ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিমান ২০৩১ সালের মধ্যে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে: মিল্লাত


বিমান ২০৩১ সালের মধ্যে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে: মিল্লাত

সরকারের মিশ্র-বহর (মিক্সড-ফ্লিট) কৌশলের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইউরোপের শীর্ষ উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট ‘এয়ারবাস’ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে।

আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিল্লাত বাসস’কে বলেন, ‘আমরা ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করব।’

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় রাস্তা বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যক্তির মৃত্যু

তিনি জানান, ২০৩১ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাম এবং অন্যান্য শর্তাবলীসহ কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেই সরকার এই চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের অন্যতম আলোচিত উড়োজাহাজ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমান।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

বোয়িংয়ের চুক্তির আওতায় আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই প্রেক্ষাপটে এয়ারবাস সম্প্রতি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রম জোরদার করে। তারা বিমানের কারিগরি-অর্থনৈতিক কমিটির কাছে চারটি ‘এ৩৫০-৯০০’ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি ‘এ৩২১নিও’ ন্যারো বডি উড়োজাহাজ বিক্রির একটি প্রস্তাব জমা দেয়।

এই প্রস্তাবের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে সম্প্রতি ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মিল্লাত জানান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সরকার এখন ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখা এই কেনাকাটার পেছনে অন্যতম বিবেচ্য একটি বিষয়। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিমানকে মিশ্র-বহরের এয়ারলাইন্সে রূপান্তরিত করার একটি সমন্বিত সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের দুই বৃহৎ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ একই বহরে পরিচালনা করবে বিমান। এটি বিমানের বহর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ পর্যালোচনা করছে। এর লক্ষ্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করা।

বিমানের ভবিষ্যৎ বহরে জায়গা পেতে এয়ারবাস ও বোয়িং বেশ কয়েক বছর ধরেই তীব্র প্রতিযোগিতা করে আসছিল। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আগ্রহও দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি

২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাস নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালায়। সে সময় কার্গো উড়োজাহাজসহ ১০টি এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্য বিষয়টি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিসহ সামগ্রিক বাণিজ্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে বোয়িং ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তিটি চূড়ান্ত করে।

তবে এয়ারবাসও পিছিয়ে না থেকে ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডির সংমিশ্রণে নতুন অফার দেয়। ‘এ৩৫০-৯০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে মূলত দূরপাল্লার রুট পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে বিমানের নেটওয়ার্ক চাহিদা অনুযায়ী ‘এ৩২১নিও’ আঞ্চলিক, গালফ ও এশিয়ার মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা যাবে।

সরকারের এই মিশ্র-বহর নীতির বিষয়টি স্পষ্ট করে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের উভয় প্রস্তুতকারকের উড়োজাহাজই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কাজের সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন পোশাক শ্রমিক, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল খারাপ আচরণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বোয়িং ও এয়ারবাস দুটোই প্রয়োজন। আমরা দুটো কোম্পানির থেকেই কিনব।’

বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত এয়ারবাসের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহের পরিপন্থী বা কোনো বাহ্যিক চাপের ফল- এমন ধারণা নাকচ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের যা প্রয়োজন, সরকার তা-ই কিনবে এবং একইসঙ্গে বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাও বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (পূর্ববর্তী সরকারগুলো থেকে) একটি নাজুক অর্থনীতি পেয়েছেন। অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে একদিকে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও কিনতে হবে। আমাদের বোয়িং ও এয়ারবাস দুটোই প্রয়োজন। আমরা দুটো থেকেই কিনব।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অগ্রাধিকার দেয় না।

আরও পড়ুন: প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে তারেক রহমান : রিজভী

বিনিয়োগের প্রশ্নে সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের সাথে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের এক বৈঠকেও এয়ারবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

ওই বৈঠকে সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস যুক্ত করার অভিপ্রায় তুলে ধরে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, মিশ্র-বহর কৌশল প্রয়োগ করলে কার্যক্রমে আরও বেশি সক্ষমতা ও নমনীয়তা আসবে, রুটের উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করা যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক দক্ষতা বাড়বে।

তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যদি পুরনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের জন্য কেনা হয় তবে এই বাড়তি কেনাকাটা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনা ও লাভজনকতার বিষয়টি মাথায় রেখে বহর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কি-না তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিশ্র বহর থাকলে যাত্রী চাহিদা, রুটের কার্যকারিতা ও ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় একটি এয়ারলাইন্স সবচেয়ে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করলে রুট পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের হুমকিতে পথ বদলালো চীন ও ভারতগামী সৌদির দুই তেলবাহী ট্যাংকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


হুথিদের হুমকিতে পথ বদলালো চীন ও ভারতগামী সৌদির দুই তেলবাহী ট্যাংকার

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কঠোর হুঁশিয়ারির কারণে লোহিত সাগরে গতিরোধ করে উল্টো দিকে যাত্রা করে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকার। চীন ও ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করা ‘জিন লং ইয়াং’ এবং ‘রোডোস’ নামের জাহাজ দুটি লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে মোড় নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পর লোহিত সাগরের এই বিকল্প শিপিং রুটটিতে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। তারা বিভিন্ন নৌ-পরিবহন কোম্পানিকে পাঠানো এক ইমেইলে সৌদি আরবের যেকোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়। ওই বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের সামরিক সক্ষমতার আওতায় যেকোনো স্থানে ওই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

সমুদ্র ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২০ লাখ ব্যারেল তেলবোঝাই করে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়া ‘জিন লং ইয়াং’ এবং প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ভারতের দিকে যাওয়া ‘রোডোস’—উভয় ট্যাংকারই বাব এল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে গেছে। এ ছাড়া একই বন্দরে তেলবোঝাই করতে আসা ‘নিউ প্রাইম’ নামের আরও একটি ট্যাংকার ওমান উপকূলেই পথ পরিবর্তন করেছে।

লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিদের এই নতুন হুমকিতে লোহিত সাগরে চলাচলের ক্ষেত্রে যুদ্ধঝুঁকি বিমার মাশুল ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সৌদি বন্দরে নোঙর করা বা গমনাগমনকারী জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর অতিক্রমের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।

সমুদ্র বিশ্লেষকদের মতে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করতে না পেরে জাহাজগুলোকে যদি সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার চারপাশ ঘুরে এশিয়ার গন্তব্যে যেতে হয়, তাহলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন এই সামুদ্রিক অবরোধের ঝুঁকি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও শিশু উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৯ পি.এম


নারী ও শিশু উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে শারলে আজ আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, যিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে আলোচনা করা হয় নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু কল্যাণ এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যে। নারীর অধিকার, নারী ও শিশুর টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল কর্মসূচি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা সম্পর্কিত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন জানান, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের বৃহত্তর লিঙ্গসমতা নীতির অংশ হিসেবে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার নারীদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় দেশে ডে-কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান।

এসময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা এবং শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের উদ্যোগগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, এবং জলবায়ু-সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে, মন্ত্রী ফ্রান্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নারী কেয়ারগিভারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশি নারীদের তৈরি হস্তশিল্প পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক সাড়া দেন।

অতীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলোর ধারাবাহিকতায়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় নারীবাদভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য মন্ত্রী জাহিদ হোসেনকে আমন্ত্রণ জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফেসবুক লাইভে অপদস্থের অভিযোগ

ফটিকছড়িতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


ফটিকছড়িতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মারধর, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, জোরপূর্বক খালি ¯ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ফেসবুক লাইভে অপদস্থ করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর এলাকার ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসেম (৪০)। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন—ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন, শওকত ওসমান, আজগর সালেহী, জয়নাল আজহার, মাহিন হাসান, জামাল আজহার, মুহিব্বুল্লাহ আমিনি, খায়রুল বশর, আবু বক্কর, আব্দুর রহিম ও মাওলানা আবু তালেব।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি একটি রাস্তা সংস্কার কাজ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ভিডিও প্রকাশ করার জেরে অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন।

গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা বাদীর দোকানে গিয়ে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাকে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক মর্যাদাহানির কারণ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, অভিযুক্তদের কয়েকজন জোরপূর্বক ৩০০ টাকার একটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাদীর স্বাক্ষর নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বাদী। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, মানহানির প্রতিকার এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পের অপব্যবহার রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত भूজपुर ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, "মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই এই বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।"

এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, "মামলাটি চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত তা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে কালিগঞ্জ থানার শহিদুল ইসলাম নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মামুন বিল্লাহ কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে কালিগঞ্জ থানার শহিদুল ইসলাম নির্বাচিত

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কালিগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম।

মাসিক কল্যাণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

সভায় সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) খালিদ মোঃ আরাফাত বিগত মাসের কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন। চলতি মাসে বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যদের আবেদন ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলোও উপস্থাপন করা হয়।

পুলিশ সুপার উপস্থিত সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। তিনি বেশিরভাগ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করেন এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। তিনি সকল কর্মকর্তা ও সদস্যকে সরকারি বিধি-বিধান মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

এ সময় পুলিশ মেসে উন্নতমানের খাবার নিশ্চিতকরণ, ড্রেস কোড যথাযথভাবে অনুসরণ, ছুটি ও টিএ বিল প্রদানে স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মোঃ আলী হায়দার সেখকে দীর্ঘ কর্মজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

বিশেষভাবছেন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলামকে কর্মদক্ষতা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজীদ ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) শাওন রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মোঃ ইমরান খান, পুলিশ হাসপাতাল সাতক্ষীরার চিকিৎসক ডা. আবু হোসেন, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনসেবার মান উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%