১১:৪৫ এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং তার বিধবা মাকে নয়ডার ভাড়া করা বাসা ছেড়ে পালাতে হয়েছে, এমন কথা জানিয়েছেন ওই কিশোরীর মাতা।
ওই কিশোরীর মা বলেছেন, দশম শ্রেণির ছাত্রী যার নাম এখনও বিস্তার করেনি, সে যখন এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তখন থেকেই অসংখ্য পুলিশ এবং অপরিচিত লোকজন তাদের বাসায় যাতায়াত করতে শুরু করে। সেকারণে বাধ্য হয়েই দুই দিন আগে তারা বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।
তিনি জানান, তার মেয়ে ক্ষমা চেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীও তাকে ক্ষমা করেছেন। কিন্তু তারপরেও তাদের পরিবার নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৮৭ বছর বয়সে চলে গেলেন ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী
মাতা বলেন, আমি একাই মেয়েকে বড় করছি। ২০১৯ সালে আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আমার ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে থাকে। অনেক মানুষ এবং পুলিশ বারবার আমাদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হচ্ছে, সাবধান করে বলতে চাই, আমরা কীভাবে সেখানে থাকতে পারি?
তিনি কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তাদের পরিবারকে আর হয়রানি না করা হয়।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কিছুদিন আগে দিল্লির জন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ডাকা আন্দোলনে অংশ নিয়ে ওই কিশোরী প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এর ফলে নয়ডা পুলিশ কিশোরীর বয়স ২৫ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
১ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই কিশোরী ক্ষমা চেয়ে বলছিল, এটি তার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভুল। সে বিক্ষোভস্থলে অংশগ্রহণকারীদের প্রভাবে এমন মন্তব্য করছে বলে জানান। ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি বলছে, আমি সেখানে ছিলাম এবং অনেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গালিগালাজ করছিল। সাথে সাথে তারা অন্যদেরকেও এসব বলতে উসকানি দিচ্ছিল। আমি এ জন্য লজ্জিত যে, আমি মুখ তুলে তাকাতে পারছি না। আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি। এটি আমার প্রথম ও শেষ ভুল।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় শিক্ষককে মক্তব শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ওই শিক্ষার্থীর মাতা জানান, তারা এবং তাদের ভাড়া বাসায় আর থাকতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীরা তাকে জানিয়েছেন, এখনও কালো রঙের গাড়িতে লোকজন তাদের বাসায় আসছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশও এখনো তাদের বাড়িতে আসছে। আমি এবং আমার মেয়ে অন্য একটি স্থানে চলে গেছি। মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়ে সে, আর আমি নিজেও শিক্ষার্থীদের পড়াতাম। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে, আমাদের কিছুই জানা নেই।
এদিকে, আইনি কাগজপত্রে কিশোরীর বয়স নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পুলিশের জিরো এফআইআর-এ তার জন্ম সাল ১৯৯৪ উল্লেখ করা হলেও, তার মা দাবি করেছেন যে, ২০১০ সালে তার বিয়ে হয় এবং ২০১১ সালে তিনি মেয়ে এবং ২০১৪ সালে ছেলে জন্ম দিয়েছেন। তার মেয়ে এখনো শিশু এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, "দয়া করে তাকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের সকলের মতো স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দিন।"
তিনি ব্যাখ্যা করেন, তার মেয়ে একটি বড় ভুল করেছে এবং সে জন্য ক্ষমাও চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা পাওয়ার পরেও মামলাটি কেন নয়ডা থেকে দিল্লিতে পাঠানো হলো? যদি ভবিষ্যতে দিল্লি পুলিশও তাদের বাড়িতে এসে হয়রানি শুরু করে, তাহলে তাদের কি হবে?
আরও পড়ুন: নরসিংদী জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রস্তুত, সংযোগ স্থাপন হলেই মিলবে সেবা
নয়ডা পুলিশ শুরুতে যে জিরো এফআইআর দায়ের করেছিল, পরে সেটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখনো এটি নিয়মিত মামলায় রূপান্তর করেনি এবং কিশোরীর ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন।
এদিকে, জন্তর মন্তরের ওই বিক্ষোভের ঘটনায় দাঙ্গা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ প্রায় ১৩টি মামলা দায়ের করেছে। তবে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। শুধু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন