ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উরুমকির রক্তাক্ত জুলাই, ১৭ বছর পরে যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি


উরুমকির রক্তাক্ত জুলাই, ১৭ বছর পরে যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

 

২০০৯ সালের ৫ জুলাই। চীনের জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে চীনা সরকারের হামলায় ১৯৭ জন নিহত ও এক হাজার ৭২১ জন আহত হন। দুই উইঘুর হত্যার প্রতিবাদে হাজারও মানুষ বিক্ষোভে নামে। সেখানে চীনা সরকার তাদের ওপর হামলা চালায়। এরপর উইঘুর পরিচালিত মসজিদগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। তাদের ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুন: ইইউ’র শীর্ষ মানবাধিকার পুরস্কার জিতল আইসিসি

১৭ বছর পার হয়ে গেলেও ২০০৯ সালের ৫ জুলাইয়ের উরুমকি হত্যাকাণ্ডের ক্ষত আজও শুকায়নি, বরং সেদিন উত্থাপিত প্রশ্নগুলো আজো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

উইঘুরদের সাম্প্রতিক ইতিহাস অনুধাবন এবং সমসাময়িক চীনের অন্যতম সবচেয়ে প্রভাবশালী ও পরিবর্তনের বাঁক হিসেবে এই ঘটনাকে বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলো আজও প্রাসঙ্গিক।

কেন উইঘুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষ পর্যন্ত রক্তপাতে রূপ নিয়েছিল? কেন শাওগুয়ানে উইঘুর শ্রমিকদের হত্যাকাণ্ডের কেন কোনো স্বচ্ছ তদন্ত হলো না? কেন উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করা হলো? এবং কেন কর্তৃপক্ষ আলোচনার পথ পরিহার করে দমনের পথ বেছে নিল?

এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাইয়ের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ট্র্যাজেডি ছিল না। এমনকি এটি উইঘুর সংকটের শুরুও ছিল না। বরং এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যখন দশকের পর দশক ধরে চলা অমীমাংসিত অন্যায়, পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের নামে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আর আড়াল করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: বিএনপিতেও গুপ্ত ও জামায়াত-আওয়ামী লীগে রয়েছে : মীর শাহে আলম

তাই ৫ জুলাইকে বুঝতে হলে শুধু ওই একটি দিনের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর আগের পটভূমি এবং কেন এটি প্রতিরোধের প্রতিটি সুযোগ হাতছাড়া করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ট্র্যাজেডির পটভূমি

৫ জুলাইয়ের এই ট্র্যাজেডি হঠাৎ করে ঘটেনি। এই ঘটনার কয়েক মাস আগে, ২০০৯ সালের মার্চ মাসে উইঘুর অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী ইলহাম তোহতি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছিলেন যে, উইঘুর এবং চীনা কর্তৃপক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক এক বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারি চীনা প্রোপাগান্ডায় উইঘুরদের ক্রমবর্ধমানভাবে তথাকথিত ‘তিনটি অশুভ শক্তি’ (সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ)-এর অংশ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ও সার সরবরাহে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় আলজেরিয়া

তিনি আরও যুক্তি দেন যে, সংবিধানে আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, যেখানে বাস্তবে বৈষম্য ও বঞ্চনা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। উইঘুরদের বৈধ ক্ষোভ সমাধানের পরিবর্তে এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কেবল পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতকে অনিবার্য করে তুলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, তার এই সতর্কবার্তা খুব একটা পাত্তা পায়নি। এর ঠিক তিন মাস পর, ২০০৯ সালের ২৬ জুন, গুয়াংডং প্রদেশের শাওগুয়ানে রাষ্ট্রীয় শ্রম কর্মসূচির আওতায় স্থানান্তরিত উইঘুর শ্রমিকরা ইন্টারনেটে ছড়ানো একটি গুজবের জেরে এক ভয়াবহ গণপিটুনির শিকার হন। কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। বহু উইঘুরের কাছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চেয়েও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা ছিল আরও বেশি উদ্বেগজনক।

এই চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতার পটভূমিতেই, ৫ জুলাই উরুমকির পিপলস স্কোয়ারে উইঘুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করে। তাদের দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত সাধারণ, শাওগুয়ানে ঠিক কী ঘটেছিল কর্তৃপক্ষকে তা স্পষ্ট করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু মোড় ঘুরে যায় তখন, যখন নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: কিশোরের চোখের ওপরে দাঁত গজানোর বিরল ঘটনা

শিক্ষার্থীরা যখন চারপাশের রাস্তায় পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই দমনপীড়নের খবর দ্রুত পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কর্মজীবী মানুষ, পথচারী কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ উইঘুর বাসিন্দারা যখন জানতে পারেন যে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তখন অনেকেই পরিস্থিতি দেখতে বা খোঁজ নিতে সেখানে ছুটে যান। ফলে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কেবল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, ৫ জুলাইয়ের এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি শাওগুয়ান হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অস্বীকৃতি এবং সবশেষে শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের ওপর নির্মম বলপ্রয়োগ এই পুরো ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই এক চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক পরিণতি ছিল।

চীনের নীতি পরিবর্তন, আলোচনার পরিবর্তে স্থায়ী নজরদারি

৫ জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল সেই দিনের ট্র্যাজেডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি উইঘুরদের প্রতি চীনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের এক চূড়ান্ত ও কঠোর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বহু সরকারি ও কোম্পানির ওয়েবসাইট বন্ধ

কেন শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হলো বা কোন ক্ষোভ তাদের রাজপথে নামালো সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে। শিক্ষার্থীদের তোলা মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনো অর্থপূর্ণ সমাধান কখনোই করা হয়নি।

৫ জুলাইয়ের পর কেবল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পরিধিই বাড়েটি, বরং নিয়ন্ত্রণের পেছনের মূল দর্শনটাই বদলে গেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণ খোঁজার বদলে, কর্তৃপক্ষ উইঘুর পরিচয়ের যেকোনো সাধারণ বহিঃপ্রকাশকেই সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখতে শুরু করে।

এই পরিবর্তন রাতারাতি না ঘটলেও, ৫ জুলাইয়ের ঘটনা এমন একটি শাসনপদ্ধতিকে ত্বরান্বিত করেছিল যা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দমনপীড়নের নতুন যুগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আরও পড়ুন: রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের মৃত্যু, জবাবদিহির দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

পরবর্তী সময়ে ধর্ম, ভাষা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ওপর পদ্ধতিগত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। নজরদারি ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং শুরুতে যা ‘সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে চালু করা হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের এক স্থায়ী ও সর্বগ্রাসী রূপ নেয়।

২০১৭ সালের পর এই নিপীড়ন এক নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছায়। গণ-আটক, তথাকথিত ডিটেনশন বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, কঠোর ডিজিটাল নজরদারি, জোরপূর্বক শ্রম স্থানান্তর এবং বাধ্যতামূলক সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ নীতি উইঘুর সমাজকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR), হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং অসংখ্য স্বাধীন গবেষকের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের এক মূল্যায়নে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, জিনজিয়াংয়ে উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এই নির্যাতন ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ (Crimes against Humanity) এর শামিল হতে পারে।

২০১৭ সালের এই চরমপন্থী নীতিগুলো হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি, বরং এগুলো ছিল ৫ জুলাইয়ের পর ত্বরান্বিত হওয়া শাসন ব্যবস্থারই এক ধারাবাহিক ও তীব্র রূপ। ফলে, এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ছিল না, বরং এটি এমন এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল যেখানে রাজনৈতিক সংলাপের জায়গা দখল করে নিয়েছে স্থায়ী নজরদারি, জোরজুলুম আর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিজস্ব সংস্কৃতি বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া।

এক অমীমাংসিত ইতিহাস

আজ ১৭ বছর পরও ৫ জুলাইয়ের সেই প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। কেন শাওগুয়ানের হত্যাকাণ্ডের কোনো স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত হলো না? কেন একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের জবাব আলোচনার পরিবর্তে বুলেট দিয়ে দেওয়া হলো? কেন উইঘুর পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করা হলো? এই প্রশ্নগুলো কেবল অতীতের নয়, বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৫ জুলাইয়ের পর উইঘুরদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই নীতি কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি এমন এক শাসনব্যবস্থার ফসল যা বারবার জবাবদিহিতার চেয়ে দমনকে, আলোচনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণকে এবং বৈধ ক্ষোভের সমাধানের চেয়ে জোরজুলুমকে প্রাধান্য দিয়েছে।

তাহলে ৫ জুলাইকে স্মরণ করা কেবল একটি শোক পালন বা আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি বোঝার একটি প্রয়াস যে, কীভাবে একটি অমীমাংসিত অন্যায় দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হতে পারে এবং কীভাবে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার মানসিকতা একটি পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।

ইতিহাস সাক্ষী থাকে কী ঘটেছিল, তবে ইতিহাসের পাতায় সেই অনুচ্চারিত প্রশ্ন এবং উপেক্ষা করা সতর্কবাণীগুলোকেও সমানভাবে মনে রাখা উচিত।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক উইঘুর লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার আসিয়ে উইঘুরের কলামটি ভাষান্তর করেছেন মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী- জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে লেবার রুম নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে লেবার রুম নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ : দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে লেবার রুম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু আহসান মো. মঈনুল হোসেন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি নাগরিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে পরিদর্শন চেকলিস্ট অনুযায়ী লেবার রুম নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। যদি উক্ত তারিখের মধ্যে লেবার রুম স্থাপন করা না হয়, তবে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের নির্দেশে এই আদেশের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন যে, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করার প্রবণতা কমানোর জন্য আগামী শনিবারের (১১ জুলাই) মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে বলেছিলেন তিনি। তিনি সতর্ক করেছেন যে, কোনো ক্লিনিক যদি এই নির্দেশনা অনুসরণ না করে তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবু-পানির উপকারিতা জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪২ এম


লেবু-পানির উপকারিতা জানুন

 

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনযাপনে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করেন অনেকেই। খাবার নির্বাচন থেকে শুরু করে পানীয় গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই সচেতনতা বাড়ছে। এরই মধ্যে সকালে হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও এটি রাতারাতি শরীরে বড় কোনো পরিবর্তন আনে না, তবুও নিয়মিত পান করলে শরীরের জন্য বেশ কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে।

হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়ক। লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা কমে যেতে পারে, ফলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত লেবু-পানি পান হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে পানির ঘাটতি কমায়। অনেকেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। লেবু-পানি পান করার অভ্যাস শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। শরীর আর্দ্র থাকলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে এবং বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি ছোট আকারের পাথর বড় হওয়ার আগেই ভেঙে ফেলতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। লেবু-পানিতে অতিরিক্ত চিনি বা ক্যালোরি থাকে না। তাই কোমল পানীয় বা চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে এটি বেছে নিলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সম্ভব। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি এই অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে শুধু লেবু-পানির ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শরীরচর্চার মতো অভ্যাসও সমানভাবে বজায় রাখা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


নেতানিয়াহুর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দাবি

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও নৃশংস নির্যাতনের দায়ে  ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দাবি বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭১ জন এমপি ও লর্ডস সভার সদস্য গত সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্রসচিব ইভেত কুপারের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো এই চিঠিতে লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি এবং ৭ জন পিয়ার্সসহ গ্রিন পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতা স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে নিয়মতান্ত্রিক এবং সুপ্রমাণিত নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তার দায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ইসরাইল সরকারের ওপর বর্তায়।

এর আগে উগ্র ডানপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে সংসদ সদস্যরা স্বাগত জানিয়ে বলেন, ওই পদক্ষেপ এক্ষেত্রে ইসরাইল সরকারের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং এর পর থেকে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে।

এই দাবিতে জাতিসংঘের বেশ কিছু প্রতিবেদনের সূত্রও উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন এখন ইসরাইলি আধিপত্য ও শাস্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গত মার্চ মাসে এক প্রতিবেদনে জানান, ইসরাইলি কারাগারগুলো পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। এখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে ইসরাইলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে খোদ নেতানিয়াহু প্রশংসা করেছেন, যা এই অপরাধের প্রতি সরকারের প্রচ্ছন্ন মদদকে স্পষ্ট প্রমাণ করে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলশূন্য প্রথমার্ধে সমতা স্পেন ও পর্তুগালের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


গোলশূন্য প্রথমার্ধে সমতা স্পেন ও পর্তুগালের

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলই শেয়ানে শেয়ানে লড়ছে। শেষ হয়েছে প্রথমার্ধ। প্রথম ৪৫ মিনিটকে উত্তেজনায় ঠাসা বললেও ভুল হবে না, কারণ কোনো দলই গোল আদায় করতে পারেনি।

এই ম্যাচকে ফাইনালের আগের ফাইনাল বললে যেন ভুল হবে না হয়তো। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে স্পেন ও পর্তুগাল।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন ও পর্তুগাল ফুটবল দল। ম্যাচের ১২ মিনিটেই দুদল অন ও অফ টার্গেটে শট নিয়েছে মোট সাতটি।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটে স্পেন লিড পেয়ে যেতও। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন ওইয়ারজাবাল। তার সামনে ছিল কেবল পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। কিন্তু ওইয়ারজাবালের নেওয়া শটটি লক্ষ্যে ছিল না। সাইডবারের পাশ দিয়ে চলে যায় বলটি। সে যাত্রায় পর্তুগাল বেঁচে যায়।

পরক্ষণেই আক্রমণে উঠে পর্তুগাল। বুলেট গতির এক শট নেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বীরত্বের সঙ্গে শটটি কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তিন মিনিট পর ডাবল সেভ করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দলগত আক্রমণ করে পর্তুগাল। কিন্তু ডানপ্রান্ত থেকে সতীর্থদের দেওয়া ক্রসে হেড করেন জোয়াও ফিলিক্স। সেটি ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। সাথে সাথেই কৌশলগত এক টোকা দিয়েছিলেন রোনালদো। এবারে বাজপাখির মতো উড়ে এসে বল তালুবন্দী করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।

তিন মিনিট পর দুর্দান্ত এক শট নেন নুনো মেন্ডিস। স্পেনের রক্ষণভাগের কল্যাণে সে যাত্রায় রক্ষা মেলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%