ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল


শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের ঘটনার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনা প্রধান আজিজসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগটি জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান।

সেদিন এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উল্লেখ্য, উক্ত মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন আসামি হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সাথে সম্পর্কিত সংঘর্ষে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ছয়টি জাহাজ ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)। বিষয়টি সোমবার ভোরের দিকে ঘটে বলে জানান দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

আইআরআইবির প্রতিবেদনে এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ পথে অতিক্রমের চেষ্টা করে চলছিল। এ সময় তারা নিজেদের নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাজগুলো ওই পথ ব্যবহার করে চলাচলের মাধ্যমে এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টায় ছিল।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আটক ছয়টি জাহাজের মধ্যে একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাকি পাঁচটি জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে হয়ে আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে আইআরআইবি জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, ক্রুদের পরিচয় কিংবা দুর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির সূত্র আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত নৌপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেই নির্ধারিত পথের বাইরে অন্য যেকোনো রুট বিপজ্জনক এবং চলাচলের অনুপযোগী বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, ইরানের দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যাচাইও এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

তুরস্কের এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর বোদ্রুম, যার প্রাচীন নাম ছিল হ্যালিকারনাসাস। বর্তমানে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই শহর ছিল এক শক্তিশালী রাজবংশের রাজধানী। এখানেই নির্মিত হয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম, যার পেছনে রয়েছে এক শোকাবহ রাজকীয় প্রেমের গল্প।

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে কারিয়ার শাসক রাজা মসলাস (মাউসোলাস) এবং তার বোন ও স্ত্রী দ্বিতীয় আরটেমিসিয়া এ অঞ্চল শাসন করতেন। সে সময় রাজপরিবারে ক্ষমতা ও বংশীয় ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ অস্বাভাবিক ছিল না।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৩ সালে মসলাসের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েন আরটেমিসিয়া। স্বামীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তিনি গ্রিক, মিসরীয় ও লিসিয়ান স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এক বিশাল সমাধি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই সমাধিই পরে ইতিহাসে হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম নামে পরিচিতি পায় এবং প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

ইতিহাস ও কিংবদন্তি অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুশোকে আরটেমিসিয়া নাকি মদের সঙ্গে মসলাসের ভস্ম মিশিয়ে পান করেছিলেন। যদিও এ ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি যুগ যুগ ধরে আলোচিত একটি কাহিনি হিসেবে টিকে আছে। মসলাসের মৃত্যুর মাত্র দুই বছর পরে আরটেমিসিয়াও মারা যান এবং অসমাপ্ত সমাধির কাজ পরে কারিগররা শেষ করেন।

স্থানীয় গাইডদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিশাল স্থাপত্য নির্মাণে অর্থ জোগাড় করতে সে সময় নানা ধরনের কর আরোপ করা হয়েছিল। প্রচলিত একটি কাহিনিতে বলা হয়, পুরুষদের লম্বা চুলের ওপরও কর বসানো হয়েছিল। যারা কর দিতে চাইতেন না, তাদের চুল কেটে নেওয়া হতো এবং সেই চুল পারস্যের অভিজাতদের জন্য পরচুলা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। তবে এ তথ্যের পক্ষে শক্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত।

পরবর্তী সময়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ শতকের মধ্যে ধারাবাহিক ভূমিকম্পে মসলিয়ামটি ধ্বংস হয়ে যায়। উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক চার্লস নিউটন এর ধ্বংসাবশেষ খনন করে গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য ও স্থাপত্যাংশ উদ্ধার করেন, যার অনেকগুলো বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের কিছু মার্বেল পাথর ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয় বোদ্রুম ক্যাসল, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এক ভাই-বোনের রাজকীয় বিবাহ, গভীর শোক এবং অমর স্মৃতির প্রতীক হয়ে নির্মিত এই মসলিয়াম আজ আর অবশিষ্ট নেই। তবে এর ইতিহাস এখনো বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপত্যগাথা হিসেবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেন। একপর্যায়ে মহসিন ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত হননি এবং পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং ফের প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু যখন ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে তাকে ভয়ভীতি দেখান ও বলেন যে তার কাছে পিস্তল রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান যে, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তার মেসের দিকে নিয়ে যেতে রাজি হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। কান্নাকাটির দীর্ঘ সময় পর তাকে মেসে পৌঁছাতে সাহায্য করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথাও বলেন। এর পাশাপাশি, অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদনেৎ করা হবে এবং সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এছাড়া আমাদের জানা মতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে হবে যদি প্রয়োজন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে কাঁচা তুলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তখন এই কাঁচা তুলা ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত ছিল।

ভারতের মুম্বাই থেকে সোলাপুর ও নাগপুরের মতো বড় সুতি উৎপাদনকারী অঞ্চল ডেকান মালভূমিতে সরাসরি যাতায়াতের প্রধান বাধা ছিল দুর্গম সহ্যাদ্রি পর্বতমালা বা ভোর ঘাট।

এই বাণিজ্যিক পথ সুগম করতে এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনে, কলকাতা, মাদ্রাজ ও দিল্লির সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাহাড় কেটে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে।

১৮৫২ সালে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে’র চিফ রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জেমস জন বার্কলে দীর্ঘ চার বছর জরিপ চালিয়ে ও ৩ হাজার মানচিত্র তৈরি করে ভোর ঘাটের জটিল পথটি চূড়ান্ত করেন।

প্রকল্পটির পরিধি ছিল বিশাল—২৫টি সুড়ঙ্গ, ৮টি খিলানযুক্ত ভায়াডাক্ট এবং হাত দিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট খাড়া পাথর কাটার মতো কঠিন কাজ।

১৮৫৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডে ফিরে যান বার্কলে।

পরবর্তীতে ঠিকাদার উইলিয়াম ফ্যাভিয়েল এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেন, যার অধীনে কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের নানা তথ্য সামনে আসে।

খাড়া পাহাড়ে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন ২৫ থেকে ৪২ হাজার শ্রমিক, যাদের বড় একটি অংশ ছিল নারী ও শিশু।

ম্যালেরিয়া, কলেরা, খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া এবং খনি বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনায় প্রকল্পের আট বছরে আনুমানিক ২৪ হাজার শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়।

১৮৫৯ সালে মাসের পর মাস বকেয়া মজুরি না দেওয়া এবং পরবর্তীতে তা অর্ধেক করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে মিস্টার কারেন নামের এক ব্রিটিশ পরিদর্শক নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে নতুন ঠিকাদার সলোমন ট্রেডওয়েল কলেরায় মারা গেলে তার স্ত্রী অ্যালিস ট্রেডওয়েল প্রকল্পের দায়িত্বভার নেন।

অবশেষে হাজারো অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ১৮৬৩ সালের এপ্রিলে ভোর ঘাট রেলপথের কাজ শেষ হয়।

বোম্বাইয়ের ততকালীন গভর্নর স্যার বার্টল ফ্রেরে এটিকে ভারতের ‘রেল যুগের সূচনা’ হিসেবে ঘোষণা করলেও যে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিকের রক্ত এবং ঘামে এই ইতিহাস লেখা হয়েছিল, তারা রয়ে গেছেন অনালোচিত ও উপেক্ষিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%