শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৩ পি.এম
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপের কোনো দেশের সঙ্গে রাশিয়া যুদ্ধ বা সংঘাতে জড়ানোর কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছে না।
সম্প্রতি ইউরোপের কিছু দেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বিভিন্ন সতর্কবার্তা প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি এই মন্তব্য করেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন জানান, উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার কাছে কোনো বাস্তব কারণ নেই। ইউরোপের যেসব দেশ মনে করছে যে রাশিয়া তাদের আক্রমণ করতে পারে এবং সেজন্য তাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে, সেই ধারণার তিনি সমালোচনা করেন। পুতিন জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতা বা যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশ তাদের মাটিতে গোপন রুশ হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। চলতি মাসের শুরুতে জার্মানি ও পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন বা হামলার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছিল।
এদিকে, রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেন হামলা চালানোর পর শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে মস্কো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। পুতিন জানান, আলোচনার প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ রয়েছে, তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পর তারা খুব বুঝেশুনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সূত্র: এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালীন ভারতীয় জিরা ও ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
আজ শনিবার কলারোয়া উপজেলার কাঁকডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন দুটি সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মালামালের মোট বাজার মূল্য আনুমানিক তিনলাখ ৫৫ হাজার টাকা।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাঁকডাঙ্গা বিওপির দুটি বিশেষ অভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৫ ও ৭ আরবি থেকে আনুমানিক দুইশ’ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ও ভাদিয়ালি নামক স্থান থেকে ভারতীয় জিরা ও ওষুধ জব্দ করে। জব্দকৃত জিরা ও ওষুধের বাজার মূল্য আনুমানিক তিনলাখ ৫৫ হাজার টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, কাস্টমসে জব্দকৃত ভারতীয় জিরা ও ওষুধ জমা দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী ক্ষমতায় থাকবে যতদিন এই ম্যান্ডেটের মেয়াদ থাকবে। "কোন হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ হবে না।" এই মন্তব্যটি তিনি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় করেছেন।
মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বলেন, "যারা রাসুল কিংবা নবীদের নিয়ে বিতর্কিত কথা বলে, তারা কেমন ইসলাম চর্চা করে? জামায়াতে ইসলামী প্রকৃতপক্ষে ইসলাম নয়।" বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা হলে আমরা জনগণের কাছে গেছি। আপনারা ধৈর্য ধরেছেন এবং আল্লাহর রহমতে আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর সিরাজগঞ্জের মাটিতে আমার এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যারা আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়নি। আওয়ামী লীগ আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অত্যাচার করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়-অত্যাচারের পাল্লা ভারী হলে জুলাই বিপ্লব ঘটেছিল। "আমি জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ ও আত্মনিবেদিত সন্তানদের লাল সালাম জানাই।"
মন্ত্রী বলেন, "এই সন্তানরা বাংলাদেশকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।" বিএনপির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব ওয়াদা করেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আমিরুল ইসলাম খান আলিম এমপি, সেলিম রেজা এমপি, ও আয়নুল হক এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াই শুরু হয় ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে"—এভাবে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
শনিবার রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক।
বিভাগীয় কমিশনার মন্তব্য করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং এটি সবার দায়িত্ব। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘর ও আশপাশে পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিসি ফরিদা বলেন, "তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে।"
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে স্কুলসংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডিইউডিএস-অ্যাকশনএইড বার্ষিক বিতর্ক উৎসবের সূচনা হয়েছে।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এ বিতর্ক উৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. আমিরুস সালাত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম এবং অ্যাকশন এইডের নাজমুল আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণ তৈরি করা প্রয়োজন। পদ-পদবী বা ক্ষমতার পিছনে না ছুটে তাদের আত্মমর্যাদাশীল ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও যুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটিকে বিতর্ক উৎসব আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
নিয়মিত বিতর্ক চর্চার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। যুক্তির মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের পাশাপাশি ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে। সৎ, দেশপ্রেমিক, দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজ এই বিতর্ক উৎসবে অংশগ্রহণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ