বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৪ পি.এম
ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় পৃথক স্থান থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খারুয়ালী ও উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এবং অপর দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের দুটি পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁও গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে হাফেজ আলী (৬০) এবং মাহতাব আলীর ছেলে ছফির আলী (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে কয়েকজন শিশু মাদরাসায় যাওয়ার সময় মাহতাব আলীর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে ছফির আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের আড়ার সঙ্গে হাফেজ আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে, বুধবার সকালে খারুয়ালী গ্রামে মাঠে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে একটি পল্লী বিদ্যুতের সচল লাইনের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েন ধনু আকন্দ (৬০)। দূর থেকে ভাইকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন তার আপন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ (৬৫)। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ফলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। নিহত ধনু আকন্দ ওই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে এবং শাহাবুদ্দিন আকন্দ আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পৃথক ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খারুয়ালী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত দুইজনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্ধারকৃত অপর দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই মরদেহগুলোও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালিন উপ-পরিচালক এম.এম. শাব্বির হাসানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে, যিনি শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার ছিলেন। আজ (বুধবার) তার বিরুদ্ধে থাকা ‘সাময়িক বরখাস্ত’ আদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশে স্বাক্ষর করেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। আজই আদেশটি কার্যকর করা হয়।
আদেশের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬/০৯/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং কমিশন কর্তৃক মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের না করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ায় এমএম শাব্বির হাসান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক বিভাগীয় মামলা নং-০৩/২০১১ এর অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো। তার সাময়িক বরখাস্তকালের সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে শিকলবাহা, হরিপুর ও খুলনায় বার্জমাউন্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছিলেন এমএম শাব্বির হাসান। এই মামলায় তিনি শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব তৌফিক ইলাহী চৌধুরী, পিডিবি’র তৎকালিন চেয়ারম্যান নূরুদ্দীন মাহমুদ কামাল, সামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজিজ খান, পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা ও পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করেছিলেন।
এছাড়া ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সরকার আমলে বেশ কিছু হাইপ্রোফাইল মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। তার দায়েরকৃত মামলা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা তখন দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রথম কারাগারে যান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রতিশোধপরায়ণ শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার হন দুদক কর্মকর্তা শাব্বির হাসান। তাকে ‘ফাঁদ’ পেতে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের একটি মামলায় ফাঁসানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি এই মামলায় ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পান। যদিও খালাস পেলেও হাসিনা অনুগত তৎকালিন কমিশন বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশও বহাল রাখে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে বিগত কমিশনগুলো পুনর্বহাল করেনি। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দেড় দশক ধরে অপবাদের ঘানি টেনে গ্লানিমুক্ত হয়ে আজ চাকরিতে যোগদান করলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের ৪ সদস্যের একটি টিম অভিযান চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক আবু ছাদেক।
অভিযানের সময় দুদক টিম রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার অফিসে গিয়ে তার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য অনিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা দপ্তরের ওয়াশ ব্লকের কাজসহ অন্যান্য প্রকল্পের নথি যাচাই করেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া সকল প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। তবে কিছু কাগজপত্র দুদক টিম মাঠ পর্যায়ে যাচাই করার জন্য নিয়ে যায়। এছাড়া, আরো কিছু নথি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন, উপ-সহকারী পরিচালক ছরওয়ার হোসেন, এসআই সাজিবুল ইসলাম মাসুদসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে টেন্ডার কার্যক্রমে নিম্ন দরদাতাকে কাজ না দেওয়া এবং অন্য ঠিকাদারকে কাজ প্রদান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযান চলাকালে কিছু বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলেও মাঠ পর্যায়ে নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনে নগরীর বিভিন্ন অর্জন, সীমাবদ্ধতা, সমস্যা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জনতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সমস্যা সমাধানে একগুচ্ছ আশ্বাস প্রদান করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক নাগরিক নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা-ড্রেন, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন, কর এবং দুর্নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেন।
নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রসঙ্গে প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জানান, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবায় ইতোমধ্যে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, "পর্যায়ক্রমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
নগরীর যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, এসব ক্ষেত্রে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। তিনি নগরবাসীর সহযোগিতায় অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, "বিগত সময়ের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢালাওভাবে সবাইকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়।
ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনের বিষয়ে প্রশাসক জানান, নগরীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করতে হবে। তিনি বলেন, "রাস্তা ও ড্রেনের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে হবে।" ভবন অনুমোদনের দায়িত্ব নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখনও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো পায়নি। বর্তমানে অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। নগরীর উন্নয়নকাজের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, অসমাপ্ত রাস্তা ও ড্রেনের নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে নগরবাসীর ওপর কোনো ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলে নিয়ম অনুযায়ী কর দিতে হবে।
প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রশাসক। তিনি নগরীর যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবন নির্মাণের নিয়ম, করব্যবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ হেলাল উদ্দিন, চিকিৎসক নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী, মনসুর আলম চন্দন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং প্রায় দেড় সহস্রাধিক নাগরিক প্রতিনিধি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, আগামী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কোনো কলঙ্ক গ্রহণ করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করবে। প্রধানমন্ত্রীরও এই বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, "নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না।" মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বুধবার কুড়িগ্রামে এক দিনের সফরের শুরুতে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্থানীয় নির্বাচনগুলো শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে তা শেষ হবে। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকলকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার জন্য সহযোগিতা করব।"
বিরোধী দল সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দল যে কোনো বিষয়ে সরকারের ওপর দায় চাপাতে পারে, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি উল্লেখ করেন, "বিরোধী দলের দায়িত্ব যে কোনো বিষয়ে সরকারকে দায়ী করা।" তিনি বলেন, জনগণই নির্ধারণ করবে সরকার কোথায় ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামে সার সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে বিএনপির সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, "বিএনপিকে জনগণের কাছে বিভ্রান্ত ও হেয় করার জন্য সারের সংকটের আন্দোলন করা হয়েছে।" সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবেলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে কিছুটা সংকট কেটে গেছে।" গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান পেতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহামুদল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডাক্তার ইউনুস আলী, সাবেক পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবার রহমান, সদস্য সচিব আবু হানিফ বিপ্লব, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব, যুবদল নেতা নাসিম পারভেজ তারা, নাদিম আহমেদ, এটিএম নজিবর রহমান লেলিন, মাসুদ রানা বাবু, হাসান যুবায়ের হিমেল, আমিমুল এহসান, ছাত্রদল সভাপতি আশরাফুল হক বিপুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি রেশমা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা খাতুন মিলিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ