প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাদরাক সিবিয়া যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর পদত্যাগ করেছেন। সোমবার, তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে চলমান বিভাগীয় শুনানিতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুলিশের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, ৫৯ বছর বয়সী সিবিয়ার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগের কারণে গত বছর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন সম্পর্কের জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা, ১৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ এবং মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। তবে সিবিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিবিয়া ১৮ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন, কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে, তাদের মধ্যে সম্পর্কটি দুজনের সম্মতিতে হয়েছিল। তিন সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশের মুখপাত্র অ্যাথলেন্ডা মাথি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, সিবিয়ার পদত্যাগকে অসম্মানজনকভাবে চাকরিচ্যুতির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ পদত্যাগের সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের দুর্নীতি ও অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ তদন্তে একটি জনশুনানি চলছে। ‘মাডলাঙ্গা কমিশন’ নামে পরিচিত এই কমিশনের শুনানিতে সিবিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধচক্রের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া, একটি পুলিশি চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কথিত এক অপরাধচক্রের প্রধানের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ২০টি ইমপালা হরিণ উপহার নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলোও সিবিয়া অস্বীকার করেছেন।
গত এক বছর ধরে মাডলাঙ্গা কমিশনের তদন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তা ও অপরাধচক্রের প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এই কমিশন গঠন করেন। এর আগে কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পুলিশপ্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী সেনজো মচুনুর বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
মচুনু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন