প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকার নগর স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে মূল ধারার বাইরে রেখে একটি টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সেই সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধিকাংশ মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগণের দিকে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ড. মুহিত জানান, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই কাঠামো তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন কাঠামোতে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করবে, বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।
নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমনটি জানান ড. মুহিত। পাশাপাশি ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নগর স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন