প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালিন উপ-পরিচালক এম.এম. শাব্বির হাসানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে, যিনি শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার ছিলেন। আজ (বুধবার) তার বিরুদ্ধে থাকা ‘সাময়িক বরখাস্ত’ আদেশ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের অফিস আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশে স্বাক্ষর করেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। আজই আদেশটি কার্যকর করা হয়।
আদেশের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬/০৯/২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় বিজ্ঞ আদালতের রায় এবং কমিশন কর্তৃক মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের না করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ায় এমএম শাব্বির হাসান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক বিভাগীয় মামলা নং-০৩/২০১১ এর অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো। তার সাময়িক বরখাস্তকালের সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে শিকলবাহা, হরিপুর ও খুলনায় বার্জমাউন্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছিলেন এমএম শাব্বির হাসান। এই মামলায় তিনি শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব তৌফিক ইলাহী চৌধুরী, পিডিবি’র তৎকালিন চেয়ারম্যান নূরুদ্দীন মাহমুদ কামাল, সামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আজিজ খান, পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা ও পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করেছিলেন।
এছাড়া ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সরকার আমলে বেশ কিছু হাইপ্রোফাইল মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। তার দায়েরকৃত মামলা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা তখন দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রথম কারাগারে যান। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রতিশোধপরায়ণ শেখ হাসিনার রোষানলের শিকার হন দুদক কর্মকর্তা শাব্বির হাসান। তাকে ‘ফাঁদ’ পেতে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের একটি মামলায় ফাঁসানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি এই মামলায় ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পান। যদিও খালাস পেলেও হাসিনা অনুগত তৎকালিন কমিশন বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশও বহাল রাখে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে বিগত কমিশনগুলো পুনর্বহাল করেনি। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দেড় দশক ধরে অপবাদের ঘানি টেনে গ্লানিমুক্ত হয়ে আজ চাকরিতে যোগদান করলেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন