০৪:৩৩ পি.এম
প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্য ও অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, ধৈর্য এবং কঠিন সংগ্রামের গল্প রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তনে বক্তৃতা প্রদানকালে এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের অর্জনের পেছনে পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি বিশেষ মুহূর্ত আসে। এই দিনটি তারা চিরকাল মনে রাখবেন। সমাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে নতুন পথে যাত্রা শুরু করছেন।
আরও পড়ুন: অষ্টম শ্রেণিতে পিথাগোরাসের গণিতবিদ্যা ও জ্যামিতিক সমস্যা
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সামনে উচ্চশিক্ষা, মাস্টার্স এবং পিএইচডি অর্জনের সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি পেশাগত জীবনে প্রবেশ কিংবা নতুন উদ্ভাবনের মতো সম্ভাবনাও রয়েছে। কেউ বাংলাদেশে, কেউ বিদেশে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। আজকের অর্জিত ডিগ্রি তাদের সমৃদ্ধ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়তে প্রস্তুত করবে।
তবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি অতীতের পথচলার কথাও স্মরণ রাখার আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে, পরীক্ষার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সামলাতে হয়েছে এবং গবেষণাগারে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তাদের নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের অবদানও রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও ত্যাগ জড়িয়ে থাকে। তাদের ধৈর্য, ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি এবং কঠিন সংগ্রাম সন্তানের অর্জনের পথ তৈরি করে দেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তাদের প্রতি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।
আইইউটির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক দলের ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এ কারণে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবির শিক্ষার্থী তানভীরুল হককে কান ফাটানোর ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার
তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার আইইউটি ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন। তার বিশ্বাস, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনে একইভাবে এ ক্যাম্পাসে আসবেন।
সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে, যারা সমাজের কল্যাণে কাজ করবেন। মানুষের ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে নারী, শিশু এবং তরুণদের ক্ষমতায়নে তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ দায়িত্ব থেকে কখনো পিছিয়ে আসা উচিত নয়।
শিক্ষক, পরিবার এবং শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দিয়েছেন, পরিবার দিয়েছে শেকড় ও আত্মপরিচয়, আর শিক্ষা ও অর্জিত ডিগ্রি দিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ডানা। তবে কোন পথে এগিয়ে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে। নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য কীভাবে কাজে লাগাবেন এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে হবে তাদেরই।
মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রি তাদের সামনে বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করেছে। এই অর্জন কাজে লাগিয়ে আইইউটি, পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের পেশাগত জীবনেও সাফল্যের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: কুবিতে ৮০ লাখ টাকার মাস্টারপ্ল্যান, প্রথম ধাপে নির্মিত হবে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন