মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর-আড্ডা সড়কের তেঁতুলতলা বাজার অংশের রাস্তাটির দীর্ঘদিনের বেহাল দশা এখন চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেঁতুলতলা বাজার এলাকার প্রধান সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। অনেক স্থানে এমন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে যে, সেখান দিয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার পানি নামার কোনো জায়গা নেই। বৃষ্টি হলে বা রাস্তার ধারের দোকানপাট থেকে ব্যবহৃত পানি সরাসরি রাস্তায় এসে জমা হয়। ফলে রাস্তাটি পচে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ব্যবসাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, গ্রাহকরা দোকানে আসতে চাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী চালকরা অভিযোগ করেন, এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও, কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার এবং সড়কের দুই পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে শুধু যান চলাচলই সহজ হবে না, বরং ভবিষ্যতের বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেও সবাই রক্ষা পাবে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দফতরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (এসএসএসডিডব্লিউ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তের যেসব দুর্গম ও গভীর বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা রয়েছে, যেখানে সরাসরি জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর; সেসব জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপরাপর পক্ষের যেকোনো অপতৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা অনেক সহজ হবে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের অতি দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সঙ্গে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে ইতোমধ্যে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের আগে মন্ত্রীকে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়।
উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবির দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চালু করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সেবার মান উন্নত হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান স্টাফ বাস যাত্রার উদ্বোধন করেন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স মর্জিনা আক্তার, যিনি স্টাফ বাস সার্ভিস ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জানান যে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৩টি বিআরটিসি দ্বিতল বাস চালু করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ৭৫ জন যাত্রী নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই বাস দুটি রোডে চলাচল করবে।
প্রথম রুটটি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে চিটাগং এবং দ্বিতীয়টি ঢাকা মেডিক্যাল থেকে রামপুরা-বাড্ডা-কুড়িল রুটে চলবে। সকাল বেলা যাত্রীদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দুপুরে তাদের আবার ওই রোডে পৌঁছে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই সেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন যে, অতীতে অনেক চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণপরিবহণ এবং অটোরিকশা ব্যবহার করে হাসপাতালে আসতেন। এর ফলে তারা অনেক সময় সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতেন না, যা রোগীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা সেবাদাতাদের জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুটি রুটে স্টাফ বাস সার্ভিস চললেও যদি সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ে, তবে বাস এবং রুট দুটিই বাড়ানো হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এটি তাদের কাজের জন্য আরও সহায়ক হবে এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। কলেজের ব্যবহৃত দুটি বাস নির্ধারিত দুটি রুটে সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ফ্রি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম (আরিফ)সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কলেজ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আগরপুর–ভৈরব–আগরপুর এবং মরজাল–ভৈরব–মরজাল—এই দুটি রুটে বাস চলবে।
আগরপুর রুটে সকাল ৮টায় আগরপুর থেকে বাস ছেড়ে বাজরা, দাইড়াকান্দি, ছয়সূতি, আকবরনগর, কালিকা প্রসাদ ও শম্ভুপুর হয়ে সকাল ৯টায় আনোয়ারা হাসপাতালে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে মরজাল রুটে সকাল ৮টায় মরজাল থেকে বাস ছেড়ে বাজরা, দাইরাকান্দি, নারায়ণপুর, নীলকুঠি ও মাঝুমদাবাদ হয়ে সকাল ৯টায় আনোয়ারা হাসপাতালে পৌঁছাবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রুটের ছাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজ নিজ বাসস্টপে উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফ্রি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কলেজে আসা-যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও তার আশপাশের অঞ্চলে মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়ার বিমান হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কিয়েভে রুশ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি মাসগুলোতে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়া দেশটির ওপর বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এসব হামলা জোরদার করা হচ্ছে।
গত পাঁচ দিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন হামলা চলছে। এতে মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও বাড়িঘর ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত অনেক ড্রোনের নতুন সংস্করণে জেট ইঞ্জিন থাকায় সেগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রায় দিন-রাত ধরে চলা এসব হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমান হামলার সতর্কতা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা জানিয়েছেন, রাতভর হামলায় রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকা এবং রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার অনুরোধ করেছেন।
সিবিহা বলেন, "রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে কোনো লাভ নেই।" তিনি ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ারও আহ্বান জানান।
কারণ মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনে দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম।
কিয়েভে বিভিন্ন স্থানে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ইউক্রজালিজনিতসিয়ার প্রধান ওলেকসান্দর পার্তসভস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি রেল ডিপোসহ বিভিন্ন রেল স্থাপনায় ৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের বাইরে বোরিসপিল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় ৪ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, রাতের হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেটচালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছোট চালান পেয়েছে। এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ওদেসায় ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে থাকা একটি সীমান্ত ক্রসিংয়েও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ওদেসার বন্দর ও জাহাজে বারবার হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় ওই এলাকার হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়াতেও হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন
ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর হামলা বৃদ্ধি করেছে। মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটি তেল স্থাপনা ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া সামারা অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে এবং এটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলেও হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের চালানো একটি হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন কিছু সময়ের জন্য এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল।
এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের ঘটনা কয়েকবার ঘটেছে। এতে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর হামলায় কিয়েভ ও ওদেসা এবং আশপাশের এলাকায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
থমকে আছে শান্তি আলোচনা
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা এ বছর থমকে গেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সোমবার জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনে তাদের সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ