ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘ মহাসচিবের আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ


জাতিসংঘ মহাসচিবের আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ‘গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ’ করেছেন।

জাতিসংঘের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, ভিসা না দেওয়ার কারণে আব্বাসের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: ২৫ অক্টোবর রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত, দাম্মাম রুটে আবার ফ্লাইট চালু

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আব্বাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। ফলে, মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে শুধুমাত্র জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের মিশনের সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে গুতেরেস উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সংগঠনের কার্যক্রমে সব প্রতিনিধিদলের পূর্ণ অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডুজারিক জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সব প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: কুয়েতে ডিজেল পাচারের মামলায় পৌর কর্মকর্তা ও ভারতীয় নাগরিকের ৭ বছরের কারাদণ্ড

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন।

গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেয়নি। এর ফলে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী আব্বাসকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফোরামে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।

এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভোট পড়ে ১৫২-৩। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরাষ্ট্র তাঁর ভার্চুয়াল উপস্থিতির পক্ষে ভোট দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)-র এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে, যার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ দেওয়া হতো। এসব ব্যক্তির মধ্যে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো ব্যক্তিরাও ছিলেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে প্রতি ৩ জনে ১ জন মানসিক রোগী: জরিপ

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কেউ কারাগারে ছিলেন কি না—তার পরিবর্তে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার ফিলিস্তিনি উদ্যোগের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ধরনের উদ্যোগ আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা পাশ কাটানোর চেষ্টা।

ওয়াশিংটন আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া’ এবং প্রকাশ্য বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা করা অব্যাহত রেখেছে।

গত বছর জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’

এদিকে আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে সহিংসতা আরও বেড়েছে। ওই হামলার পরই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হয়।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ওই হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ১,১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক—উভয়েই রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়ছিল।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার অনুমতি নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

এর জবাবে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩,৮২১ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও, তাদের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

এই সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নীরব। ওয়াশিংটন শুধু জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণের (অ্যানেক্সেশন) বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫ বাকৃবি শিক্ষার্থী বিদেশে ইন্টার্নশিপে যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


৩৫ বাকৃবি শিক্ষার্থী বিদেশে ইন্টার্নশিপে যাচ্ছেন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি (ডিভিএম) অনুষদের ৬০তম ব্যাচের ইন্টার্নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়।

চলতি বছরে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ সেশনের ডিভিএম-৬০তম ব্যাচের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে বিশ্বের ৪টি দেশে ৩৫ শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াতে ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে ৪ জন এবং নেপালে ৩ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন।

অনুষ্ঠানে সেরা সিজিপিএ প্রাপ্ত ২০১৯-২০ সেশনের ডিভিএম-৫৯তম ব্যাচের ৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- নুরুন লায়লা শাওন, মোছা. সাবরিনা ইয়াসমিন নুপুর, মোছা. ফাহমিদা সুলতানা জোনাকি, আফসানা মিমি, মোছা. আখি আক্তার শিলা, নওরিন জান্নাত, মো. মোরসালিন এবং মোছা. সালমা খাতুন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রাণমন্ত্রী: খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


ত্রাণমন্ত্রী: খালগুলোকে আয়বর্ধক খাতে রূপান্তর করতে হবে

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেছেন, সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশন কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি অর্থে খনন করা খালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনগণের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আবশ্যক।

আজ শনিবার রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিকে শুধুমাত্র প্রচলিত সহায়তা ও ত্রাণনির্ভর না রেখে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার দিকে নিতে হবে। এর মাধ্যমে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কোনো এলাকায় খাল খনন করা হলে সেটিকে শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। খালের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। খাল খননের পর এর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে আয়বর্ধক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে। একই ধরনের প্রচলিত কর্মসূচি সব জায়গায় বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় পরিবেশ, মানুষের প্রয়োজন এবং বাজারব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের ধরন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

মাশরুম চাষের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে মাশরুম চাষের একটি উদ্যোগ পরিদর্শন করে এর সম্ভাবনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। একজন নারী উদ্যোক্তা তার খামারে মাশরুম চাষ করে সেটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। মাশরুম চাষে তুলনামূলকভাবে বেশি পুঁজির প্রয়োজন হয় না এবং এর বাজারও রয়েছে। ফলে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া গেলে অনেক মানুষ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের আয় বাড়াতে পারেন।

তিনি জানান, শীত মৌসুমেও মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রচলিত সহায়তার পাশাপাশি আয়বর্ধক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে তারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, এ ধরনের নতুন ধারণার কার্যকারিতা যাচাই করতে প্রাথমিকভাবে চলতি বছর ২৫টি উপজেলায় একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পর এর ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে। কার্যক্রম সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও তা সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না; কর্মসূচিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, মানুষের আয় কতটা বাড়ছে এবং তারা কতটা স্বাবলম্বী হতে পারছেন, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা গেলে সেটি দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ ও দরিদ্র এলাকায় প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

দুর্যোগপ্রবণ মানুষের জন্য আবাসন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে তাদের নিজস্ব সমাজ ও পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো আলাদা অঞ্চল বা আশ্রমধর্মী স্থানে পুনর্বাসন করার পরিবর্তে নিজ এলাকায় থেকেই যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নিজের সমাজের মধ্যে বসবাস করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন মানুষ নিজেকে সার্থক মনে করবেন এবং সমাজের সঙ্গে তার বন্ধনও অটুট থাকবে।

তিনি বলেন, পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শুধু একটি ঘর বা আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এমনভাবে কর্মসূচি সাজাতে হবে, যাতে উপকারভোগী পরিবারটি নিজের এলাকায় থেকে আয় করতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

মন্ত্রী প্রচলিত খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির পরিমাণ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, একজন দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করা দরকার। বর্তমান বাজারে ১০ কেজি চালের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় একজন শ্রমজীবী মানুষ একদিন কাজ করেও প্রায় একই পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। ফলে শুধু অল্প পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে কীভাবে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, সেটি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, এ কারণে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তায় চালের পরিমাণ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে কর্মসূচিটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে অর্থের অপচয় ও অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এতে সহায়তার অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।

তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ বিতরণে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও বেশি কাজে লাগানো প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতের সুযোগও কমবে।

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রসঙ্গেও মন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সমাজ ও মানুষের চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের রুচি, জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনেও পরিবর্তন এসেছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সরকারি কর্মসূচির নাম ও কাঠামোও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, কাবিখা ও কাবিটাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে তাকে দিতে হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কমিটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান এবং মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের একজন প্রতিনিধি এবং পিআইওদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রাখা হবে। কমিটি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে কর্মসূচির নাম ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা দরকার।

সম্মেলনে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের জীবিকা পুনর্গঠনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো কর্মসূচি গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। এক এলাকার জন্য কার্যকর কোনো কর্মসূচি অন্য এলাকায় একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব বাড়ে। বিশেষ করে খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি ও অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু কত টাকা ব্যয় হলো বা কতটি অবকাঠামো নির্মাণ করা হলো—তা দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবন কতটা পরিবর্তিত হলো, আয় কতটা বাড়ল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো কি না এবং স্থানীয় অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হলো, এসব বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ হতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপ্রবণ মানুষের জীবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও স্বাবলম্বী করতে হলে ত্রাণনির্ভরতার পরিবর্তে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি সহায়তা এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে একজন মানুষ একবার সহায়তা পাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে নিজের আয় দিয়ে পরিবার পরিচালনা করতে পারেন।

সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সচিব সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে মন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংলাপ বললেই কটাক্ষের শিকার রাশমিকা, প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


সংলাপ বললেই কটাক্ষের শিকার রাশমিকা, প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেত্রী

দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমা ‘কিরিক পার্টি’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। ২০২২ সালে ‘গুডবাই’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্রবেশ করেন। এরপর ‘অ্যানিম্যাল’, ‘ছাওয়া’, ‘সিকান্দার’ সিনেমার মতো বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সম্প্রতি ‘ককটেল ২’ সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।

এখন সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন রাশমিকা মান্দানা। নেটিজেনদের একাংশের সমালোচনায় তিনি বিদ্ধ হয়েছেন। তবে এসব কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে চান তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উচ্চারণ ও ভাষা নিয়ে সমালোচনার জবাবে এমন মন্তব্য করেন রাশমিকা মান্দানা। তিনি জানান, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তায় নজর না দিয়ে ভালো গল্প বলার এবং নিজের সেরা কাজটি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

হিন্দিতে সংলাপ বললেই কটাক্ষ তার দিকে ধেয়ে আসে। রাশমিকা মান্দানা বলেন, "অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তায় আমি মন দিই না। অভিনেত্রী হিসাবে আমার কাজ হলো শুটিং করা এবং তারপর ঘরে ফেরা।"

তিনি আরও বলেন, "প্রতিটি সিনেমার ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি— আমরা নিজেদের সেরাটা দিই এবং এমন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করি, যা দর্শকদের ভালো লাগবে।"

সমালোচনার জবাব দেওয়ার বদলে নিজের অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দিতে চান বলে জানান রাশমিকা মান্দানা। তিনি বলেন, "আমি কারও পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাই না। একজন অভিনেত্রী হিসাবে নিজের সেরা কাজটার দিকেই শুধু মন দিই।"

রাশমিকা মান্দানা বিভিন্ন ভাষায় অভিনয় করার বিষয়েও কথা বলেছেন। বিশেষ করে হিন্দি ভাষায় ‘টান’ থাকায় তাকে ট্রলড হতে হয়। নিজের ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে তিনি বলেন, যে কোনো একটি ভাষাতে তিনি বিরাট দক্ষ— এমনটি নয়। কোনো ভাষাতেই তিনি খুব ভালো নন। বরং তিনি সব ভাষাতেই যোগাযোগ তৈরি করার মতো বলতে পারেন। যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই ভাষায় মানুষের সঙ্গে ঠিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলেই তার কাজ সার্থক বলে মনে করেন এ অভিনেত্রী।

উল্লেখ্য, রাশমিকা মান্দানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কর্নাটকের কুর্গে। সেখানকার স্থানীয় ভাষার নিজস্ব কোনো বড় চলচ্চিত্রজগত নেই। তবে ভাষা কখনো তার অভিনয়জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাশমিকা মান্দানা তার ভক্ত-অনুরাগীদের নিজের পরিবার বলে মনে করেন। তারাই প্রথমে তাকে তেলুগু সিনেমায় কাজ করার উৎসাহ দেন। পরে হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয়ের পরামর্শ দেন।

অভিনেত্রী বলেন, "ভাষা কখনো আমার ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা বলে মনে করি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত দল দেশ ছাড়ার আগে জার্সির মাপ ঠিক করেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


ভারত দল দেশ ছাড়ার আগে জার্সির মাপ ঠিক করেনি

আয়োজন শুরু হওয়ার আগেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে! এশিয়ান গেমসে একের পর এক অব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যায় পড়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। রবিবার ভোরে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল ক্রিকেটারদের, কিন্তু যাত্রার ঠিক পূর্বমুহূর্তে সঠিক মাপের কিট হাতে পাননি দলের বেশ কয়েকজন সদস্য।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের কিটের সাইজ নিয়ে এই বিড়ম্বনার কারণে তড়িঘড়ি ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (আইওএ) কিট প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিসিসিআই।

জাপান সফরে ঈশান কিষাণদের দুটি আলাদা পোশাক দেখা যাবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক জাপানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিজেদের পরিচিত জাতীয় জার্সিতে মাঠে নামবেন তারা। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এশিয়ান গেমসে শ্রেয়স আইয়ারদের মূল মিশন, যেখানে গেমসের অফিসিয়াল কিট পরিধান করেই ভারতীয় দলকে মাঠে নামতে হবে।

সমস্যার কথা স্বীকার করে আইওএ-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ক্রিকেটারদের কিটের মাপে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে সিংহভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো রয়েছে, সেগুলোও খুব দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়দের দুটি ভিন্ন সেট জার্সি লাগায় এমনটা ঘটেছে।’

অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ কিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাগতিক নাগোয়ায় অ্যাথলেটদের থাকার সুব্যবস্থা করতে না পারায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে আগেই ক্ষোভ জমেছিল। আইওএ-র পক্ষ থেকে অ্যাথলেটদের জন্য যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা ক্রিকেটারদের জন্য মানানসই নয় বলে মনে করছে ভারতীয় বোর্ড। এই কারণেই মহিলা দল আইওএ-র নির্ধারিত হোটেলেই উঠলেও, পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা করে পাঁচতারকা হোটেলের বন্দোবস্ত করেছে বিসিসিআই নিজেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%