মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ এম
একসময় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার জন্য যে পরিমাণ শ্রমিক প্রয়োজন হতো, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সেই কাজটি কমসংখ্যক কর্মী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে উঠছে। যদিও উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে শ্রমিকদের জন্য এটি কর্মসংস্থানের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। যদি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি না করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়তে পারেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অটোমেশনের ফলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ২০ হাজার চাকরি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। এই ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের ঝুঁকি আরও বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে পোশাক খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
শুধু পোশাক খাতই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এশিয়ার শ্রমবাজারেও পরিবর্তন আনছে। এআইয়ের প্রভাবে কিছু পেশায় নিয়োগের চাহিদা কমছে, আবার প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ফলে শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় ‘এআইয়ের যুগে এশিয়ার শ্রমবাজার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের অর্থনীতিবিদ দিব্যা কীর্তি উপস্থাপনাটি করেন। গবেষণায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব এবং কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
আইএমএফের গবেষণা উপস্থাপনায় দেখা গেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় এআই-সংশ্লিষ্ট দক্ষতার চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশার প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, কিছু এআই-প্রভাবিত পেশায় নিয়োগের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে এর অর্থ সামগ্রিক কর্মসংস্থান ১০ শতাংশ কমে যাওয়া নয়। বরং নিয়োগদাতাদের চাহিদায় পরিবর্তন এবং কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত কাজের ধরনও বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এআই পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ফলে যাঁরা সময়মতো নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, তাঁদের কর্মবাজারে টিকে থাকার সুযোগ তুলনামূলক বেশি হবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করছেন। কিন্তু উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তাঁদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সিপিডির গবেষণাটি করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তৌফিকুল ইসলাম খান, মামতাজুল জান্নাত ও মালিহা রহমান। গবেষণায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দক্ষতার ঘাটতি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের ঝুঁকি বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, তাঁদের অনেকেই উৎপাদনের এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তি পরিচালনা, উৎপাদন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মতো কাজে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং পদোন্নতির সুযোগ সবার জন্য সমান নয়।
ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও নতুন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে নারী শ্রমিকদের একটি অংশ পিছিয়ে পড়তে পারেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন ও পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইএমএফের গবেষণা উপস্থাপনায় এআই ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান, বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে এআই যুক্ত করার সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্যও বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকশিল্পে অটোমেশনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে যন্ত্র পরিচালনা, উৎপাদনের মান যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন পরিকল্পনার মতো কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। এ জন্য শ্রমিকদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি যাঁরা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে চাকরি হারাবেন, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে আগামী এক দশকে প্রায় ১৫ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণকে কর্মবাজারে যুক্ত করার এই সময়ে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। একদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং নতুন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে তরুণদের একটি অংশ কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।
এ অবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার ঠেকিয়ে রাখার পরিবর্তে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ না থাকলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে না।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে তাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ নয়; বরং শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং কর্মবাজারে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দেবী দুর্গার প্রতিমা পাকা চিনিগুঁড়া ধানের শীষ দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ধানের সোনালি শীষের ব্যবহার প্রচলিত অলংকারের পরিবর্তে করা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা শিল্পী নিমাই পাল এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরিতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। বাংলার কৃষি ও লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিমার এই সাজ তৈরি করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের শীষে সজ্জিত প্রতিমা ঘিরে একটি ভিন্নধর্মী আবহ তৈরি হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধানের সোনালি শীষে দেবীর সাজে ফুটে উঠেছে স্বতন্ত্র নান্দনিকতা। প্রতিমার গড়ন ও শীষের বিন্যাসে শিল্পীর নিপুণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রকৃতির উপাদানকে শিল্পের ভাষায় রূপ দেওয়ার এই প্রয়াসে প্রচলিত প্রতিমাসজ্জার বাইরে নতুন এক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।
তবে, এমন প্রতিমা তৈরি করা সহজ ছিল না। দেবীর সাজের উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি শীষ যথাযথভাবে বসিয়ে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয়েছে ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের। শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির পুরো কাজ শেষ করতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন।
মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রশান্ত গাইন বলেন, "ধানের শীষ দিয়ে প্রতিমা সাজানোর কাজটি ছিল বেশ শ্রমসাধ্য। শীষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিমায় বসানো সব ক্ষেত্রেই বিশেষ যত্ন নিতে হয়েছে।"
[[
মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, "প্রতিমা সাজানোর উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন ছিল। নানা চেষ্টা করে সেগুলো জোগাড় করতে হয়েছে। এমনভাবে শীষ বসানো হয়েছে, যাতে দেবীর রূপের পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও ফুটে ওঠে।" বাগমারা তেঁতুলতলা মন্দির প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি তেঁতুলগাছকে ঘিরে পরিচিত। সেখানে গত ৫৫ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে।
নিরালার সাবেক পাইকারি কাঁচাবাজারের পাশের সফেদাতলা দিয়ে যেমন মন্দিরে যাওয়া যায়, তেমনি নিরালা আবাসিক এলাকার প্রধান সড়ক হয়ে পাঁচ নম্বর সড়কের পাশ দিয়েও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পূজার আয়োজনে এবার ধানের শীষে সাজানো প্রতিমা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাঠের ফসলকে শিল্পের উপকরণ করে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে মন্দিরের আয়োজকরা প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। সোনালি ধানে সজ্জিত দুর্গাপ্রতিমা তাই শুধু উৎসবের ব্যতিক্রমী আকর্ষণ নয়, বাংলার কৃষিজীবন ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসারও এক নান্দনিক প্রকাশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম স্টাইলিশ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস আজ তার জন্মদিন উদযাপন করছেন। ১৯৯৪ সালের আজকের এই দিনে দিনাজপুরে তার জন্ম হয়েছিল এবং আজ তিনি ৩১ বছরে পদার্পণ করেছেন।
নান্দনিক ব্যাটিং শৈলী এবং দুর্দান্ত উইকেটকিপিংয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ডানহাতি এই ওপেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন ২০১৫ সালে।
অভিষেকের পর থেকে তার দৃষ্টিনন্দন সব শট ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে ধারাবাহিকতার কিছুটা অভাব থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তিনি দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।
তিনি তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছেন। বর্তমানে লিটন দাস বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে দল সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।
এছাড়াও, টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটেও তিনি দলের সিনিয়র সদস্য এবং সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। উইকেটের পেছনে তার বিশ্বস্ততা এবং ব্যাটিংয়ে তার আগ্রাসী অথচ ক্লাসিকাল ধরন তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে একটি বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।
ক্রিকেট মাঠে তার অর্জনের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এছাড়াও, তার ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাদরাক সিবিয়া যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর পদত্যাগ করেছেন। সোমবার, তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে চলমান বিভাগীয় শুনানিতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুলিশের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ৫৯ বছর বয়সী সিবিয়ার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগের কারণে গত বছর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন সম্পর্কের জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা, ১৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ এবং মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। তবে সিবিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিবিয়া ১৮ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন, কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে, তাদের মধ্যে সম্পর্কটি দুজনের সম্মতিতে হয়েছিল। তিন সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশের মুখপাত্র অ্যাথলেন্ডা মাথি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, সিবিয়ার পদত্যাগকে অসম্মানজনকভাবে চাকরিচ্যুতির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ পদত্যাগের সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের দুর্নীতি ও অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ তদন্তে একটি জনশুনানি চলছে। ‘মাডলাঙ্গা কমিশন’ নামে পরিচিত এই কমিশনের শুনানিতে সিবিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধচক্রের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, একটি পুলিশি চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কথিত এক অপরাধচক্রের প্রধানের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ২০টি ইমপালা হরিণ উপহার নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলোও সিবিয়া অস্বীকার করেছেন।
গত এক বছর ধরে মাডলাঙ্গা কমিশনের তদন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তা ও অপরাধচক্রের প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এই কমিশন গঠন করেন। এর আগে কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পুলিশপ্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী সেনজো মচুনুর বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
মচুনু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘরের মাঠে আনহেল ডি মারিয়ার অসাধারণ জোড়া গোলে গোলবন্যা সৃষ্টি করেছে রোজারিও সেন্ট্রাল। আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনালের ‘বি’ অঞ্চলের ম্যাচে তারা ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদিয়াকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই দাপুটে জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করার পাশাপাশি শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে দলটি।
রবিবার রাতে গিগান্তে দে আরোইয়িতো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই সফরকারীদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে স্বাগতিক রোজারিও। প্রথমার্ধে নিখুঁত পেনাল্টি শটে বিশ্বকাপজয়ী তারকা ডি মারিয়া দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদিয়া বড় ধাক্কা খায়। রোসারিওর গ্যাস্টন আভিয়াকে ফাউল করার জন্য সফরকারী ডিফেন্ডার অ্যালেক্স আর্সে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রিভাদিয়ার ওপর আক্রমণের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দেয় রোজারিও। ৫৭তম মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রিভাদিয়া। একের পর এক লক্ষ্যভেদ করে স্কোরলাইন ৫-০ করেন জামিন্টন কামপাজ, এনজো কোপেত্তি ও মার্কো রুবেন।
চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচ খেলে ৬ জয়, ৪ ড্র ও ২ হারে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে রোজারিও সেন্ট্রাল। আগামী মৌসুমে কোপা লিবার্তাদোরেসের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোনো দলটির জন্য এই জয় একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মনুমেন্টাল হোসে ফিয়েরো স্টেডিয়ামে আতলেতিকো তুকুমানের মুখোমুখি হবে রোজারিও সেন্ট্রাল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তিগ্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে রিভাদিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ