ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিজয়া দশমীর দিনে স্বর্ণমন্দিরে আবেগপ্রবণ সারা আলি খান


বিজয়া দশমীর দিনে স্বর্ণমন্দিরে আবেগপ্রবণ সারা আলি খান

বিজয়া দশমীর দিন অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন দুই তারকা সারা আলি খান এবং আয়ুষ্মান খুরানা। ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাকে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়।

মন্দিরে প্রার্থনা করার সময় সারা আলি খান আবেগে কাঁদতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণমন্দিরের দরবার সাহিবে প্রার্থনা করার সময় হঠাৎ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সারা আলি খান।

হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার গাল বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, যা দেখে অনুরাগীরা নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: শিউলি ফুলের খোঁজে বের হলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি

এর আগে, ইনস্টাগ্রামে আয়ুষ্মানের সঙ্গে একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে দেশবাসীকে দশেরার শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন সারা আলি খান।

আগামী ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘‘উড়তা তীর’’ সিনেমাটি। ‘পতি পত্নী ওর ওহ দো’-এর পর এটি আয়ুষ্মান এবং সারার দ্বিতীয় প্রজেক্ট।

তবে বড় পর্দায় আসার আগেই সিনেমাটির জন্য একটি ধাক্কা এসেছে। নেপালের সেন্সর বোর্ড এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দেশের সিনেমা আইন লঙ্ঘন করার কারণে নেপালে এই সিনেমাটির পাবলিক স্ক্রিনিং বা প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: ডোয়াইন জনসন ৭০ বছরের বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারফিউমের ব্যবসায় সামান্থার সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ পি.এম


পারফিউমের ব্যবসায় সামান্থার সাফল্য

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু এবার অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সাফল্যেও আলোচনায় এসেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুগন্ধির ব্র্যান্ড ‘সিক্রেট অ্যালকেমিস্ট’ অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের আয় করে নজর কেড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত আট মাসে ব্র্যান্ডটির আয় বেড়েছে আট গুণ। বর্তমানে এর আয় ১২০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে।

অভিনয়ের বাইরে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করছেন সামান্থা। তিনি অঙ্কিতা থাডানি ও আকাশ ভালির সঙ্গে যৌথভাবে ‘সিক্রেট অ্যালকেমিস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। সুগন্ধির এই ব্যবসায় এমন সাফল্য তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে, সামান্থার অভিনীত ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ সিনেমাটিও ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। ছবিটি বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র ও ব্যবসা, দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের কারণে অভিনেত্রীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিজের দুই উদ্যোগের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামান্থা জানান, ভিন্ন ধরনের দুটি উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মাইলফলকে পৌঁছাতে দেখে তিনি আনন্দিত। তাঁর কাছে ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ বিশেষ আবেগের একটি সিনেমা। অন্যদিকে, ‘সিক্রেট অ্যালকেমিস্ট’ শূন্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা। এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে থাকা দলের সদস্যদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

সুগন্ধির ব্যবসার বাইরেও একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সামান্থা। ২০২০ সালে উদ্যোক্তা সুশ্রুতি কৃষ্ণার সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সাকি’ নামের একটি ফ্যাশন ও জীবনধারাভিত্তিক ব্র্যান্ড। এ ছাড়া ‘মাইল কালেক্টিভ’ নামের সক্রিয় পোশাক ও জীবনধারাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং ‘গাটাকা’ নামের পুষ্টিবিষয়ক সম্পূরক পণ্যের ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

অভিনয়ের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন সামান্থা। সাম্প্রতিক সাফল্য দেখাচ্ছে, পর্দার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি পরিকল্পিত ব্যবসায়িক উদ্যোগও একজন তারকার জন্য বড় সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


২০২৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ

২০২৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ এবং নেপাল যৌথভাবে আয়োজন করবে। এই টুর্নামেন্টটি ১৬টি দলের অংশগ্রহণে আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বুধবার (২১ অক্টোবর) এই টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কাঠমান্ডুর চারটি ভেন্যুতে (কাঠমান্ডুতে দুটি স্টেডিয়াম) ১৬টি দল মোট ৪১টি ম্যাচে প্রতিযোগিতা করবে।

ভারত গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে শেফালি ভার্মার নেতৃত্বে এবং ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় নিকি প্রসাদের অধীনে শিরোপা জেতে ভারত। এবারের টুর্নামেন্টে ভারত ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে। এই গ্রুপের অন্যান্য দলগুলো হলো আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সহ-আয়োজক নেপাল। ২২ জানুয়ারি কাঠমান্ডুর টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড ও নেপাল মুখোমুখি হবে।

‘বি’ গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং সামোয়া। ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত।

উদ্বোধনী দিনে ২১ জানুয়ারি চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক দেশ বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতে বিকেলে অস্ট্রেলিয়া নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে। কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে, এরপর ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

গ্রুপ পর্ব ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল সুপার সিক্স পর্বে উঠবে। সুপার সিক্সে নয়টি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করবে। সেখান থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে প্রবেশ করবে।

৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। একই মাঠে ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পরের দিন রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা বলেছেন, "এই টুর্নামেন্ট তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার একটি মঞ্চ তৈরি করবে।"

তিনি আরও বলেন, "আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ প্রতিভাদের তুলে ধরার মঞ্চ। তরুণ খেলোয়াড়রা তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে শীর্ষ পর্যায়ে ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুযোগ। ১৬টি দলের খেলোয়াড়রা বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং তারা অন্যান্য ক্রিকেটারদের কাছে পরিচিত ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে উঠবে।"

গুপ্তা বলেন, "বাংলাদেশ এবং নেপালকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বিকাশে আইসিসির আস্থা ও বিনিয়োগের প্রতিফলন। দুই দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে হওয়ায়, বিশ্বের অন্যতম বড় যুব ক্রীড়া আসর আয়োজনের জন্য দেশ দুটি আদর্শ।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদক জয়ের লক্ষ্যে ইরাকে যাচ্ছেন বাংলাদেশের আর্চাররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


পদক জয়ের লক্ষ্যে ইরাকে যাচ্ছেন বাংলাদেশের আর্চাররা

আগামী ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইরাকের সোলেমানিয়াতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ, স্টেজ-২ (ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং টুর্নামেন্ট)। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১২ সদস্যের আরচ্যারী দল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ইরাকের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছে। দলে রয়েছেন ৬ জন পুরষ ও ৬ জন আরচ্যার।

আসন্ন এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা একক, কম্পাউন্ড পুরুষ ও মহিলা একক, রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা দলগত এবং রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে।

দলের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ১৭ থেকে ১৯টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগবে। খেলোয়াড়দের আরও বেশি উৎসাহিত করতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্বর্ণপদকের জন্য ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এবারের দল থেকে ভালো একটা ফলাফল আসবে।"

বাংলাদেশ আরচ্যারী দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক জানান, "এশিয়ান গেমসের ঠিক পরপরই খেলোয়াড়দের ফর্ম ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং টিম ও মিক্সড টিম ইভেন্টে ইরাকে ভালো করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য পদক অর্জন।"

সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইরাকে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন দেশসেরা আরচ্যাররা। আরচ্যার আব্দুর রহমান আলিফ বলেন, "এশিয়ান গেমসের ফল আমাদের মনে আছে, যে শোক ও জেদ থেকে আমরা এবার ভালো কিছু করতে যাচ্ছি। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি হলেও ট্রায়ালে তারা বেশ ভালো স্কোর করেছেন এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন আলিফ।"

কম্পাউন্ড আরচ্যার হিমু বাছার জানান, "এশিয়ান গেমসের পর অনুশীলনের সময় কিছুটা কম মিললেও ইনডিভিজুয়াল, মিক্সড টিম ও টিম এই তিনটি বিভাগেই তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করার মতো পারফরম্যান্স তাদের আছে এবং তারা নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।"

আরেক আরচ্যার বন্যা আক্তার বলেন, "এশিয়ান গেমসের পর থেকেই তাদের ধারাবাহিক অনুশীলন চলছে। তারা মূলত স্বর্ণপদকের জন্যই লড়াই করবেন, যাতে পুরো দল নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করা এবং একটি সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করে ফিরে আসা যায়।"

এই টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তাদের সেরাটা দিয়ে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করবেন এমনটাই এখন প্রত্যাশা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী

২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ সুনামির ফলে নিখোঁজ হয়ে যান স্ত্রী ইউকো। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও স্ত্রীকে হারানোর দুঃখ ভুলতে পারেননি ইয়াসুও তাকামাতসু। স্ত্রীর কোনো খোঁজ না পেয়ে, তিনি এখনো মাসে দুইবার সাগরে ডুব দেন। তাঁর বিশ্বাস, সমুদ্রের গভীরে হয়তো স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে।

প্রতি মাসে দুইবার, ইয়াসুও একটি ছোট মাছ ধরার নৌকায় চড়ে উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সাগরে যান। জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিয়াগি প্রিফেকচারের ওনাগাওয়া বন্দর থেকে শুরু হয় তাঁর এই যাত্রা। মুখে ডাইভিং মাস্ক, সঙ্গে এয়ার ট্যাংক ও ওজনের বেল্ট নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি।

১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই নিয়মে ডুব দিয়ে চলেছেন ইয়াসুও। প্রতিবারই ফিরে যান সেই সমুদ্রে, যে সমুদ্র তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে।

যে সুনামি কেড়ে নিয়েছিল স্ত্রীকে

২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী সুনামি আঘাত হানে। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। বিশাল ঢেউ উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে।

সেদিন সকালে স্ত্রী ইউকোকে তাঁর কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসুও। ইউকো একটি ব্যাংকে কাজ করতেন। গাড়িতে যাওয়ার সময় দুজনের মধ্যে রাতের খাবারে কী খাওয়া হবে, তা নিয়েও কথা হয়েছিল। প্রতিদিনের মতোই ছিল তাদের সেই সংক্ষিপ্ত যাত্রা। কিন্তু কেউ জানতেন না, সেটিই হতে যাচ্ছে তাদের একসঙ্গে কাটানো শেষ মুহূর্তগুলোর একটি।

সুনামির সতর্কসংকেত বেজে উঠলে ইউকো ও তাঁর ১২ সহকর্মী ব্যাংক ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে স্বামীকে একটি বার্তা পাঠান তিনি।

বার্তায় লেখা ছিল, ‘তুমি কি নিরাপদ আছো? আমি বাড়ি যেতে চাই।’

স্ত্রীর বার্তা পেয়ে ইয়াসুও ভেবেছিলেন, ইউকো নিশ্চয়ই নিরাপদে আছেন। কিন্তু পরদিন বেঁচে যাওয়া মানুষদের আশ্রয় দেওয়া একটি পৌর হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে খুঁজে পাননি।

পরে তাঁকে জানানো হয়, সুনামির পানিতে ভেসে গেছেন ইউকো।

সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে ইয়াসুও বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল যে সুনামি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর আমি আর উঠে দাঁড়াতে পারছিলাম না। আমার সমস্ত শক্তি যেন ভেসে গিয়েছিল।’

সুনামির পানি নেমে যাওয়ার পরের দিনগুলো ও সপ্তাহগুলোতে জাপানের উপকূল থেকে হাজার হাজার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ইউকোর মতো অনেক মানুষ নিখোঁজই থেকে যান। তাদের অনেকেরই আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দুই বছর অপেক্ষার পর নিজেই নামলেন সমুদ্রে।

স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে ইয়াসুও দেখেছেন, জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ডুবুরিরা সাগরে নিখোঁজদের দেহাবশেষ ও তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ইউকোর কোনো খোঁজ মেলেনি।

একসময় নিজেই ডুবুরি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইয়াসুও। শিখতে শুরু করেন পানির নিচে ডুব দেওয়ার কৌশল। তাঁর মনে হয়েছিল, সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলে হয়তো একদিন স্ত্রীর দেখা পাবেন।

ইয়াসুও বলেন, ‘আমি ডুব দিতে শিখলাম। আমার মনে হতো, যত দিন আমি ডুব দেওয়া চালিয়ে যাব, একদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হবে।’

এরপর থেকে থেমে থাকেননি তিনি। এখন পর্যন্ত ৭৬০টিরও বেশি ডুব সম্পন্ন করেছেন। তাঁর সর্বশেষ ডুবটি ছিল ৭৬৩তম।

কবরের বদলে সমুদ্রেই স্ত্রীকে খুঁজে ফেরেন।

জাপানে মৃত প্রিয়জনদের স্মরণ করার নানা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে মৃতদের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা, নৈবেদ্য নিবেদন এবং কবর বা বেদির পাশে শ্রদ্ধা জানানোর মতো আচার প্রচলিত।

কিন্তু ইউকোর দেহাবশেষ কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে অন্যদের মতো কোনো কবরে গিয়ে স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগও পাননি ইয়াসুও।

স্ত্রীকে খুঁজতে শুরু করা তাঁর সমুদ্রযাত্রা ধীরে ধীরে অন্য এক অর্থ ধারণ করেছে। এখন এটি শুধু অনুসন্ধান নয়, বরং প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সংযোগ অনুভব করার ব্যক্তিগত এক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

ইয়াসুও বলেন, ‘বারবার ডুব দেওয়ার পর আমার মনে হতে লাগল যে সে হয়তো আশপাশেই আছে। এটা কবরে গিয়ে স্মরণ করার চেয়ে একটু আলাদা, কারণ সে কবরে নেই। বরং মনে হয়, যেন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।’

তার কাছে সমুদ্রের প্রতিটি ডুব তাই স্ত্রীকে স্মরণ করার একটি বিশেষ মুহূর্ত।

ধ্বংসস্তূপ দেখলে আজও কান্না পান তার

বছরের পর বছর সমুদ্রের গভীরে ডুব দিতে গিয়ে ইয়াসুও দেখেছেন সুনামির রেখে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। পানির নিচে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তার স্ত্রীকে।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি ধ্বংসস্তূপগুলোর দিকে তাকাই, তখন ভাবি, এইসবের মধ্য দিয়ে তার পক্ষে উপরে উঠে আসা সম্ভব ছিল না। আর যখন আমি এটা ভাবি, তখন আমার সত্যিই কান্না চলে আসে।’

স্ত্রীকে হারানোর দুঃখ এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। এত বছর পরও সেই ক্ষত পুরোপুরি মুছে যায়নি।

তবে ইয়াসুও সমুদ্রকে ঘৃণা করেন না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যে সমুদ্র তার স্ত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছে, সেই সমুদ্রই আবার তার জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী।

সমুদ্র সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে ঠিক ঘৃণা করি না বা সেরকম কিছু না। তখন সুনামি হয়েছিল, আর সমুদ্র উত্তাল ছিল। কিন্তু অন্যদিকে, অনেক দারুণ জিনিস দেখা যায়। আর দৃশ্যও খুব সুন্দর।’

পানির নিচে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও গড়ে উঠেছে নতুন জীবন।

জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের তোহোকু অঞ্চলে ভূমিকম্প ও সুনামি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে প্রকৃতির শক্তির সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির বিশাল শক্তির সামনে মানুষ কতটা অসহায়। একই সঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার কথাও মনে করিয়ে দেয় এসব স্মৃতি।

সমুদ্রের তলদেশে ডুব দিতে গিয়ে ইয়াসুও এখন ধ্বংসের পাশাপাশি নতুন জীবনের চিহ্নও দেখতে পান।

সেখানে রয়েছে আধভাঙা গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ। সময়ের সঙ্গে এসবের কিছু কৃত্রিম প্রবালপ্রাচীরের মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। সেখানে মাছ আসে, আশ্রয় নেয় এবং ডিম পাড়ে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে এখন ভিন্নভাবে দেখেন ইয়াসুও। তার কাছে সমুদ্রের তলদেশ শুধু অতীতের ধ্বংসের স্মারক নয়, বরং জীবন ও পরিবর্তনের ধারাবাহিকতারও প্রতীক।

প্রায় ৫০ মিটার গভীরে ডুব দেওয়ার সময় তিনি এমন এক জলজ ভূদৃশ্যের ওপর দিয়ে সাঁতার কাটেন, যেখানে ধ্বংসের চিহ্নের পাশাপাশি নতুন জীবনের উপস্থিতিও রয়েছে।

পানির নিচের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পানির নিচে নানা ধরনের গঠন রয়েছে। কিছু কিছু পাহাড়ের মতো, আর আপনি সেগুলোর ওপর দিয়ে ভেসে থেকে ওপর থেকে নিচের দিকে তাকাতে পারেন। তাই এটা সত্যিই কিছুটা ওড়ার মতো অনুভূতি দেয়।’

স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে কী বলতেন ইউকো?

ইয়াসুওর জীবন সমুদ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। ইউকোর সঙ্গে পরিচয়ের অনেক আগে থেকেই তিনি এই উপকূলের পাশে বড় হয়েছেন। সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরা শিখেছেন ছোটবেলায়। তার স্মৃতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে এই জলরাশি।

এখনো সমুদ্রে যাওয়া-আসার পথে তাকে হাসিখুশি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেখা যায়। স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে কখনো কখনো ফুটে ওঠে রসিকতার সুর।

যদি কোনো দিন ইউকোর সঙ্গে আবার দেখা হয়, তাহলে কী হতে পারে—এমন ভাবনা নিয়ে ইয়াসুও বলেন, ‘আমাদের দেখা হলে, আমার মনে হয় অবাক হয়ে সে-ই হয়তো আমাকে প্রথমে বলত, “তোমার বয়স হয়ে গেছে।”’

কথাটির মধ্যে যেমন রয়েছে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের বেদনা, তেমনি রয়েছে দুজনের সম্পর্কের উষ্ণ স্মৃতি।

তবে সমুদ্রের গভীরে ডুব দেওয়ার সময়টি ইয়াসুওর জন্য আত্মোপলব্ধিরও সময়। সেখানে তিনি একদিকে স্ত্রীর স্মৃতি খুঁজে ফেরেন, অন্যদিকে প্রকৃতির পরিবর্তন ও জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা নিয়ে ভাবেন।

১৫ বছর পরও থামেনি অপেক্ষা

স্ত্রী ইউকোকে হারানোর ১৫ বছর পরও ইয়াসুওর শোক তার জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে। সমুদ্রের সঙ্গে তার সম্পর্কও রয়ে গেছে আগের মতোই গভীর।

এখন পর্যন্ত তার ৭৬৩টি ডুব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই তিনি ফিরে যান সেই জায়গায়, যেখানে স্ত্রীর স্মৃতি আর সমুদ্রের বিশালতা একাকার হয়ে আছে।

হয়তো কোনো দিন ইউকোর সঙ্গে আর দেখা হবে না। তবু ইয়াসুওর কাছে সমুদ্রে ডুব দেওয়া মানে কেবল নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে ফেরা নয়; বরং তাকে মনে রাখা, তার সঙ্গে সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং হারানোর শোক নিয়েই সামনে এগিয়ে চলা।

তাই আবারো সাগরে ফিরবেন ইয়াসুও। প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্য অনুভব করার আশায়, সেই একই গভীর নীল পানির নিচে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%