ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস চালু


ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস চালু

দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। কলেজের ব্যবহৃত দুটি বাস নির্ধারিত দুটি রুটে সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ফ্রি বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম (রফিক)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম (আরিফ)সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কলেজ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আগরপুর–ভৈরব–আগরপুর এবং মরজাল–ভৈরব–মরজাল—এই দুটি রুটে বাস চলবে।
আগরপুর রুটে সকাল ৮টায় আগরপুর থেকে বাস ছেড়ে বাজরা, দাইড়াকান্দি, ছয়সূতি, আকবরনগর, কালিকা প্রসাদ ও শম্ভুপুর হয়ে সকাল ৯টায় আনোয়ারা হাসপাতালে পৌঁছাবে।
অন্যদিকে মরজাল রুটে সকাল ৮টায় মরজাল থেকে বাস ছেড়ে বাজরা, দাইরাকান্দি, নারায়ণপুর, নীলকুঠি ও মাঝুমদাবাদ হয়ে সকাল ৯টায় আনোয়ারা হাসপাতালে পৌঁছাবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রুটের ছাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজ নিজ বাসস্টপে উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফ্রি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কলেজে আসা-যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১২, টানা ষষ্ঠ দিনেও অব্যাহত হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ পি.এম


কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১২, টানা ষষ্ঠ দিনেও অব্যাহত হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও তার আশপাশের অঞ্চলে মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়ার বিমান হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কিয়েভে রুশ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

সম্প্রতি মাসগুলোতে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়া দেশটির ওপর বিমান হামলা বৃদ্ধি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এসব হামলা জোরদার করা হচ্ছে।

গত পাঁচ দিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন হামলা চলছে। এতে মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও বাড়িঘর ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

হামলায় ব্যবহৃত অনেক ড্রোনের নতুন সংস্করণে জেট ইঞ্জিন থাকায় সেগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রায় দিন-রাত ধরে চলা এসব হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমান হামলার সতর্কতা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

 

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা জানিয়েছেন, রাতভর হামলায় রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকা এবং রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার অনুরোধ করেছেন।

সিবিহা বলেন, "রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে কোনো লাভ নেই।" তিনি ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ারও আহ্বান জানান।

 

কারণ মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনে দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম।

কিয়েভে বিভিন্ন স্থানে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ইউক্রজালিজনিতসিয়ার প্রধান ওলেকসান্দর পার্তসভস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি রেল ডিপোসহ বিভিন্ন রেল স্থাপনায় ৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।

কিয়েভের বাইরে বোরিসপিল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় ৪ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, রাতের হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেটচালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছোট চালান পেয়েছে। এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ওদেসায় ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে থাকা একটি সীমান্ত ক্রসিংয়েও হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ওদেসার বন্দর ও জাহাজে বারবার হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় ওই এলাকার হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

রাশিয়াতেও হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন

ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর হামলা বৃদ্ধি করেছে। মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটি তেল স্থাপনা ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।

রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া সামারা অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে এবং এটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলেও হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের চালানো একটি হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন কিছু সময়ের জন্য এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল।

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের ঘটনা কয়েকবার ঘটেছে। এতে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর হামলায় কিয়েভ ও ওদেসা এবং আশপাশের এলাকায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

থমকে আছে শান্তি আলোচনা

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা এ বছর থমকে গেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সোমবার জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনে তাদের সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তার ক্রসবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে নদীপারের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


তিস্তার ক্রসবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে নদীপারের মানুষ

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভাঙন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।

 

এখন পর্যন্ত উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। বসতভিটা, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি বাজার নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার এবং সকাল ৯টায় তা ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার।

 

ওই স্টেশনে তিস্তার বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের কিছু অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, “গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, “শুকনা মৌসুমে এখানে বালু ছিল।

 

একটা জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই, কীভাবে ভাঙন সামলাবে?”

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।”

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্জয়ের স্ত্রীসহ তিনজনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


দুর্জয়ের স্ত্রীসহ তিনজনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদক জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য এই আদেশ প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ লাখ ১৮৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুল বাশারের নামে আরও বেনামী স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। তাই তাঁর অর্জিত সব সম্পদের উৎস এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল এই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑসহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য্য এবং উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াশকুরুনী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যানিলাসহ সমন্বিত কৃষি খামার করে সফল বেগমপুরের হুমায়ুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


ভ্যানিলাসহ সমন্বিত কৃষি খামার করে সফল বেগমপুরের হুমায়ুন

জেলার সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনি পাড়ার হুমায়ুন কবীর ফরাজী (৫১) কৃষিতে বৈচিত্র্য ও আধুনিকতার ছোঁয়া এনে সফলতার নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

তিনি চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো ‘ভ্যানিলা’ চাষ করে সাধারণ সবজি ও ফল চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। চার বছরের নিবিড় পরিচর্যার পর এবার ভ্যানিলার গাছে ফুল থেকে ফল ধরেছে। বরবটির মতো দেখতে বিদেশি এ ফল দেখার জন্য অনেকেই তার খামারে ভিড় করছেন। হুমায়ুন কবীর তার সমন্বিত খামারের নাম দিয়েছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’। এই খামার ১৮ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ভ্যানিলা, কাশ্মীরি কলা, পেঁপে ও ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে। এছাড়া তিনি ছাগল, দুম্বা, ভেড়া ও গরু পালন করছেন।

হুমায়ুন কবীর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার বেগমপুর গ্রামের মৃত কামাল উদ্দীন ফরাজী ও রাশেদা বেগমের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে সেজো ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগমপুর কলোনি পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হুমায়ুনের ‘নিউ কামাল এগ্রো’ খামারের এক প্রান্তে থাকার জন্য দুটি কক্ষ নির্মিত হয়েছে। এর একপাশে ডেইরি খামার এবং অন্য পাশে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে। কিছুটা সামনে এগোলেই রয়েছে ভ্যানিলা বাগান। ১০ কাঠা জায়গা নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নেটের ভিতরে ৬০০ থেকে ৭০০ পিলারে লতায়-পাতায় ঝুলছে ভ্যানিলা গাছ। গাছের আগার দিকে ঝুলে আছে ভ্যানিলা ফল। প্রতিটি ফল ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা, যা বরবটি সবজির মতো দেখতে সবুজ রঙের। কিছুদিন পর হালকা বাদামি রং ধারণ করলে গাছ থেকে ফলটি তোলা যাবে। ভ্যানিলা বাগানের পাশে ড্রাগন ও কাশ্মীরি কলা রয়েছে।

বাসসের সাথে আলাপচারিতায় হুমায়ুন কবীর জানান, কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন আম এবং নানারকম ফলের ব্যবসা করেছেন। ঢাকার কাওরান বাজারে তার বাবার কুষ্টিয়া ভান্ডার নামে একটি ফলের আড়ত রয়েছে। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০ বছর আগে তিনি আধুনিক ফল চাষে নামার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকেই তিনি নিজ জেলায় শুরু করেন নানান রকম ফলের চাষ। শুরুতে তিনি লিচু, ড্রাগন, মার্লবেরি ও অ্যাভোকাডোর চাষ শুরু করেন। এরপর চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পেনিফোলিয়া জাতের ভ্যানিলার চারা কিনে আনেন। পরীক্ষামূলকভাবে নিজের ১০ কাঠা জমিতে পিলার করে গ্রিন হাউস প্রক্রিয়ায় চাষ শুরু করেন। চার বছরে পুরো চাষ প্রক্রিয়ায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে সেই ভ্যানিলার গাছে প্রথমবারের মতো ফুল থেকে ফল এসেছে। চলতি বছরে তার বাগানের ভ্যানিলা বিক্রি করে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, "১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ করেছি, ২০২২ সালেই এই চারাগুলো আমি সংগ্রহ করি। ইউটিউবে এবং ভ্যানিলার প্রজেক্ট প্রোগ্রামে আমি অংশগ্রহণ করি। প্রথমত পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে এই চারাগুলো দেখি ও রোপণের পদ্ধতি জেনে নিই। সেখানে থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি চারাগুলো ২০২২ সালে লাগিয়েছি। এখন এই গাছগুলোতে ফুল ও ফল এসেছে। এই ফলগুলো এক থেকে দেড় মাস পরে উত্তোলন করা যাবে। ভ্যানিলার ভিতরে রং অনেকটা সুরমার রঙের মতো। চলতি মৌসুমে তার জমি থেকে প্রায় ১২০ কেজি ভ্যানিলা উৎপাদন হবে।"

জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ভ্যানিলা প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি বাজার ঠিক থাকে তাহলে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় ফলগুলো বিক্রি করা যাবে। ভ্যানিলা চাষে অনেক ধৈর্য্য লাগে। তার ভ্যানিলা বাগান পরিচর্যার জন্য দৈনিক চার জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কাজে আরো ৬ থেকে ৭ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। এটি খুব সম্ভাবনাময় একটি ফসল। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যানিলা চাষ করা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তবে গ্রিন হাউজ করে ছায়াযুক্ত স্থানে এটি চাষ করা সম্ভব। ভ্যানিলা চাষের জন্য সহনীয় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকতে হয়।

হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালে এক লাখ টাকা খরচ করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ১৫০ মিটার ভ্যানিলা লতা নিয়ে আসেন। পরে সেগুলো একটি করে গিঁট রেখে ছোট ছোট করে কেটে প্রায় হাজার খানেক চারার পাতো দেন। চার মাস পাতো দেওয়ার পর সেগুলো রোপণ করা হয়। এর আগে বেলে-দোঁআশ মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করেন। ভ্যানিলার পাতো সেই মাটিতে রোপণ করা হয়। ভ্যানিলা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত এখানে পানি স্প্রে করতে হয়। ভ্যানিলা গাছ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, এর লতা-পাতা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ভ্যানিলা গাছ রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর ফল দিতে শুরু করে। বছরে দুইবার ফল ধরে। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর সময়ে ফলের পরিমাণ বেশি থাকে। ফল তোলার পর এর ডগা কেটে পাতো দিতে হয়। আর এই পাতো জমিতে রোপণ করা যায়।

ভ্যানিলায় তেমন একটা রোগ বালাই দেখা যায় না। তবে কিছু ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে হালকা কিছু রোগ বালাই হলে তা দমন করা যায়। এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যেই ভ্যানিলা গাছে ফুল আসে। এরপর পরিচর্যা করলে খুব দ্রুতই ফুল থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। অক্টোবর মাসের মধ্যেই ফলগুলো পরিপক্ব হয়ে যায়। গাছ থেকে ফল তোলার পর ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তিন মিনিট করে শেকিং বা সেদ্ধ করা হয়। এভাবে তিন বার সেকিং করা হয়। তারপর এই সেদ্ধ ফলগুলো রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। প্রতি কেজি শুকনো ভ্যানিলা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল ও বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো ভ্যানিলার ক্রেতা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কলোনীপাড়ায় হুমায়ুন কবির ফরাজী নিজে উদ্যোগী হয়ে ১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ করেছেন। চার বছর পরে এবারে ফুল ও ফল এসেছে। আশা করি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই উনি সব ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে আসলে যে টেকনোলজি আছে, এই টেকনোলজিগুলোর সম্পর্কে আরো যদি একটু আমরা জানতে পারি বা আমাদের গবেষকরা যদি এটি নিয়ে আরো একটু গবেষণা করে ভবিষ্যতে ভ্যানিলা চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। যেহেতু ভ্যানিলা একটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ফসল, এর সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব। রপ্তানি করলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। আবার বাইরে থেকে ভ্যানিলা আমদানির খরচও লাগবে না। এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানও হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%