প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিচারকের মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকা পূর্ণ স্বাধীনতার একমাত্র শর্ত নয়; বরং নিয়োগ, প্রশাসন, অর্থায়ন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও স্বায়ত্তশাসন থাকা অপরিহার্য।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক ল লেকচার ২০২৬’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এবারের ল লেকচারের বিষয় ছিল ‘বিয়ন্ড জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্স: কনস্টিটিউশনাল আইডেন্টিটি অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল অটোনমি ইন বাংলাদেশ’। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উলফসন কলেজের অনারারি অ্যান্ড ভিজিটিং ফেলো ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. রেফাত আহমেদ সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "সংবিধান শুধু কিছু লিখিত আইনগত দলিল নয়; এটি জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, এই মূল্যবোধ তখনই কার্যকর হয়, যখন তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের কথা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর রাখার জন্য স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চরিত্র বদলালে সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ড. রেফাত আহমেদ বলেন, ওই সময় সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে এই পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "কোনো সংস্কার যদি কেবল নির্দিষ্ট নেতৃত্বের সময় পর্যন্ত টিকে থাকে, সেটিকে প্রকৃত সংস্কার বলা যায় না।" টেকসই শাসনব্যবস্থার জন্য ক্ষমতার ব্যক্তিনির্ভরতার বদলে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, "ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি।" তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার পাশাপাশি ন্যায় ও নৈতিকতার মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে হবে। পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতায় নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে দক্ষ এবং নৈতিকতাসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন