বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৫ পি.এম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, আগামী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কোনো কলঙ্ক গ্রহণ করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করবে। প্রধানমন্ত্রীরও এই বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, "নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না।" মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বুধবার কুড়িগ্রামে এক দিনের সফরের শুরুতে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্থানীয় নির্বাচনগুলো শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে তা শেষ হবে। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকলকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করার জন্য সহযোগিতা করব।"
বিরোধী দল সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দল যে কোনো বিষয়ে সরকারের ওপর দায় চাপাতে পারে, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি উল্লেখ করেন, "বিরোধী দলের দায়িত্ব যে কোনো বিষয়ে সরকারকে দায়ী করা।" তিনি বলেন, জনগণই নির্ধারণ করবে সরকার কোথায় ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামে সার সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে বিএনপির সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, "বিএনপিকে জনগণের কাছে বিভ্রান্ত ও হেয় করার জন্য সারের সংকটের আন্দোলন করা হয়েছে।" সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবেলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে কিছুটা সংকট কেটে গেছে।" গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান পেতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহামুদল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডাক্তার ইউনুস আলী, সাবেক পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবার রহমান, সদস্য সচিব আবু হানিফ বিপ্লব, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব, যুবদল নেতা নাসিম পারভেজ তারা, নাদিম আহমেদ, এটিএম নজিবর রহমান লেলিন, মাসুদ রানা বাবু, হাসান যুবায়ের হিমেল, আমিমুল এহসান, ছাত্রদল সভাপতি আশরাফুল হক বিপুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি রেশমা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা খাতুন মিলিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, গাজা সিটির পশ্চিমে সাম্প্রতিক হামলার ফলে একাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যা ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ।
এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের অব্যাহত হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
হামাস আরও উল্লেখ করেছে যে, যদি পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে চলে যায় এবং এর ফলে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ইসরায়েলকে নিতে হবে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশসমূহ, চুক্তির গ্যারান্টার বা জামিনদার রাষ্ট্র এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, হামলা পর্যবেক্ষণ না করে ইসরায়েলকে চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য করতে এবং হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটকের মৃত্যুর কারণে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের সব পয়েন্টে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
দুর্ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টসের স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। অভিযানে প্যারাসেইলিং সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, অ্যাসেম্বল ও ডিসঅ্যাসেম্বল করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ছয় থেকে সাতটি জেরিক্যান ভর্তি জ্বালানি এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসও জব্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় শৌভিক রয় নামে এক পর্যটক ছিটকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীন এ বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে, শৌভিক রয় নিহতের ঘটনায় রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিহতের বোন একটি মামলা দায়ের করেন।
পর্যটকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন, সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা কিংবা জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি নিশ্চিত না করেই প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাই শৌভিকের মৃত্যুর পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলা প্রশাসন প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের অনুমোদন দেয়নি এবং ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভের পাশে সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ এর অর্থায়নে নতুন মসজিদে সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিব নামাজের পর গোকর্ণ দক্ষিণ বেড়িবাধ সংলগ্ন নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বরুনা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি ওলিউর রহমান হামিদী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আকর্ষণীয় এ মসজিদে সুলাইমানের কাজ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান।
এ সময় এমপি বলেন, "জনসেবাকে ইবাদত মনে করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। এই মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয় বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা মালয়েশিয়া প্রবাসী হাফেজ হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে হাফেজ মাওলানা খোবাইব আহমাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা রায়হান আহমদ শরীফী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি একে এম খালেদ। এ সময় হ্যালো সাইফুলের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি, আলেম উলামাগণ, মসজিদ নির্মাণ প্রকৌশলী, মসজিদে সুলাইমানের নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম ও খতিব এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক থেকে শিল্পপতি হয়েছেন। ২০০৮ সালে পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে স্বচ্ছলতার আশায় কলিং ভিসায় গোকর্ণ গ্রামের যুবক হাফেজ হুসাইন আহমাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। পবিত্র কোরআনের ৩০ পাড়া বুকে ধারন করে ও কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে প্রথম পেশা শুরু করেন মসজিদের ইমামতি। কিন্তু অদম্য হাফেজ হুসাইন মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রথমে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কিছুদিন পর ব্যবসায় ইনভেস্ট করা শুরু করেন। তারপর কখনো হয়েছেন প্রতারণার শিকার, কখনো আবার প্রতিপক্ষের রেষামলে পড়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব। এতদ সত্ত্বেও তিনি মনোবল হারান নি, বরং বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ়তার সাথে। হার না মানা অদম্য হুসাইন দীর্ঘ ১ যুগ পর আলোর দেখা পেয়ে কারখানার শ্রমিক থেকে আজ প্রতিষ্ঠিত হলেন শিল্পপতি হিসেবে। তিলে তিলে মালয়েশিয়ায় গড়ে তুলেন ৫ হাজার বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত “উই ওয়ান এগ্রো গ্রুপ অব কোম্পানি।” তিনি সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজ এলাকা গোর্কণে গড়ে তুলছেন মসজিদ মাদ্রাসাসহ সামাজিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান।
কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাফেজ হুসাইন আহমাদ এমন কিছু করার পরিকল্পনা করেছেন, যা শুধু দূনিয়াবী কাজে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে আখরাতের জন্যেও তার কৃত কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। যা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার হোমনায় এক বিধবা ও অসহায় নারীর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, নির্যাতন ও জীবননাশের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হোমনা পৌর সুপার মার্কেটের ৩য় তলায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী জলি বেগম (৫৯)। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ছেলে মো. নূর-এ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত মোফাক্ষের আলী খান জীবিত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে দানপত্র দলিল (নং ৩৫৫৮/৯৬) এর মাধ্যমে চান্দেরচর মৌজার ১১ শতক জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে গত ৩০ বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান নূর মোহাম্মদ জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর ২০২১ সালে জমিটির বিএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত উক্ত জায়গায় স্থিতাবস্থা রক্ষা ও ১৪৫ ধারা জারি করলেও প্রতিপক্ষ তা অমান্য করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম আরও জানান, প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা পূর্বেও একাধিকবার তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ আগস্ট (২০২৬) সন্ধ্যায় চান্দেরচর চৌমুহনী বাজারে তার দোকানঘরের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয় এবং দোকানপাটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়েও তিনি হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী বিধবা নারী তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং আদালতের ১৪৫ ধারা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে নূর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "জলি বেগমের (সৎ মা) জমি হলো ১৬ দাগে, আর আমার জমি ১৫ দাগে। আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই জমি আমাকে দিয়ে গেছেন।" তিনি আরও জানান, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী, তার বাবা তার দাদার কাছ থেকে ১৬ দাগের জমি পান। পরবর্তীতে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তিনি তার ছোট মাকে দুটি দলিলের মাধ্যমে সেই জমি লিখে দেন; যার দলিল এখনো আছে।
অন্যদিকে, ১৫ দাগের জমিটি ১৯৮৩ সালে তার নানী (সাবেক ৫ দাগ থেকে) তাকে দেন। এরপর ১৯৮৮ সালে জমিটি তার নামে রেকর্ড হয়। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন এবং ছোট ছিলেন; তার বাবা তার নামে এই রেকর্ড করিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার শিক্ষক বাবা স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তারা একের পর এক দলিল তৈরি করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ