প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এবং এর আশেপাশের এলাকায় টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকা সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শহরের রাস্তাগুলো এখন খালের মতো রূপ নিয়েছে, যেখানে যানবাহন চলাচলের পরিবর্তে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংককের একটি আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বন্যার পানির নিচে। পানির গভীরতা এতটাই বেশি যে, পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার এবং পিকআপ ট্রাক প্রায় অর্ধেক ডুবে আছে। কিছু কিছু গাড়িকে পুরোপুরি তলিয়ে যেতেও দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করায় বন্যার পানি দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের বহু বাসিন্দা তাদের বাড়ির ভিতরেই আটকা পড়েছেন। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নিচতলার ফ্ল্যাটে থাকা মানুষেরা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু এলাকায়। এই পরিস্থিতি শিশুদের জন্য আরও বেশি ভীতিজনক, কারণ তারা এই প্রবল বন্যা সম্পর্কে কম অবগত।
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। আরও কয়েক দিন এই ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের সরকার কাজ শুরু করেছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করার জন্য জরুরি পরিষেবা টিম পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশ্রয় দিতে অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। তবে, পানির স্তর এখনও না কমার কারণে অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছাতে কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আরও অনেক মানুষের ত্রাণ ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছেন। তারা জরুরি পরিষেবাগুলি কার্যকর রাখতে ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যাংককের পরিস্থিতি আরও ভালো হওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে সাহায্য করতে হবে। আমরা সবাই এই চরম পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের জন্য প্রার্থনা করি এবং আশা করি তারা শীঘ্রই এই বিপদ থেকে মুক্ত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন