০৫:৩৬ পি.এম
ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠা নতুন কিছু নয়। এই মৃত্যু যে সিনেমা নয়, তা স্পষ্ট। বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীর নিখুঁত পরিকল্পনা কেতনের মৃত্যুর পেছনে।
গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল এবং সিয়া গোয়ালের বাগদান হয়। জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বিয়ের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় রাজপ্রাসাদ ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমানও ভাড়া হয়েছিল। তবে সিয়া গোয়ালের মন ছিল অন্যদিকে। তার মনিয়ার ২২ বছর বয়সী প্রেমিক চেতন চৌধুরীর ওপর।
বিয়ের পরিকল্পনা এগোলেই সিয়া এবং চেতন মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সিয়া প্রথমে মনে করেছিলেন দেশের বাইরে কোনো নিরিবিলি স্থানে কেতনকে হত্যা করবেন। কিন্তু সে বিষয়টি একা সম্ভব হয়নি। কেতনের ট্র্যাকিংয়ের প্রতি আগ্রহকে কাজে লাগানো হয়। ৩১ মে কেতন এবং সিয়া পুনের লোহাগড় দুর্গে ট্র্যাকিংয়ের জন্য যান। কিন্তু সেবার সিয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
৬ জুন তাদের ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল প্রি-ওয়েডিং ফটোশ্যুটের জন্য। কিন্তু সিয়া সেখানে যেতে চাননি। এদিকে, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গিয়ে সিয়া কেতনের ব্যাগ থেকে পাসপোর্টটি চুরি করে ফেলে। মুম্বাই এয়ারপোর্টে গিয়ে কেতন দেখেন তার পাসপোর্ট নেই, ফলে বালি যাওয়া বাতিল হয়।
১৪ জুন আবার তারা লোহাগড় দুর্গে যান। সেখানে সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু কেতনের অভিজ্ঞতার জন্য তা সফল হয়নি। ১৯ জুন সিয়ার জন্মদিনের আগে তারা ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ফের যান। এবার চেতনকে ডেকে এনে তারা কেতনকে ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে, এরপর ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন।
সার্বিক হত্যা পরিকল্পনার পেছনে সিয়া তার ইনস্টাগ্রামে কেতনের প্রতি প্রেমের অভিনয় চালিয়ে যান। তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলো দেখে কেউ বোঝতেও পারবেন না তার মন কেমন। সিয়ার পোস্টে কেতনের জন্য ভালোবাসার প্রকাশ ছিল। কিন্তু অবশেষে হত্যার ঘটনাটি পুলিশের কাছে ধরা পড়ে।
লোহাগড় দুর্গে কেতনের মৃত্যু দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবা হয়েছিল। তবে পুলিশ ও কেতনের পরিবার এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকে। একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত করে। সেখানে হুডি পরা এক যুবক তাদের অনুসরণ করে। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমে হুডি পরে থাকার কারণ খুঁজতে পুলিশ দুর্ঘটনার মূল পেছনের তথ্য জানতে পারে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
সাঁতার ও মোবাইল কল রেকর্ড খুঁজলে পুলিশের সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায়। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪টি টেলিফোন কল হয়েছে। ২২ বছর বয়সী চেতন শুকনো ফলের ব্যবসায়ী। পুলিশ ঘটনাটির ৫ দিন পরে ২৩ জুন সিয়া এবং চেতনকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাদের ৭ দিন রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। কেতন ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক। কেতনকে হারিয়ে বিশাল আগরওয়াল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তার প্রশ্ন একটাই, বিয়েতে না চাইলে বললে তো হতো, কেন কেতনকে হত্যা?
এই প্রশ্ন এখন ভারতের মানুষের মুখে মুখে। কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু বাগদত্তা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় মানুষের বিশ্বাসকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন