মোঃ সজিব হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা
০৯:০৪ পি.এম
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে পাবনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রাপ্ত শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের থানা রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী জয়কালী বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে পাবনা সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ শাড়ি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম বিশু।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মুন্টু এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মাঝে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রাপ্ত শাড়ি বিতরণের এ উদ্যোগ গ্রহণ করে পাবনা সদর উপজেলা প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মাঝে শাড়ি বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম (পিপিএম-সেবা)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে তিনি মধুপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, কালিহাতী ও ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং মধুপুর থানার উপপরিদর্শকেরা।
এ সময় মধুপুর পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ চন্দ্র ঘোষ, সদস্যসচিব মানিক চন্দ্রসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ১ নম্বর পশ্চিম চেচরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৫০ কেজি সরকারি রড বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও অভিযোগকারীর দাবি, ১০ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সল রডগুলো জব্দ করলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা বা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামান উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মধ্যে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। এ সম্পর্কের কারণে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তিনি আদালতে মামলা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সল জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিভাগীয় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিদ্যালয়ের রড কীভাবে বিদ্যালয়ের বাইরে বিক্রি হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কাঁঠালিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
*স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা*
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদের সুরক্ষা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
*দ্রষ্টব্য:* ৯৫০ কেজি রড বিক্রির অভিযোগ, জব্দের বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আত্মীয়তার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংবাদটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন যে, অপশক্তিরা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাই কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা উচিত। সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আইজিপি জানান, ঢাকেশ্বরী মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ। সারা দেশে ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের পূজার নিরাপত্তার জন্য ৩ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দশমী পর্যন্ত পূজা সুস্থ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি আবারও বলেন, অপশক্তিরা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
মো. আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, সিসিটিভির মাধ্যমে সবকিছু নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনসাধারণকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় রাখতে হবে; তবেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ক সেমিনার ও সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. জাহিদ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষ যখন চিকিৎসা সেবা নিতে আসে, তখন তাদের ও স্বজনদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল দিকগুলো বুঝিয়ে বলতে হবে। ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানিই ডেঙ্গু মশার মূল উৎপত্তিস্থল। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।"
তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা স্বাস্থ্য দফতর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত সকলকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেখ মো. সাদেক আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সারোয়ার মুর্শেদ, সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং ড্যাব জেলা শাখার সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়া।
এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক, প্রভাষক, মেডিকেল অফিসার, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সেবিকাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এই দিনব্যাপী সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও আগাম প্রতিরোধের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এর আগে মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি এবং আগত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ