ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনায় ৯৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ


খুলনায় ৯৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনার ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে মোট ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সরকার।

জেলার ৯টি উপজেলা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার সকল মণ্ডপে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বর্তমানে চলছে।

মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে আগামী ১৬ অক্টোবর শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: সাজেক থেকে ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় শাখাগুলোর সমন্বয়ে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

দুর্গোৎসব শুরুর পূর্বেই প্রতিটি মণ্ডপে বরাদ্দকৃত চাল সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু সরকারের এই সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি এই বরাদ্দ সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসব পালনে বড় ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। একইসঙ্গে, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন: খুলনায় সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী দুই সপ্তাহে দুবার

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার সংস্থাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর ৭৭টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, শনিবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই নগদ অর্থ সহায়তা সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। নগরীর প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উৎসব পালিত হতে পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সবসময় পাশে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে শতবছরের সম্প্রীতি, একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌরবিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়, মিলবে পরিবেশগত সুফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


সৌরবিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়, মিলবে পরিবেশগত সুফল

॥ সৈয়দ শুকুর আলী শুভ ॥

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৪১৫ মেগাওয়াট, যার মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত ১ হাজার ২০০ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট। বাকি ৩৭৭ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট গ্রিডের বাহিরে রয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে জানান, ‘সৌর প্যানেল ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপন করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অন্তত ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এতে সরকারের কোষাগারের ওপরও চাপ কমবে। যেসব পরিবারের বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি, তারাও বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় গ্রিডের বিদ্যুতের জন্য শিল্পকারখানাগুলোকে সাধারণত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ১১ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৬ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৪-৫ টাকা। আর ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ৮-৯ টাকা।

শফিকুল আলম বলেন, সরকার জমি, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা দিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ৬ টাকা ৫০ পয়সা। এসব সুবিধা না থাকলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয়, অর্থায়নের ধরন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পেতে পারেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ ব্যয় ২৭ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় আনুমানিক ৭ টাকা ৯ পয়সা।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে অবস্থিত মতি অ্যাগ্রিভোলটাইক প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাসসকে জানান, নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সেচ ও কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিতে প্রকল্পটিতে মোট ৩৫ দশমিক ৩ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের জন্য ২৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আর সেচপাম্প চালানো ও কার্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে স্থাপন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার আরেকটি ব্যবস্থা। প্রতিদিন গড়ে যে বিদ্যুত উৎপাদিত হয় সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে এখানে কোন ধরণের লোডশেডিং হয় না।’

শহিদুল ইসলাম জানান, সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এর আনুমানিক আয়ুষ্কাল ২৫ বছর।

তিনি আরও বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যয় বাদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ আনুমানিক সাড়ে ৩ টাকা। ভারত ও পাকিস্তানে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকার মধ্যে।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো বাড়ির ছাদে এমন একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে, যার সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় নয় ঘণ্টার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান, তাহলে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করে ২০ বছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের আনুমানিক ব্যয় ৭ টাকা ৪৩ পয়সায় নামিয়ে আনতে পারে।

এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ব্যয় কমানো ও এর প্রসার বাড়াতে সরকার সম্প্রতি নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ সুবিধা ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার প্রণোদনা চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা মিলবে।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়াম সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে।’

হাসান মেহেদী বলেন, বিশেষজ্ঞরা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের আরও জোরালো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদি জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা দরে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বিপিডিবি।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে গ্রিড-সংযুক্ত ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।’

সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও পরিবেশদূষণ কমাতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকার নতুন বাণিজ্যিক, শিল্প ও সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে, যেসব স্থাপনার বৈদ্যুতিক লোড ১০ কিলোওয়াটের বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্পসুদে অর্থায়ন চালুর জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শহরের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন কার্যকর হতে পারে।

তবে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য প্রধান: প্রকৃতি কোনো সীমান্ত মানে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য প্রধান: প্রকৃতি কোনো সীমান্ত মানে না

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজেট সংকট—এমন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক সম্মেলন কপ১৭ শুরু হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রধান অ্যাস্ট্রিড শোমেকার জানিয়েছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এই সম্মেলনে পড়বে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকৃতি রক্ষায় দেশগুলোকে মতপার্থক্য দূরে রেখে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে শুরু হবে এই সম্মেলন, যা প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে জোরদার করা।

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের (সিবিডি) নির্বাহী সচিব শোমেকার কানাডার মন্ট্রিল থেকে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি সরলভাবে বিষয়টি দেখতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনাতেও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃতির ধ্বংস ঠেকানোর অঙ্গীকার পূরণে পিছিয়ে পড়া প্রায় ২০০টি দেশকে ইয়েরেভেন সম্মেলনে নতুন করে অগ্রগতির পথ খুঁজতে হবে।

চার বছর আগে নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই এখনো নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, স্থলভাগ ও সমুদ্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করা।

তবে শোমেকার সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশগুলো মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কঠিন পরিস্থিতিতেই বহুপক্ষীয় সহযোগিতার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয়। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা সব সময়ই সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পেয়েছি।’

-প্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রাধিকারের চাপ-

২০২২ সালে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ প্রকৃতি রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি। দেশটি জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের সদস্য নয় এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনাতেও অংশ নেয় না।

এমনকি ইয়েরেভেনের প্রকৃতি সম্মেলন কিংবা আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এবং জ্বালানি ও পণ্যের উচ্চমূল্য—এসব বিষয় দুই সম্মেলনেই আলোচনা প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শোমেকার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত চলছে। অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারগুলোর মনোযোগ ও সম্পদের ওপর নানা প্রতিযোগী চাহিদা তৈরি হয়েছে।’

তবে তিনি মনে করেন, ‘প্রকৃতি এমন একটি বিষয়, যা রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না।’

খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

ইয়েরেভেন সম্মেলনের আগে শোমেকারের দপ্তর ২০৩০ সালের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিশ্ব কতটা এগিয়েছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করছে।

তিনি অগ্রগতির চিত্রকে ‘মিশ্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, তবে তা ধীরগতির এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না।

শোমেকার বলেন, ‘কোনো লক্ষ্য অর্জিত হবে কি হবে না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারি, সব লক্ষ্য অর্জন করা এখনো সম্ভব—কিন্তু সে জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচনের মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব ও উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


ইসরাইলের নির্বাচনের মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব ও উদ্বেগ

আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসরাইলি নীতিতে যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে, তা সম্ভবত বাস্তবায়িত হবে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় জয়ী হলে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি দলের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট বা বিরোধী দলের অন্যান্য নেতারা ক্ষমতায় এলে ইসরাইলের কথাবার্তা ও মনোভাব কিছুটা নমনীয় হতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার পথও কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের প্রধান রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনা অনেকটাই এক। তাই এই নির্বাচন তেল আবিবের সামগ্রিক আঞ্চলিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হচ্ছে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর তিন বছর কেটে গেছে। দেশটি এখনো যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। একাধিক পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ঘটনাবলির কারণে জর্ডান এবং মিসরের সঙ্গে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। তবে এই নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ভূমিকা কী হবে, সে সম্পর্কে দুই ভিন্নধারার বিকল্প ভোটারদের সামনে নেই। নেতানিয়াহুকে হারানোর সুযোগ বিরোধীদের সামনে রয়েছে, তবে বিরোধী শিবিরের প্রধান নেতাদের চিন্তা-ভাবনা প্রায় এক। সামরিক শক্তি প্রয়োগ, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসকে হুমকি মনে করা এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়ে তাদের মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই।

অতএব, কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, সেই প্রশ্নটি মোটেও গুরুত্বহীন নয়। নেতানিয়াহু বর্তমানে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন-গভিরের মতো উগ্র ডানপন্থি শরিকদের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই শরিকদের প্রভাব তাদের ভোটের হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। তাদের চাপের কারণে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করা এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়গুলো এখন সরকারের মূল নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতানিয়াহু পুনরায় জয়ী হলে এ ধরনের উগ্রপন্থি শক্তির রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও বাড়বে।

তবে নেতানিয়াহু পরিবর্তিত হলে যে ইসরাইলের পুরো কৌশল বদলে যাবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। যে কৌশলের কারণে ইসরাইল আজ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে, তা হয়তো নেতানিয়াহু না থাকলেও বহাল থাকবে। আইজেনকোট, বেনেট বা বিরোধী দলের অন্য কোনো নেতার নেতৃত্বাধীন সরকার হয়তো উগ্র ডানপন্থিদের ওপর অতটা নির্ভরশীল হবে না। তারা আমেরিকার চাপকে বেশি গুরুত্ব দেবে এবং বক্তব্যে কিছুটা সতর্ক থাকবে। নেতানিয়াহু-পরবর্তী সরকার হয়তো ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। গাজার পুনর্গঠনে তারা হয়তো আরও বেশি সহযোগিতার হাত বাড়াবে এবং জর্ডান ও মিসরকে কিছুটা কূটনৈতিক স্বস্তি দেবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হিজবুল্লাহর হুমকি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মতো বড় বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালের ‘ওসলো চুক্তি’র সময় থেকে ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতি ডান দিকে সরে গেছে। নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় এলেও ইসরাইলি নীতির ধরন ও কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আসবে। মূল দিকনির্দেশনা একই থেকে যাবে। সুইডিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক অ্যারন লুন্ডের মতে, নেতানিয়াহুর উত্তরসূরিরাও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একই হাতিয়ার ব্যবহার করে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা করবেন। ইসরাইল তখনো দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার চেষ্টা করবে, শত্রুদের দুর্বল করতে চাইবে এবং যেকোনো ধরনের ছাড়ের বিনিময়ে চড়া মূল্য দাবি করবে। লুন্ড ইউনিভার্সিটির ড. রুজবে পার্সিও এ বিষয়ে একমত। তার মতে, আইজেনকোট, বেনেট বা লাপিদের মতো প্রার্থীরা শুধুমাত্র সামরিক কৌশলের খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক করেন। যুদ্ধের মূল কৌশল বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের মনে কোনো প্রশ্ন নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সরকারগুলোও ভালো করেই বোঝে যে প্রধান প্রধান ইস্যুতে সব প্রার্থী একই পথ অনুসরণ করবেন।

গাজা ও পশ্চিমতীর

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, স্মোতরিচ ও বেন-গভিরের প্রভাবমুক্ত নেতানিয়াহু-পরবর্তী কোনো সরকারের কাজের পার্থক্য গাজায় দেখা যেতে পারে। এমন একটি সরকার গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় আরও বেশি সহযোগিতা করতে রাজি হতে পারে। বর্তমান অচলাবস্থা টিকিয়ে রাখার চেয়ে তারা হয়তো ফিলিস্তিনিদের কোনো একটি প্রশাসনের হাতে শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেবে। ওয়াশিংটন, কায়রো বা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের চাপের প্রতিও হয়তো সেই সরকার সাড়া দেবে। তবে এই পরিবর্তনের একটি সীমা থাকবে। হামাসের অস্ত্র সংবরণ, ইসরাইলের নিজস্ব নিরাপত্তার দাবি এবং গাজার শাসনব্যবস্থার মতো জটিল প্রশ্নের সমাধান করা মোটেও সহজ নয়। ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতিকদের নেই। নতুন সরকার হয়তো উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে, তবে তারা সামরিক নিয়ন্ত্রণ শেষ করবে না বা মূল সংঘাতের অবসান ঘটাবে না।

পশ্চিমতীরের ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি আরও কঠিন। নেতানিয়াহুর আমলে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। মূল দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, পরোক্ষভাবে ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলে তাদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা। কম ডানপন্থি একটি সরকার হয়তো এসব নীতি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমিয়ে দেবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। কিন্তু তারা দখলদারিত্বের অবসান ঘটাবে না। এমনকি বিরোধী কোনো নেতাকেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সমর্থনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না।

জর্ডানের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

পশ্চিমতীরের এই ক্রমাবনতি জর্ডানকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে। জর্ডান নদীর ওপার থেকে ফিলিস্তিনিরা দলে দলে বিতাড়িত হলে তা জর্ডানের রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কিংস কলেজ লন্ডনের ড. রব গেইস্ট পিনফোল্ড যেমনটি মনে করিয়ে দিয়েছেন, উগ্রপন্থি নীতি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করার ঘটনা জর্ডানকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তাদের ভয়, ইসরাইল হয়তো পুরো পশ্চিমতীর দখল করে নেবে এবং ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেবে। এর ফলে যে নতুন শরণার্থী সংকট তৈরি হবে, জর্ডানের বর্তমান দুর্বল অর্থনীতির পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। আম্মান এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ভাবছে, পরবর্তী ইসরাইলি সরকার পশ্চিমতীরকে ধ্বংসের শেষ সীমা থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না।

মিসরের মূল অবস্থান

গাজায় যুদ্ধের কারণে সীমান্তে যেন নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় মিসর। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়িয়ে মিসরের সিনাই উপদ্বীপে ঠেলে দেওয়ার কোনো পদক্ষেপকে কায়রো একেবারেই বরদাশত করবে না। এটি তাদের চূড়ান্ত সীমারেখা। পাশাপাশি মিসরীয় কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী ও পুনর্গঠনকারী হিসেবে নিজেদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ধরে রাখতে চান। তুলনামূলক কম উগ্র ইসরাইলি সরকার কায়রোকে কাজ করার বাড়তি সুযোগ করে দিতে পারে। কিন্তু গাজার নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত মিসরের সীমানায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

ইরান ও হিজবুল্লাহ

ইরানের মোকাবিলা করা এবং হিজবুল্লাহকে দুর্বল করে ফেলা—এ দুই বিষয়ে ইসরাইলের ভেতরে দলমত-নির্বিশেষে সবাই একমত। নেতানিয়াহু-পরবর্তী সরকার হয়তো ওয়াশিংটনের কথা একটু বেশি শুনবে অথবা রণকৌশলে কিছুটা সংযম দেখাবে। কিন্তু ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার মূল লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসবে না। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তেহরান নেতানিয়াহুর পরাজয়কে স্বাগত জানালেও গোপনে হামলা চালানো বা মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ইসরাইলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করে না।

ওয়াশিংটন অনুঘটক

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের ওপর। উগ্র ডানপন্থিদের ছাড়া একটি সরকার গঠন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করা অনেক সহজ হবে। তারা আমেরিকার কূটনৈতিক প্রস্তাবেও বেশি সাড়া দেবে। পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা হয়তো কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে ইসরাইল সম্পর্কে মার্কিন জনগণের মনোভাবে একধরনের স্থায়ী পরিবর্তন এসে গেছে। তেল আবিবে শুধু সরকার বদলালেই সেই পরিবর্তন রাতারাতি উল্টে দেওয়া সহজ হবে না।

২৭ অক্টোবরের পর কী বদলাবে

নির্বাচনের পর ইসরাইল হয়তো এমন একটি সরকার পাবে, যাদের কথাবার্তা অতটা উগ্র হবে না। তারা ওয়াশিংটন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কথা কিছুটা মন দিয়ে শুনবে। তবে এই পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যদি তারা পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণ, গাজার পুনর্গঠন এবং ইরান নীতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনে। নেতানিয়াহুর পরাজয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। কিন্তু তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভ্যন্তরীণ সংঘাতগুলোর সমাধান করবে না কিংবা ইসরাইলের আন্তর্জাতিক একাকিত্ব দূর করবে না। ইসরাইলের প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে নির্বাচনে কে জিতল, তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ২৭ অক্টোবরের পর বাস্তবে কী ঘটতে যাচ্ছে।

দ্য নিউ অ্যারাব অবলম্বনে জুলফিকার হায়দার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ২ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ২ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় পর পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের ওই হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। বাকী নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জাহাজে হামলা হলেও সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

ওমানের সোহর বন্দরের কাছে নোঙর করা ছিল ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজ। নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ১১ অক্টোবর জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ দু’জন ভারতীয় নাবিক। তাদের মধ্যে বাকি ন’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একই দিনে ‘এমটি ভালথেরা’ নামে আরো একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ওই জাহাজে অজ্ঞাত পরিচয়ের কোনো বস্তু আঘাত হানে। এর ফলে জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে, অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%