প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে কৃষকদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তুকিযুক্ত ইউরিয়া সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এ সময় দুটি ট্রলি থেকে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি, সার পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রলি গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আটক দুইজনসহ অনুমোদিত সার ডিলার এবং আরও একজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকিযুক্ত ইউরিয়া সার নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে; এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গাফফারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন ইউরিয়া সার স্থানান্তরের সময় শাহিন মিয়া ও জহির মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ট্রলি দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকিযুক্ত এসব সার অনুমোদিত বিতরণব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
আটক শাহিন মিয়া ও জহির মিয়া ছাড়াও অনুমোদিত সার ডিলার মুস্তাফিজুল ইসলাম রতন এবং লিটন নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য সরকার ভর্তুকি ও প্রণোদনার মাধ্যমে সার সরবরাহ করে থাকে। নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে এসব সার বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ কারণে সরকারি বরাদ্দের সার বিতরণ ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সার সংগ্রহ করতে সমস্যা হয়। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই কালোবাজারে চলে না যায়, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে জব্দ করা ১১১ বস্তা ইউরিয়া সার এবং সার পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রলি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন