১০:০৬ পি.এম
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ আমের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় স্বাদ ও গুণগত মান তুলে ধরতে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি” শীর্ষক বিশেষ আম উৎসব।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাস, কাঠমান্ডুর উদ্যোগে দূতাবাসসংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আম এবং আমজাত মূল্যসংযোজিত প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আম রফতানির সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান কৃষি ও কৃষি পণ্য ভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আম কেবল একটি ফল নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি এবং জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মুঘল আমলের ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের উৎকৃষ্টতম আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম।
তিনি উল্লেখ করেন যে খিরসাপাত (হিমসাগর), হারিভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, বানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌরমতি এবং বারি আমসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম তাদের অতুলনীয় মিষ্টতা, অনন্য সুবাস, উচ্চমান এবং পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেরিতে মৌসুমের পরেও ফলনশীল বিভিন্ন নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি কিছু জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
তিনি দেশের বেসরকারি খাতের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার, ডেজার্টসহ নানা ধরনের মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমের ঐতিহ্য ও স্বাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে অভিনন্দন জানান এবং কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
বিশেষ অতিথি নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করে না, বরং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জনগণের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আমের পাশাপাশি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত নানাবিধ পণ্য একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
অতিথিগণ বাংলাদেশের আমের স্বাদ, বৈচিত্র্য ও রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের আধুনিক উদ্যানতত্ত্ব, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের একজন সফল আমচাষি জনাব রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের তার আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
এই উৎসব শুধু বাংলাদেশের কৃষি সাফল্যের উদযাপনই নয়, বরং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই দেশের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ সুগম করেছে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের আমের অসাধারণ স্বাদ, গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, "বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি"-এর মতো উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
উৎসবে বাংলাদেশের রাজশাহীর মৌসুমের পরে দেরিতে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম, যেমন—ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি, আশ্বিনা প্রভৃতি প্রদর্শন করা হয়।
পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত আমপণ্যও প্রদর্শিত হয়।
অতিথিদের জন্য আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ধরনের আমের ডেজার্ট পরিবেশন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং Beautiful Bangladesh-এর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্নসচিব জনাব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরাসহ প্রায় ২৫০ জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন