প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দেবী দুর্গার প্রতিমা পাকা চিনিগুঁড়া ধানের শীষ দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ধানের সোনালি শীষের ব্যবহার প্রচলিত অলংকারের পরিবর্তে করা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা শিল্পী নিমাই পাল এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরিতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। বাংলার কৃষি ও লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিমার এই সাজ তৈরি করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মন্দিরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের শীষে সজ্জিত প্রতিমা ঘিরে একটি ভিন্নধর্মী আবহ তৈরি হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধানের সোনালি শীষে দেবীর সাজে ফুটে উঠেছে স্বতন্ত্র নান্দনিকতা। প্রতিমার গড়ন ও শীষের বিন্যাসে শিল্পীর নিপুণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রকৃতির উপাদানকে শিল্পের ভাষায় রূপ দেওয়ার এই প্রয়াসে প্রচলিত প্রতিমাসজ্জার বাইরে নতুন এক ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।
তবে, এমন প্রতিমা তৈরি করা সহজ ছিল না। দেবীর সাজের উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি শীষ যথাযথভাবে বসিয়ে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয়েছে ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের। শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির পুরো কাজ শেষ করতে এক মাসেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন।
মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রশান্ত গাইন বলেন, "ধানের শীষ দিয়ে প্রতিমা সাজানোর কাজটি ছিল বেশ শ্রমসাধ্য। শীষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিমায় বসানো সব ক্ষেত্রেই বিশেষ যত্ন নিতে হয়েছে।"
[[
মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, "প্রতিমা সাজানোর উপযোগী চিনিগুঁড়া ধানের শীষ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন ছিল। নানা চেষ্টা করে সেগুলো জোগাড় করতে হয়েছে। এমনভাবে শীষ বসানো হয়েছে, যাতে দেবীর রূপের পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও ফুটে ওঠে।" বাগমারা তেঁতুলতলা মন্দির প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি তেঁতুলগাছকে ঘিরে পরিচিত। সেখানে গত ৫৫ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে।
নিরালার সাবেক পাইকারি কাঁচাবাজারের পাশের সফেদাতলা দিয়ে যেমন মন্দিরে যাওয়া যায়, তেমনি নিরালা আবাসিক এলাকার প্রধান সড়ক হয়ে পাঁচ নম্বর সড়কের পাশ দিয়েও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পূজার আয়োজনে এবার ধানের শীষে সাজানো প্রতিমা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাঠের ফসলকে শিল্পের উপকরণ করে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে মন্দিরের আয়োজকরা প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। সোনালি ধানে সজ্জিত দুর্গাপ্রতিমা তাই শুধু উৎসবের ব্যতিক্রমী আকর্ষণ নয়, বাংলার কৃষিজীবন ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসারও এক নান্দনিক প্রকাশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন