ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিভিন্ন কলেজে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে : শিক্ষাসচিব


বিভিন্ন কলেজে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে : শিক্ষাসচিব

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজে আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখতে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদ্যুতের ওঠানামা ও সরবরাহের সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও ল্যাব কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে প্রথমে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে, এরপর মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না

আবদুল খালেক বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং কলেজগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে যে অনিয়ম ছিল, সেগুলো থেকে বের হয়ে নতুন কর্মসূচি, নতুন কারিকুলাম ও নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও সে অনুযায়ী কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের শুধু লেখাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও সহপাঠ কার্যক্রম, খেলাধুলা, গানবাজনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা করতে হবে। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ রয়েছে। এ কাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আধুনিক শিক্ষার সহায়ক উপকরণ সরবরাহের বিষয়ে আবদুল খালেক বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক শিক্ষার জন্য যেসব সহায়ক উপকরণ প্রয়োজন, সেগুলো সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।

বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুতের ওঠানামা থাকায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল থাকা আবশ্যক। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যাকআপ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু রাখা যাবে।

আরও পড়ুন: ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবের পদায়ন

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও ল্যাবসহ অনেক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো এখন কার্যকর নয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে অনেক সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যাচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীজনদের নিয়ে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রথম কাজ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এরপর মাল্টিমিডিয়া ক্লাস এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমাদুল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ছাত্রদল নেত্রীর বিতর্কিত পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

সরকার নগর স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল ধারার বাইরে রেখে একটি টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সেই সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধিকাংশ মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগণের দিকে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ড. মুহিত জানান, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই কাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন কাঠামোতে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করবে, বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

 

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।

নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমনটি জানান ড. মুহিত। পাশাপাশি ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নগর স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে ৪৭ বোতল চোলাই মদসহ দুইজন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


গোমস্তাপুরে ৪৭ বোতল চোলাই মদসহ দুইজন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ৪৭ বোতল চোলাই মদসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন—উজ্জল (৬৪), পিতা শৈয়ব আলী এবং তফিজুল ইসলাম (জেন্টু) (৬৫), পিতা তহরুল ইসলাম।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪৭ বোতল চোলাই মদ জব্দ করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক দুই ব্যক্তিকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এদিকে জব্দ করা ৪৭ বোতল চোলাই মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্য, গোমস্তাপুর থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে স্বায়ত্তশাসন জরুরি: ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে স্বায়ত্তশাসন জরুরি: ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ

সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকা পূর্ণ স্বাধীনতার একমাত্র শর্ত নয়; বরং নিয়োগ, প্রশাসন, অর্থায়ন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও স্বায়ত্তশাসন থাকা অপরিহার্য।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক ল লেকচার ২০২৬’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এবারের ল লেকচারের বিষয় ছিল ‘বিয়ন্ড জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্স: কনস্টিটিউশনাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল অটোনমি ইন বাংলাদেশ’। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উলফসন কলেজের অনারারি অ্যান্ড ভিজিটিং ফেলো ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. রেফাত আহমেদ সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "সংবিধান শুধু কিছু লিখিত আইনগত দলিল নয়; এটি জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, এই মূল্যবোধ তখনই কার্যকর হয়, যখন তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর রাখার জন্য স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বদলালে সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ড. রেফাত আহমেদ বলেন, ওই সময় সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে এই পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "কোনো সংস্কার যদি কেবল নির্দিষ্ট নেতৃত্বের সময় পর্যন্ত টিকে থাকে, সেটিকে প্রকৃত সংস্কার বলা যায় না।" টেকসই শাসনব্যবস্থার জন্য ক্ষমতার ব্যক্তিনির্ভরতার বদলে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, "ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি।" তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার পাশাপাশি ন্যায় ও নৈতিকতার মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে হবে। পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতায় নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে দক্ষ এবং নৈতিকতাসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে ‘নো কমেন্টস’ ইসি সচিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে ‘নো কমেন্টস’ ইসি সচিবের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, "উনি যেটা বলেছেন সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।"

এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ইসি সচিব জানান, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে।"

 

তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় গতকাল একটি টেন্টেটিভ (প্রাথমিক) সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।

ইসি সচিব জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় ইনপুট পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব জানান, আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কিভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।

 

ছয় মাস ধরে নির্বাচন হলে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কমিশন এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য জানাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%