শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী ক্ষমতায় থাকবে যতদিন এই ম্যান্ডেটের মেয়াদ থাকবে। "কোন হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ হবে না।" এই মন্তব্যটি তিনি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় করেছেন।
মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বলেন, "যারা রাসুল কিংবা নবীদের নিয়ে বিতর্কিত কথা বলে, তারা কেমন ইসলাম চর্চা করে? জামায়াতে ইসলামী প্রকৃতপক্ষে ইসলাম নয়।" বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা হলে আমরা জনগণের কাছে গেছি। আপনারা ধৈর্য ধরেছেন এবং আল্লাহর রহমতে আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর সিরাজগঞ্জের মাটিতে আমার এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যারা আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়নি। আওয়ামী লীগ আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অত্যাচার করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়-অত্যাচারের পাল্লা ভারী হলে জুলাই বিপ্লব ঘটেছিল। "আমি জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ ও আত্মনিবেদিত সন্তানদের লাল সালাম জানাই।"
মন্ত্রী বলেন, "এই সন্তানরা বাংলাদেশকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।" বিএনপির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব ওয়াদা করেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আমিরুল ইসলাম খান আলিম এমপি, সেলিম রেজা এমপি, ও আয়নুল হক এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াই শুরু হয় ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে"—এভাবে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
শনিবার রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক।
বিভাগীয় কমিশনার মন্তব্য করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং এটি সবার দায়িত্ব। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘর ও আশপাশে পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিসি ফরিদা বলেন, "তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে।"
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে স্কুলসংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডিইউডিএস-অ্যাকশনএইড বার্ষিক বিতর্ক উৎসবের সূচনা হয়েছে।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এ বিতর্ক উৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. আমিরুস সালাত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম এবং অ্যাকশন এইডের নাজমুল আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণ তৈরি করা প্রয়োজন। পদ-পদবী বা ক্ষমতার পিছনে না ছুটে তাদের আত্মমর্যাদাশীল ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও যুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটিকে বিতর্ক উৎসব আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
নিয়মিত বিতর্ক চর্চার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। যুক্তির মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের পাশাপাশি ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে। সৎ, দেশপ্রেমিক, দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজ এই বিতর্ক উৎসবে অংশগ্রহণ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।
আগামীকাল ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদীর ধারা, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে-ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
তিনি জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি সরকারি-বেসরকারি সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।’
রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের পেশাজীবীদের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক। চট্টগ্রামের আইনজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে চেম্বারের যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আজ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ সমাপনী সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা দেশের আইন প্রাঙ্গণ। তাই ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মীর হেলাল নবীন আইনজীবীদের জন্য কিছু পরামর্শও প্রদান করেন, নিজের পেশাগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে। তিনি বলেন, ‘আইনজীবী পেশা হিসেবে খুব সহজ, আবার খুব কঠিন। আপনারা আজকে যে যাত্রা শুরু করেছেন, সেটা আমি শুরু করেছিলাম ২০০৪ সালে। আমার সিনিয়র ছিলেন বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন আইনজীবী, যাকে ‘মাস্টার অব ফ্যাক্ট’ বলে সবাই চিনত খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। আমি যখন উনার সঙ্গে জয়েন করলাম, আমাদের সময় ল-ইয়ার্সদের কোর্স তো অত ইনটেনসিভ না। মোটামুটি একটা কোর্স ছিল। চার বছর ল’ পড়ার পর বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিয়ে আমরা ঢুকেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কয় বছর আইন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, একটা অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের শেয়ার করতে পারি—যত ট্রেনিং-ই হোক, যত রিসার্চের ব্যবস্থাই করা হোক, সবচেয়ে বড় ট্রেনিং এবং রিসার্চ হচ্ছে- যদি আপনি সিনিয়রের সঙ্গে থেকে তিনি কি কাজ করছেন, তা শিখতে পারেন, তাকে ফলো করতে পারেন এবং তিনি যে কেসগুলো ডিল করেন, এগুলো যদি আপনি নিজেই রিসার্চ করেন, এর বাইরে আর কোনো রিসার্চের প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রফেশনে ডিসিপ্লিনের কোনো বিকল্প নাই। যেহেতু আমি নিজে উকিল, আমার বাবাও এই বারেরই একজন সিনিয়র আইনজীবী। আমি দেখেছি, নিয়মানুবর্তিতা এবং সততা যদি না থাকে, এই পেশায় খুব বেশি দূর এগোনো যায় না। আর দুর্নীতিপরায়ণ হলে, এটা আসলে পেশার মধ্যেই পড়ে না। ওইটা অন্য কিছু হবে, হয়তো আর্থিকভাবে আপনি লাভবান হবেন। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে আপনি যে জ্ঞান বা প্রজ্ঞাবান, সমাজের মানুষ আপনাকে যে ভাবে মনে করে, সেটা হয়ত আপনি অর্জন করতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানের শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নবীন আইনজীবীদের হাতে প্রশিক্ষণ সমাপনী সনদপত্র তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জন করে চলতি বছর ১১১৩ জন নবীন আইনজীবী চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ