক দর্গুর বুটের কারণে হালান্ড অনসাইড ছিলেন। তবে ফার্নান্দেজও গোলের সামনে অফসাইড অবস্থানে থেকে হেড করার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েব পরে স্বীকার করেন যে, ভিডিও সহকারী রেফারি ম্যাট ডনাহু হালান্ডের অবস্থানের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় ফার্নান্দেজের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি।
তবে মারেসকা এই বিতর্ক নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করতে রাজি নন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ম্যাচের এত বড় সময় ১০ জন নিয়ে খেলার পর শুধু একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা ‘খুবই হতাশাজনক’।" তাঁর মতে, সিটির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ এবং সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।
মারেসকা স্বীকার করেছেন যে, ওই সিদ্ধান্তে সিটির ভাগ্য সহায়তা করেছে। তবে তিনি মনে করেন, ফুটবলে কখনো সিদ্ধান্ত পক্ষে যায়, কখনো বিপক্ষে—এটাই খেলার একটি অংশ। তাঁর ভাষায়, "ভুল হয়েছে, সেটি সবাই জানে; কিন্তু সেখানেই বিষয়টির ইতি টানা উচিত।"
২০২৩ সালের ডার্বির উদাহরণ
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ২০২৩ সালের আরেকটি ম্যানচেস্টার ডার্বির উদাহরণও তুলে ধরেছেন মারেসকা। সে সময় তিনি পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবে সিটির সঙ্গে কাজ করছিলেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ওই ম্যাচে ইউনাইটেড ২-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেজের করা সমতাসূচক গোলটি নিয়ে তখনও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ গোলের আগে মার্কাস রাশফোর্ড অফসাইড অবস্থান থেকে বলের দিকে দৌড়েছিলেন। তিনি বল স্পর্শ না করলেও পরে সেটি ফার্নান্দেজের জন্য ছেড়ে দেন।
মারেসকার দাবি, সেবারও একই ধরনের পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত ইউনাইটেডের পক্ষে গিয়েছিল, কিন্তু সিটির কাছে কেউ ক্ষমা চাননি। তিনি বলেন, "তিন বছর আগে আমি যখন এখানে ছিলাম, ইউনাইটেডের বিপক্ষে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল। গোলটি নিয়মসিদ্ধ ছিল না, কিন্তু কেউ ক্ষমা চায়নি। সেই ক্ষমার অপেক্ষায় আমরা এখনো আছি।"
অর্থাৎ হালান্ডের গোলের সিদ্ধান্তে ভুল স্বীকার করা হলেও মারেসকা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা ফুটবলে নতুন নয়। তাঁর মূল বক্তব্য হলো—একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ১০ জন নিয়ে প্রায় পুরো ম্যাচ খেলে সিটির প্রাপ্ত ১-০ গোলের জয় এবং দলের পারফরম্যান্স যেন আড়ালে না পড়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন