ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য প্রধান: প্রকৃতি কোনো সীমান্ত মানে না


জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য প্রধান: প্রকৃতি কোনো সীমান্ত মানে না

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজেট সংকট—এমন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেই জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক সম্মেলন কপ১৭ শুরু হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রধান অ্যাস্ট্রিড শোমেকার জানিয়েছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এই সম্মেলনে পড়বে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকৃতি রক্ষায় দেশগুলোকে মতপার্থক্য দূরে রেখে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে শুরু হবে এই সম্মেলন, যা প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে জোরদার করা।

আরও পড়ুন: এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের (সিবিডি) নির্বাহী সচিব শোমেকার কানাডার মন্ট্রিল থেকে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি সরলভাবে বিষয়টি দেখতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনাতেও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃতির ধ্বংস ঠেকানোর অঙ্গীকার পূরণে পিছিয়ে পড়া প্রায় ২০০টি দেশকে ইয়েরেভেন সম্মেলনে নতুন করে অগ্রগতির পথ খুঁজতে হবে।

চার বছর আগে নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলোর অধিকাংশই এখনো নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, স্থলভাগ ও সমুদ্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করা।

তবে শোমেকার সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশগুলো মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কঠিন পরিস্থিতিতেই বহুপক্ষীয় সহযোগিতার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয়। নানা বাধা সত্ত্বেও আমরা সব সময়ই সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পেয়েছি।’

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা

-প্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রাধিকারের চাপ-

২০২২ সালে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ প্রকৃতি রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি। দেশটি জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশনের সদস্য নয় এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনাতেও অংশ নেয় না।

এমনকি ইয়েরেভেনের প্রকৃতি সম্মেলন কিংবা আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এবং জ্বালানি ও পণ্যের উচ্চমূল্য—এসব বিষয় দুই সম্মেলনেই আলোচনা প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চার দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই

শোমেকার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত চলছে। অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারগুলোর মনোযোগ ও সম্পদের ওপর নানা প্রতিযোগী চাহিদা তৈরি হয়েছে।’

তবে তিনি মনে করেন, ‘প্রকৃতি এমন একটি বিষয়, যা রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না।’

খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

ইয়েরেভেন সম্মেলনের আগে শোমেকারের দপ্তর ২০৩০ সালের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিশ্ব কতটা এগিয়েছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত আট সন্ত্রাসী নিহত

তিনি অগ্রগতির চিত্রকে ‘মিশ্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, তবে তা ধীরগতির এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না।

শোমেকার বলেন, ‘কোনো লক্ষ্য অর্জিত হবে কি হবে না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারি, সব লক্ষ্য অর্জন করা এখনো সম্ভব—কিন্তু সে জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচনের মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব ও উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


ইসরাইলের নির্বাচনের মধ্যপ্রাচ্যের উপর প্রভাব ও উদ্বেগ

আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসরাইলি নীতিতে যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে, তা সম্ভবত বাস্তবায়িত হবে না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় জয়ী হলে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি দলের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট বা বিরোধী দলের অন্যান্য নেতারা ক্ষমতায় এলে ইসরাইলের কথাবার্তা ও মনোভাব কিছুটা নমনীয় হতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার পথও কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের প্রধান রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনা অনেকটাই এক। তাই এই নির্বাচন তেল আবিবের সামগ্রিক আঞ্চলিক নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হচ্ছে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর তিন বছর কেটে গেছে। দেশটি এখনো যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। একাধিক পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ঘটনাবলির কারণে জর্ডান এবং মিসরের সঙ্গে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। তবে এই নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ভূমিকা কী হবে, সে সম্পর্কে দুই ভিন্নধারার বিকল্প ভোটারদের সামনে নেই। নেতানিয়াহুকে হারানোর সুযোগ বিরোধীদের সামনে রয়েছে, তবে বিরোধী শিবিরের প্রধান নেতাদের চিন্তা-ভাবনা প্রায় এক। সামরিক শক্তি প্রয়োগ, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসকে হুমকি মনে করা এবং ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়ে তাদের মধ্যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই।

অতএব, কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, সেই প্রশ্নটি মোটেও গুরুত্বহীন নয়। নেতানিয়াহু বর্তমানে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন-গভিরের মতো উগ্র ডানপন্থি শরিকদের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই শরিকদের প্রভাব তাদের ভোটের হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। তাদের চাপের কারণে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করা এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়গুলো এখন সরকারের মূল নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতানিয়াহু পুনরায় জয়ী হলে এ ধরনের উগ্রপন্থি শক্তির রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও বাড়বে।

তবে নেতানিয়াহু পরিবর্তিত হলে যে ইসরাইলের পুরো কৌশল বদলে যাবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। যে কৌশলের কারণে ইসরাইল আজ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে, তা হয়তো নেতানিয়াহু না থাকলেও বহাল থাকবে। আইজেনকোট, বেনেট বা বিরোধী দলের অন্য কোনো নেতার নেতৃত্বাধীন সরকার হয়তো উগ্র ডানপন্থিদের ওপর অতটা নির্ভরশীল হবে না। তারা আমেরিকার চাপকে বেশি গুরুত্ব দেবে এবং বক্তব্যে কিছুটা সতর্ক থাকবে। নেতানিয়াহু-পরবর্তী সরকার হয়তো ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। গাজার পুনর্গঠনে তারা হয়তো আরও বেশি সহযোগিতার হাত বাড়াবে এবং জর্ডান ও মিসরকে কিছুটা কূটনৈতিক স্বস্তি দেবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হিজবুল্লাহর হুমকি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মতো বড় বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালের ‘ওসলো চুক্তি’র সময় থেকে ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতি ডান দিকে সরে গেছে। নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় এলেও ইসরাইলি নীতির ধরন ও কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আসবে। মূল দিকনির্দেশনা একই থেকে যাবে। সুইডিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক অ্যারন লুন্ডের মতে, নেতানিয়াহুর উত্তরসূরিরাও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একই হাতিয়ার ব্যবহার করে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা করবেন। ইসরাইল তখনো দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার চেষ্টা করবে, শত্রুদের দুর্বল করতে চাইবে এবং যেকোনো ধরনের ছাড়ের বিনিময়ে চড়া মূল্য দাবি করবে। লুন্ড ইউনিভার্সিটির ড. রুজবে পার্সিও এ বিষয়ে একমত। তার মতে, আইজেনকোট, বেনেট বা লাপিদের মতো প্রার্থীরা শুধুমাত্র সামরিক কৌশলের খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক করেন। যুদ্ধের মূল কৌশল বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের মনে কোনো প্রশ্ন নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সরকারগুলোও ভালো করেই বোঝে যে প্রধান প্রধান ইস্যুতে সব প্রার্থী একই পথ অনুসরণ করবেন।

গাজা ও পশ্চিমতীর

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, স্মোতরিচ ও বেন-গভিরের প্রভাবমুক্ত নেতানিয়াহু-পরবর্তী কোনো সরকারের কাজের পার্থক্য গাজায় দেখা যেতে পারে। এমন একটি সরকার গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় আরও বেশি সহযোগিতা করতে রাজি হতে পারে। বর্তমান অচলাবস্থা টিকিয়ে রাখার চেয়ে তারা হয়তো ফিলিস্তিনিদের কোনো একটি প্রশাসনের হাতে শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেবে। ওয়াশিংটন, কায়রো বা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের চাপের প্রতিও হয়তো সেই সরকার সাড়া দেবে। তবে এই পরিবর্তনের একটি সীমা থাকবে। হামাসের অস্ত্র সংবরণ, ইসরাইলের নিজস্ব নিরাপত্তার দাবি এবং গাজার শাসনব্যবস্থার মতো জটিল প্রশ্নের সমাধান করা মোটেও সহজ নয়। ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ইসরাইলের মূলধারার রাজনীতিকদের নেই। নতুন সরকার হয়তো উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে, তবে তারা সামরিক নিয়ন্ত্রণ শেষ করবে না বা মূল সংঘাতের অবসান ঘটাবে না।

পশ্চিমতীরের ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি আরও কঠিন। নেতানিয়াহুর আমলে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। মূল দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, পরোক্ষভাবে ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলে তাদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা। কম ডানপন্থি একটি সরকার হয়তো এসব নীতি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা কমিয়ে দেবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। কিন্তু তারা দখলদারিত্বের অবসান ঘটাবে না। এমনকি বিরোধী কোনো নেতাকেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সমর্থনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে না।

জর্ডানের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

পশ্চিমতীরের এই ক্রমাবনতি জর্ডানকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে। জর্ডান নদীর ওপার থেকে ফিলিস্তিনিরা দলে দলে বিতাড়িত হলে তা জর্ডানের রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কিংস কলেজ লন্ডনের ড. রব গেইস্ট পিনফোল্ড যেমনটি মনে করিয়ে দিয়েছেন, উগ্রপন্থি নীতি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করার ঘটনা জর্ডানকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তাদের ভয়, ইসরাইল হয়তো পুরো পশ্চিমতীর দখল করে নেবে এবং ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দেবে। এর ফলে যে নতুন শরণার্থী সংকট তৈরি হবে, জর্ডানের বর্তমান দুর্বল অর্থনীতির পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। আম্মান এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ভাবছে, পরবর্তী ইসরাইলি সরকার পশ্চিমতীরকে ধ্বংসের শেষ সীমা থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না।

মিসরের মূল অবস্থান

গাজায় যুদ্ধের কারণে সীমান্তে যেন নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় মিসর। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়িয়ে মিসরের সিনাই উপদ্বীপে ঠেলে দেওয়ার কোনো পদক্ষেপকে কায়রো একেবারেই বরদাশত করবে না। এটি তাদের চূড়ান্ত সীমারেখা। পাশাপাশি মিসরীয় কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী ও পুনর্গঠনকারী হিসেবে নিজেদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ধরে রাখতে চান। তুলনামূলক কম উগ্র ইসরাইলি সরকার কায়রোকে কাজ করার বাড়তি সুযোগ করে দিতে পারে। কিন্তু গাজার নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত মিসরের সীমানায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

ইরান ও হিজবুল্লাহ

ইরানের মোকাবিলা করা এবং হিজবুল্লাহকে দুর্বল করে ফেলা—এ দুই বিষয়ে ইসরাইলের ভেতরে দলমত-নির্বিশেষে সবাই একমত। নেতানিয়াহু-পরবর্তী সরকার হয়তো ওয়াশিংটনের কথা একটু বেশি শুনবে অথবা রণকৌশলে কিছুটা সংযম দেখাবে। কিন্তু ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার মূল লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসবে না। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তেহরান নেতানিয়াহুর পরাজয়কে স্বাগত জানালেও গোপনে হামলা চালানো বা মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ইসরাইলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করে না।

ওয়াশিংটন অনুঘটক

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের ওপর। উগ্র ডানপন্থিদের ছাড়া একটি সরকার গঠন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করা অনেক সহজ হবে। তারা আমেরিকার কূটনৈতিক প্রস্তাবেও বেশি সাড়া দেবে। পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা হয়তো কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে ইসরাইল সম্পর্কে মার্কিন জনগণের মনোভাবে একধরনের স্থায়ী পরিবর্তন এসে গেছে। তেল আবিবে শুধু সরকার বদলালেই সেই পরিবর্তন রাতারাতি উল্টে দেওয়া সহজ হবে না।

২৭ অক্টোবরের পর কী বদলাবে

নির্বাচনের পর ইসরাইল হয়তো এমন একটি সরকার পাবে, যাদের কথাবার্তা অতটা উগ্র হবে না। তারা ওয়াশিংটন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কথা কিছুটা মন দিয়ে শুনবে। তবে এই পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যদি তারা পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণ, গাজার পুনর্গঠন এবং ইরান নীতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনে। নেতানিয়াহুর পরাজয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। কিন্তু তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভ্যন্তরীণ সংঘাতগুলোর সমাধান করবে না কিংবা ইসরাইলের আন্তর্জাতিক একাকিত্ব দূর করবে না। ইসরাইলের প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে নির্বাচনে কে জিতল, তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ২৭ অক্টোবরের পর বাস্তবে কী ঘটতে যাচ্ছে।

দ্য নিউ অ্যারাব অবলম্বনে জুলফিকার হায়দার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ২ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ২ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় পর পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের ওই হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। বাকী নয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জাহাজে হামলা হলেও সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

ওমানের সোহর বন্দরের কাছে নোঙর করা ছিল ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজ। নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ১১ অক্টোবর জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ দু’জন ভারতীয় নাবিক। তাদের মধ্যে বাকি ন’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একই দিনে ‘এমটি ভালথেরা’ নামে আরো একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ওই জাহাজে অজ্ঞাত পরিচয়ের কোনো বস্তু আঘাত হানে। এর ফলে জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে সেখানে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে, অবিলম্বে এই ধরনের হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন প্যারাগুয়ে ও বেলিজের দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


চীন প্যারাগুয়ে ও বেলিজের দুই মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে

প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন, কারণ তারা তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে।

বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশের মধ্যে প্যারাগুয়ে ও বেলিজ দুটি দেশ, যারা তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে আসছে। চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের একটি প্রদেশ এবং তাইওয়ানের আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার নেই। তবে তাইওয়ানের সরকার চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এই নিষেধাজ্ঞাকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাধারণত তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর মন্ত্রীরা চীন সফর করেন না। এর আগে বেইজিং পশ্চিমা রাজনীতিকদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যারা তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্যারাগুয়ে ও বেলিজের কিছু রাজনীতিক নিজেদের দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘চীনবিরোধী’ আচরণ করেছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত দুটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুই মন্ত্রীকে হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশের ভিসা প্রদান করা হবে না। এছাড়া, চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তাদের সঙ্গে ব্যবসা, সহযোগিতা বা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

গত মাসে বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকার সঙ্গে বৈঠক করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং। এর আগে জুনে প্যারাগুয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী গুস্তাভো ভিয়ালাতের সঙ্গে বৈঠক করেন তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি।

চীন তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। বেইজিংয়ের লক্ষ্য হলো, এসব দেশ যেন তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্ক শেষ করে হন্ডুরাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে দুঃসংবাদ, রাতের গরম বাড়তে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে দুঃসংবাদ, রাতের গরম বাড়তে পারে

রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে দুপুরের সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ রাতে গরমের প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া, উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৬ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%