প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ১ নম্বর পশ্চিম চেচরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৫০ কেজি সরকারি রড বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও অভিযোগকারীর দাবি, ১০ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সল রডগুলো জব্দ করলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা বা দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামান উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মধ্যে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। এ সম্পর্কের কারণে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তিনি আদালতে মামলা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সল জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিভাগীয় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিদ্যালয়ের রড কীভাবে বিদ্যালয়ের বাইরে বিক্রি হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কাঁঠালিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
*স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা*
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদের সুরক্ষা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
*দ্রষ্টব্য:* ৯৫০ কেজি রড বিক্রির অভিযোগ, জব্দের বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আত্মীয়তার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংবাদটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন