ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন


একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু; শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “Integrated Health System Response to Fight Against TB, HIV/AIDS and Malaria In Bangladesh” এবং “পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)”। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)”। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা”।

পানি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)” এবং “মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”。

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প” এবং “মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)”। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)”। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “র‍্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)”। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ” এবং “তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ”।

একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। এই প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত হলো- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের উপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা ঢাকায় বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্ব) প্রকল্প; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যলয় স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসা ৮০০ মে. ওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (১ম সংশোধিত); মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানসম্পদ উন্নয়ন (১ম সংশোধিত); ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডাব্লিউএম) (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প (১ম সংশোধিত); কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীণ ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (২য় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (জিওবি আইডিবি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিঠামইনে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার পাচারের অভিযোগে দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


মিঠামইনে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার পাচারের অভিযোগে দুইজন আটক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে কৃষকদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তুকিযুক্ত ইউরিয়া সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এ সময় দুটি ট্রলি থেকে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি, সার পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রলি গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আটক দুইজনসহ অনুমোদিত সার ডিলার এবং আরও একজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকিযুক্ত ইউরিয়া সার নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে; এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গাফফারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন ইউরিয়া সার স্থানান্তরের সময় শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ট্রলি দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকিযুক্ত এসব সার অনুমোদিত বিতরণব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

আটক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়া ছাড়াও অনুমোদিত সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন এবং লিটন নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য সরকার ভর্তুকি ও প্রণোদনার মাধ্যমে সার সরবরাহ করে থাকে। নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে এসব সার বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ কারণে সরকারি বরাদ্দের সার বিতরণ ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সার সংগ্রহ করতে সমস্যা হয়। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই কালোবাজারে চলে না যায়, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, অভিযানে জব্দ করা ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার এবং সার পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রলি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা তিন বছরের ধ্বংসস্তূপে, স্যাটেলাইট চিত্রে ভয়াবহ দৃশ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


গাজা তিন বছরের ধ্বংসস্তূপে, স্যাটেলাইট চিত্রে ভয়াবহ দৃশ্য

ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও নির্বিচার হামলার কারণে তিন বছর পর গাজা উপত্যকা চিনতে পারা যাচ্ছে না। গুগুল ম্যাপসের (Google Maps) সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার একটি ভয়াবহ দৃশ্য প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে এক সময় ছিল ব্যস্ত জনপদ, কৃষিজমি এবং শতবর্ষী ঐতিহাসিক স্থাপনা, সেখানে এখন কেবল ধু-ধু মরুভূমি ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসের তীব্রতা

আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর গাজা থেকে শুরু করে দক্ষিণের রাফাহ পর্যন্ত ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র। রাফাহ ও আল-মাওয়াসি: দক্ষিণের শহর রাফাহের তাল আস-সুলতান এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অন্যদিকে, এক সময় ফাঁকা ও কৃষিভিত্তিক এলাকা আল-মাওয়াসিতে এখন শুধুই তাঁবুর ভিড়, যেখানে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

খান ইউনিস: গাজার কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র খান ইউনিসে সবচেয়ে বেশি পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্র (UNOSAT)-এর হিসাব অনুযায়ী, এই জেলায় ৫০ হাজারেরও বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক ইন্দোনেশিয়ান ইস্তিকলাল মসজিদও রয়েছে।

গাজা সিটি ও জাবালিয়া: গাজা সিটির ঐতিহাসিক বন্দর এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবিকার প্রধান কেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। অপরদিকে, উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পুরো এলাকা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৮২ শতাংশ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNRWA) এবং জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন (প্রায় ২ লাখ অবকাঠামো) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত। গত বছর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ধ্বংসযজ্ঞ থামেনি; বরং এর পর থেকে বিধ্বস্ত ভবনের সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,৭৫,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষকে হিসাব করলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের প্রস্তাব: ‘ভুয়া সংকট তৈরি করা হচ্ছে' বলছেন মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের প্রস্তাব: ‘ভুয়া সংকট তৈরি করা হচ্ছে

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরিধান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং বিশ্লেষকরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, রাজনীতির উদ্দেশ্যে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাস্তব কোনো সংকট নেই।

সম্প্রতি মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' (FdI)-র একটি সমাবেশে স্কুলে মুখ ঢেকে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে "নারীর সমতা ও নিরাপত্তার প্রয়াস" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "ইতালিতে কোনো ঐতিহ্য বা ধর্মের নামে একজন তরুণীকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না।"

কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইসলামিক স্কলাররা এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে একটি 'ভুয়া সমস্যা' তৈরি করার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি মন্তব্য করেন, "এটি সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশের চর্চাকে লক্ষ্য করে সার্বিক মুসলিম সমাজ সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরির চক্রান্ত। এতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।"

অন্যদিকে, মিলানের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মুলাইকা লরা এনরিয়েলো বলেন, "আমার দীর্ঘ শিক্ষাকথা জীবনে কোনো ছাত্রীকে স্কুলে বোরকা বা নেকাব পরে আসতে দেখিনি। এটি কোনো বাস্তব সমস্যা নয়। যে মেয়েরা হিজাব পরে, তারা তা স্বাভাবিকভাবেই পরে—কেউ তাদের বিরক্ত করে না।" তথ্য অনুযায়ী, পুরো ইতালিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন ছাত্রী পূর্ণাঙ্গ মুখ ঢেকে স্কুলে আসে।

রাজনৈতিক মেরুকরণের কৌশল?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডানপন্থী ভোটারদের ধরে রাখতে মেলোনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির সাবেক জেনারেল রবার্তো ভান্নাচ্চির চরম ডানপন্থী 'ন্যাশনাল ফিউচার' দল জনমতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় মেলোনি নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।

লুইস (LUISS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ লরেঞ্জো কাস্তেলানি বলেন, "মেলোনি মূলত রক্ষণশীল ভোটারদের বার্তা দিতে চাচ্ছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের রুখতে তিনি ইসলাম ও জাতীয় পরিচয়কেন্দ্রিক বিষয়গুলোকে রাজনীতিতে সামনে নিয়ে আসছেন।"

এটি উল্লেখ্য যে, ইতালির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জননিরাপত্তার বিষয়ে আইনি ভারসাম্য রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞাটি সংসদ এবং আদালতের আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফকল্যান্ডে তেল উত্তোলনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে আইনি হুমকি আর্জেন্টিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


ফকল্যান্ডে তেল উত্তোলনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে আইনি হুমকি আর্জেন্টিনার

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সামুদ্রিক অঞ্চলে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়। আর্জেন্টিনা, যা এই দ্বীপপুঞ্জকে 'মালভিনাস' নামে জানায়, যুক্তরাজ্য সরকারকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দিয়েছে, যাতে ব্রিটিশ তেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট মিলেই একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য 'সি লায়ন' (Sea Lion) তেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ না করলে আর্জেন্টিনা জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত 'আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ট্রাইব্যুনালে' (ITLOS) জরুরি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটেন আর্জেন্টিনার ভূখণ্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ অবৈধভাবে লুণ্ঠন করছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে অঞ্চলটির পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি জানান, "আর্জেন্টিনা এই অন্যায় নীরব থেকে মেনে নেবে না।"

তবে প্রকল্পের কাজ পরিচালনাকারী ইসরায়েলের 'নাভিতাস' এবং যুক্তরাজ্যের 'রকহপার' নামের দুটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আর্জেন্টিনার এই আল্টিমেটামকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের দেওয়া বৈধ লাইসেন্স নিয়েই তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের ১৯৮২ সালের সামুদ্রিক আইন সনদ অনুযায়ী গঠিত এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল জরুরি ও বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করতে পারলেও, যুক্তরাজ্যের ওপর তা প্রয়োগ করানোর কোনো ক্ষমতা আদালতের নেই। অন্যদিকে, ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যুক্তরাজ্যের বক্তব্য, ফকল্যান্ডবাসীদের নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ২০১৩ সালের এক গণভোটে দ্বীপপুঞ্জটির বাসিন্দারা বিপুল ভোটে ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে এই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে এই ইস্যু নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%