ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১২:৫১ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে মানববন্ধনটি অবরোধে রূপ নিলে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচাঁ নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধন চলাকালে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক ও ফেরিঘাটে অবস্থান নেন। এতে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ফেরি চলাচলসহ সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পিরোজপুর জেলা ট্যাক্সি, অটোরিকশা ও অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা মো. আল-আমীন হাওলাদার, ইউপি সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় আবদুল ওহাব মাঝি, মানিক মৃধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মারধর, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বারেক ফরাজী নামে এক বিএনপি নেতা। তিনি বাংলাদেশের একটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে।
বারেক ফরাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে একাধিক মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। তার দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ থেকে ১২টি মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধরও করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তার স্ত্রীর ওপর ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং এতে তার চোখেরও ক্ষতি হয়। এসব ঘটনার কারণে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি সুধা নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ওই নেতার বাবা কুদ্দুস মোল্লা বলে জানা গেছে। বারেক ফরাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি উপলক্ষে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বারেক ফরাজী বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার পরিবার থেকেও তাকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বারপক ফরাজী। তিনি এ ধরনের হয়রানি, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ ও মারধরের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা প্রয়োজনে মানুষ থানা রোডে আসেন। ফলে সড়কটিতে দিনের বিভিন্ন সময় মানুষের উপস্থিতি ও চলাচল চোখে পড়ার মতো।
বর্তমানে থানা রোডের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলেও সামান্য যানজট দেখা যায়। বিভিন্ন দিক থেকে আসা মানুষের ভিড় এবং যানবাহনের চলাচলের কারণে কখনো কখনো সড়কে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে চলাচল।
থানা রোড দিরাই উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন নানা কাজে মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহন সঠিকভাবে চলাচল করা এবং পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে সামান্য যানজটও আরও সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দিরাই থানা রোডের বর্তমান চিত্র—সড়কের অবস্থা ভালো, তবে মানুষের ভিড়ে রয়েছে সামান্য যানজট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানা এলাকায় বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজনকে আটক করেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া এক ভরি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের হাতের রুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল মহানগর পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানাধীন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার গলিতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ সোহাগের বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরি হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন শিশু। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সৈয়দ সৈকত ইসলাম রিফাত (১৬), মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে শাওন হাওলাদার (১৬), মো. সানজিদ তালুকদার (২১) এবং বিশ্বজিৎ দাম (২৫)।
আটক দুই শিশুকে পুলিশি নথিতে ‘আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ঘটনার পর চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে এক ভরি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের হাতের রুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারটি চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া মালামাল বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় চারজনকে আটক এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না এবং কীভাবে স্বর্ণালংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা হলেন যশোরের বাসিন্দা নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
নাহিদুর রহমান মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজ থাকার খবরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজদের স্বজনদের আশঙ্কা, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা থাকতে পারেন। তবে নিখোঁজ চারজনের অবস্থান কিংবা তাঁদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান এবং অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ