ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইংরেজিতে কন্টেন্ট করা নারীকে স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা


ইংরেজিতে কন্টেন্ট করা নারীকে স্বামীর বকা, উৎসাহ দিয়ে শেয়ার করলেন প্রিয়াঙ্কা

ভারতের যশোদা লোধি নামের এক নারী ইংরেজিতে কনটেন্ট তৈরি করার জন্য প্রায়ই স্বামীর বকা শুনতে হতো। এক ভিডিওতে তিনি তার স্বামীর বকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। পরে, সেই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যশোদাকে উৎসাহ প্রদান করেন।

ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোদা লোধি উত্তর প্রদেশের অধিবাসী এবং ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করতেন। ভিডিও তৈরি না করার জন্য তার স্বামী প্রায়ই তাকে বকা দিতেন। ক্ষেতের কাজে ব্যস্ত থাকার সময়, তিনি একটি ভিডিও তৈরি করেন যেখানে তিনি তার স্বামীর বকার কথা শেয়ার করেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার এই ভিডিও শেয়ার করার জন্য প্রশংসা করেন।

যশোদা জানান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার ভিডিও শেয়ার করার পর তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, ইউটিউবেও তার অনুসারীর সংখ্যা ৪ লাখের বেশি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ‘আমি আলিয়া বা দীপিকা নই’, কেন বললেন রাধিকা আপ্তে?

প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে যশোদা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, "যেকোনো কাজই ছোট নয়। নিজের কাজ চালিয়ে গেলে একদিন সফলতা পাওয়া যায়। অন্যকে শেখানোর ছোট ছোট চেষ্টা আমার জন্য বড় অর্জন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে ১৫০ সদস্যের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


মধুপুরে ১৫০ সদস্যের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে সদস্যদের মাঝে বিনামূল্যে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রাম, মধুপুর ব্রাঞ্চ অফিসের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৫০ জন সদস্যের প্রত্যেকের মাঝে একটি করে আম, লেবু, পেয়ারা ও মেহগনি গাছের চারা দেওয়া হয়।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমএফপির রিজিওনাল ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিউদ্দিন আহমাদ, বিজিএসের সিডিপি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মিলন চৌধুরী, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আঃ হামিদ, বিজিএস এমএফপির মধুপুর শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ফিরোজ মাহমুদ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএসের সহকারী হিসাবরক্ষক শেখর মিত্র বড়ুয়া, পিও (কৃষি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার (ইন্সটিটিউশন বিল্ডিং) মো. সুরুজ মিয়া ও এসডব্লিউ মো. নুর আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার জন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পেলেন হোসেনপুরের সন্তান আনোয়ার পারভেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পেলেন হোসেনপুরের সন্তান আনোয়ার পারভেজ
 
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা পদক-২০২৬’ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সন্তান মো. আনোয়ার পারভেজ। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি তাঁর হাতে সম্মাননা পদক, সনদপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন।
জানা গেছে, এ বছর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ১০ জনের তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেন আনোয়ার পারভেজ। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি হোসেনপুর উপজেলার টান সিদলা গ্রামের মো: নাজিম উদ্দিনের সন্তান এবং ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। আনোয়ার পারভেজ হোসেনপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং হোসেনপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ৩৫তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষকতায় যোগদান করে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
অনুভূতি প্রকাশ করে আনোয়ার পারভেজ বলেন, “বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মহোদয়ের নিকট থেকে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই সম্মাননা আমার পেশাগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাবান্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ইনসাফ মার্চ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


বাংলাবান্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ইনসাফ মার্চ শুরু

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে তেঁতুলিয়া টু টেকনাফ মার্চ ফর ইনসাফ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে দেশব্যাপী এ পদযাত্রা শুরু করেন তাঁরা।

এসময় শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের নামে প্রহসন ও তদন্ত বারবার পেছানোর প্রতিবাদ তুলে ধরে দ্রুততম সময়ে এই বিচারকার্য সম্পাদনের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। শুরু হওয়া এই কর্মসূচি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণ রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।

কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

জানা গেছে, কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। এর মাঝে বিভিন্ন বাজারে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। মার্চ ফর ইনসাফ-এর মাধ্যমে তারা এসব দাবির প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।’ ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যায় সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।

জাবের অভিযোগ, বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকা- ও সহিংসতার সঙ্গে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তাদের আন্দোলন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।’ বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাদি হত্যায় ভারত, আওয়ামী লীগ এবং ‘র’ জড়িত মন্তব্য করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেছেন, হাদী হত্যাকে সাধারণ কোনো হত্যাকা- হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান জাবের। এ হত্যাকা-ের তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকা-ের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলে জাবের বলেন, ‘এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান তারা।’ তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি বা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ভোলার জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ভোলার জেলেরা

মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই ২২ দিনের সময়কালে ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে গত কয়েকদিন ধরে মাছঘাটগুলোতে সচেতনামূলক মাইকিং করা হচ্ছে এবং ঘাটে ঘাটে ব্যানার টানানো হয়েছে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে। জেলে ও মৎস্যজীবিদের নিয়ে বিভিন্ন সভা ও সেমিনারও আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট পরিদর্শন করে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমজুড়ে নদীতে মাছের অভাব দেখা দেওয়ায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংসারের খরচের পাশাপাশি আড়তদারের দাদন ও এনজিওর ঋণের চাপ নিয়ে তারা চিন্তিত।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকার জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিলেও অভিযোগ রয়েছে যে, সকল জেলে এই চাল পায় না। যেসব জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পায়, তারাও এক সপ্তাহের বেশি এই চাল দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। ফলে অভিযানের সময় ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে যায় জেলেদের জন্য।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাছঘাট পরিদর্শন করে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে বিক্রি করে আবার নদীতে ছুটে যাচ্ছেন তারা। সাগর মোহনার জেলেরা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি হিসেবে জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন। শেষ সময়ে প্রতিটি ঘটেই চলছে জেলেদের কর্মব্যস্ততা।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। নিবন্ধনের বাইরেও প্রায় ৩০-৪০ হাজার জেলে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন ৬৪ হাজার। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালীন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৩ লাখ ৫৯০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার জেলে মো. হারুন মাঝি জানান, এই বছর ভরা মৌসুমে নদীতে তেমন মাছের দেখা মেলেনি। মৌসুমের শেষের দিকে গত ১০-১৫ দিন আগে থেকে কিছু মাছ ধরা পড়লেও তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। যা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৬ সদস্যের পরিবারের খরচ যুগিয়ে সপ্তাহে দুই হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি দিতে হয়। ফলে তারা টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকার ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান ঘোষণা করেছে। এই ২২ দিনে নতুন করে ঋণ নিতে হবে। সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮-৯ দিন চলে।

উপজেলার ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. বাবুল মাঝি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছ অনেক কম। তাই পুরো বছর ঋণের বোঝা টানতে হয়। বর্তমানে নদী থেকে যে মাছ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নতুন করে ধারদেনা করতে হবে। জেলে পেশা ছাড়া তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

একই এলাকার ছিডু মাঝি জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীতে মাছ শিকার করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিন বেলা খেয়ে কোনো মতে দিন কাটান। প্রায় চার দশক নদীতে মাছ শিকার করেও তিনি কিছুই করতে পারেননি। উল্টো বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বছরে তিন থেকে চারবার নদীতে অভিযান হয়। অন্য সময়েও নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। প্রতি বছরই মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ঋণের বোঝা ভারী হওয়ায় অনেকে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় জেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমানে যারা আছেন, তারা বাধ্য হয়ে এ পেশা ধরে রেখেছেন।

সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের আড়তদার মো. জসিম বেপারী জানান, গত বছর তার আড়তে প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত অর্ধেকও হয়নি। গত বছর অভিযানের আগ মুহূর্তে মাছ বিক্রি করার জন্য দম ফেলার সময় পাওয়া যায়নি। এ বছর সারাদিন বসে থেকেও ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে মাছ অনেক কম ধরা পড়েছে। জেলেরা যে মাছ পায়, তা দিয়ে তাদের সংসারও ঠিকমতো চালাতে পারে না।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন কালের কণ্ঠকে জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ২২ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান চলবে। অভিযান সফল করার লক্ষ্যে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করা হয়েছে। ঘাটে ঘাটে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। জেলেদের নদী যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এ চাল পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অভিযানের শুরু দিন থেকেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়াও অভিযান চলাকালে জেলের ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%