শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৯ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহে একটা আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। নতুন এই ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ একজন অ্যাডিশনাল আইজিপি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে এই পদটি না থাকলে তা নতুন করে তৈরি করা হবে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত হয়ে যোগাযোগ রাখছে, নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে- এমন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সমস্ত মেট্রো, ডিভিশন ও ডিস্ট্রিক্ট পর্যায়ে তার শাখা থাকবে। থানা ও জেলাপর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব ও যে সাপোর্ট দরকার, সেগুলো হেডকোয়ার্টার ও ডিভিশন পর্যায়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘সেটা প্রকল্প প্রণয়নের জন্য আমি গত কয়েক সপ্তাহ আগে নির্দেশ দিয়েছি। যেগুলো জটিল হবে, সেগুলো কেন্দ্রে আসবে। যেগুলো থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব, সেগুলো সেখানেই হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সাইবার স্পেস ক্রিয়েট করে যেসব ক্রাইম হচ্ছে, সেটা আধুনিক ক্রাইম প্রবণতার একটা ক্যারেক্টার। কোনো কোনো রাষ্ট্রে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্রাইম হচ্ছে এই সাইবার বা স্ক্যামভিত্তিক। সে জন্য এটা আমাদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এবং এর আশেপাশের এলাকায় টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকা সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শহরের রাস্তাগুলো এখন খালের মতো রূপ নিয়েছে, যেখানে যানবাহন চলাচলের পরিবর্তে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংককের একটি আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বন্যার পানির নিচে। পানির গভীরতা এতটাই বেশি যে, পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার এবং পিকআপ ট্রাক প্রায় অর্ধেক ডুবে আছে। কিছু কিছু গাড়িকে পুরোপুরি তলিয়ে যেতেও দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করায় বন্যার পানি দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের বহু বাসিন্দা তাদের বাড়ির ভিতরেই আটকা পড়েছেন। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নিচতলার ফ্ল্যাটে থাকা মানুষেরা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু এলাকায়। এই পরিস্থিতি শিশুদের জন্য আরও বেশি ভীতিজনক, কারণ তারা এই প্রবল বন্যা সম্পর্কে কম অবগত।
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। আরও কয়েক দিন এই ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের সরকার কাজ শুরু করেছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করার জন্য জরুরি পরিষেবা টিম পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশ্রয় দিতে অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। তবে, পানির স্তর এখনও না কমার কারণে অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছাতে কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আরও অনেক মানুষের ত্রাণ ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছেন। তারা জরুরি পরিষেবাগুলি কার্যকর রাখতে ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যাংককের পরিস্থিতি আরও ভালো হওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে সাহায্য করতে হবে। আমরা সবাই এই চরম পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের জন্য প্রার্থনা করি এবং আশা করি তারা শীঘ্রই এই বিপদ থেকে মুক্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর আয়োজনে সনাতন শিক্ষার্থীদের বৈদিক নবীন বরণ—১৪৩৩ জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় এ নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন সনাতন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নবীনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার নানা আয়োজন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সনাতন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি কাকলী রায় বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কার, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি আমরা বিশ্বাস করি, নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি অন্য সব ধর্মের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শুভ কর্মকার বলেন, “আমরা সবাইকে একটি পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে চাই। জুনিয়রদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর সবসময় তাদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চাই।”
আয়োজকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সুন্দর ও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব বাগদাদকে আরও চাপে ফেলেছে।
ইরানপন্থি ইরাকি রাজনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি। মার্কিন চাপ উপেক্ষা করার ফলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে ইরাকের।
ইরাকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির সংসদে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী অবস্থানও রয়েছে। খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরানের গ্যাসের ওপর ইরাকের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।
ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে গ্রাউন্ড সার্ভিস, জ্বালানি, অবতরণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে ইরাকের বিমানবন্দরগুলোতে ইরানি উড়োজাহাজের সেবা বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরাকের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে তেল। দেশটির সরকারি আয়ের প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল খাত থেকে আসে। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল পরিবহনেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়া ছাড়াও তেল রপ্তানিতে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি ইরাকের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ—এই দুই চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বাগদাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ