ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লিভারপুলের মাঠে সিটি সমর্থকদের হাতে শত শত কলা


লিভারপুলের মাঠে সিটি সমর্থকদের হাতে শত শত কলা

অ্যানফিল্ডে কাল রাতে বিদ্রূপের ভাষায় লিভারপুল সমর্থকরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা হাজির ছিলেন শত শত ফোলানো কলা নিয়ে।

প্রথমবারের মতো দৃশ্যটি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সিটির সমর্থকদের কয়েক দশকের পুরনো ঐতিহ্য। ক্লাবের কঠিন সময়ের স্মৃতি এবং নিজেদের ফুটবল সংস্কৃতির পরিচয় দিতে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে কলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারা।

১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সিটির সমর্থকদের মধ্যে কলা নিয়ে মাতামাতির সূচনা হয়। তখন সিটির স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদিকে এক সমর্থক মজা করে ডাকেন ‘ইমরে ব্যানানা’ নামে।

আরও পড়ুন: অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে ব্রেন্ডান টেলরের নতুন ইতিহাস

এরপরের ম্যাচে আরেক সমর্থক মাঠে নিয়ে আসেন একটি ফোলানো কলা। সেখান থেকেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী রীতি, যা আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশকজুড়ে সিটির সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সময়ের সঙ্গে ফোলানো কলা হয়ে ওঠে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক সংস্কৃতির পরিচিত প্রতীক। বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের বাইরে কাটানো কঠিন দিনগুলোতে এই প্রতীক হয়ে উঠেছিল সমর্থকদের রসবোধ, আবেগ এবং ক্লাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম।

অ্যানফিল্ডে এবার সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছেন সিটির সমর্থকেরা। লিভারপুলের সমর্থকেরা সিটির ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। এর জবাবে অতিথি দলের সমর্থকেরা নিজেদের অতীতের স্মৃতি সামনে এনে গ্যালারিতে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছেন।

ম্যানচেস্টার সিটি সম্প্রতি অনেক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন শঙ্কা জেগেছে, তখন সিটির সমর্থকদের এই কলা প্রদর্শনে ফুটে উঠেছে নিজেদের ইতিহাসকে হাস্যরসের সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা।

আরও পড়ুন: তরুণদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা আসাদুল হাবিব দুলুর

ফোলানো কলাগুলো তাই গ্যালারির সাজসজ্জার অংশ নয়। এগুলো সিটির কঠিন সময়ের স্মৃতি, সমর্থকদের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং প্রতিপক্ষের খোঁচার জবাবে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রতীকও।

মাঠেও দারুণ জবাব দিয়েছে সিটি। প্রিমিয়ার লিগে কাল লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওমান উপকূলে ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, নিখোঁজ ২ ভারতীয় নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


ওমান উপকূলে ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, নিখোঁজ ২ ভারতীয় নাবিক

ওমানের উপকূলে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ফলে দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’-এ ১১ জন ভারতীয় ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে নয়জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ভারতের জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় উল্লেখ করেন, রোববার (১১ অক্টোবর) উত্তর ওমানের সোহর বন্দরের জলসীমায় নোঙর করা অবস্থায় ট্যাংকারটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

হামলার পর নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় কোস্ট গার্ডের সহায়তায় এই অভিযানকে জোরদার করা হয়েছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালিতে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী আরেকটি ট্যাংকার ‘এমটি ভালথেরা’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই জাহাজেও ১১ জন ভারতীয় ক্রু সদস্য ছিলেন। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে ছিলেন।

ভারতের জাহাজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজে নাবিক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম শীর্ষে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে সক্রিয় নাবিকের সংখ্যা তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশসহ ৩১ মুসলিম দেশের পাইলটদের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় এয়ার ফ্রান্সের সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


বাংলাদেশসহ ৩১ মুসলিম দেশের পাইলটদের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় এয়ার ফ্রান্সের সমর্থন

ইসরায়েলের নতুন বিতর্কিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ফরাসি বিমান সংস্থা ‘এয়ার ফ্রান্স’ বাংলাদেশসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘মিডিয়াপার্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিডল ইস্ট আই জানাচ্ছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্রুদের না পাঠানোর জন্য ইসরায়েলি শর্ত মেনে নিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, ইরান এবং পাকিস্তানসহ ৩১টি দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ফরাসি কর্মীরা, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

যদিও এই নির্দেশনায় কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত জানানোর নির্দেশনা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে কথা না শুনলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে বিমান সংস্থাটি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল নতুন নিয়ম কার্যকর করে। এ ঘটনার পর ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। একটি ইসরায়েলি এয়ারলাইন প্রায় ২,৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাই করা শুরু করেছে। অন্যদিকে, মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হলেও এয়ার ফ্রান্সের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় ৯৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


খুলনায় ৯৬৪ পূজামণ্ডপে ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনার ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে মোট ৫৭৮.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সরকার।

জেলার ৯টি উপজেলা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার সকল মণ্ডপে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বর্তমানে চলছে।

মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে আগামী ১৬ অক্টোবর শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় শাখাগুলোর সমন্বয়ে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

দুর্গোৎসব শুরুর পূর্বেই প্রতিটি মণ্ডপে বরাদ্দকৃত চাল সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু সরকারের এই সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি এই বরাদ্দ সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসব পালনে বড় ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। একইসঙ্গে, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার সংস্থাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর ৭৭টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, শনিবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই নগদ অর্থ সহায়তা সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। নগরীর প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উৎসব পালিত হতে পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সবসময় পাশে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে খুলনা অঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌরবিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়, মিলবে পরিবেশগত সুফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


সৌরবিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়, মিলবে পরিবেশগত সুফল

॥ সৈয়দ শুকুর আলী শুভ ॥

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৪১৫ মেগাওয়াট, যার মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত ১ হাজার ২০০ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট। বাকি ৩৭৭ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট গ্রিডের বাহিরে রয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে জানান, ‘সৌর প্যানেল ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপন করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অন্তত ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এতে সরকারের কোষাগারের ওপরও চাপ কমবে। যেসব পরিবারের বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি, তারাও বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় গ্রিডের বিদ্যুতের জন্য শিল্পকারখানাগুলোকে সাধারণত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ১১ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৬ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫-৬ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৪-৫ টাকা। আর ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ৮-৯ টাকা।

শফিকুল আলম বলেন, সরকার জমি, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা দিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ৬ টাকা ৫০ পয়সা। এসব সুবিধা না থাকলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ কিনতে হয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয়, অর্থায়নের ধরন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পেতে পারেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ ব্যয় ২৭ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয় আনুমানিক ৭ টাকা ৯ পয়সা।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে অবস্থিত মতি অ্যাগ্রিভোলটাইক প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাসসকে জানান, নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সেচ ও কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দিতে প্রকল্পটিতে মোট ৩৫ দশমিক ৩ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের জন্য ২৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আর সেচপাম্প চালানো ও কার্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে স্থাপন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার আরেকটি ব্যবস্থা। প্রতিদিন গড়ে যে বিদ্যুত উৎপাদিত হয় সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে এখানে কোন ধরণের লোডশেডিং হয় না।’

শহিদুল ইসলাম জানান, সৌর প্যানেল ব্যবস্থা স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এর আনুমানিক আয়ুষ্কাল ২৫ বছর।

তিনি আরও বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যয় বাদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের খরচ আনুমানিক সাড়ে ৩ টাকা। ভারত ও পাকিস্তানে এ ব্যয় প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকার মধ্যে।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো বাড়ির ছাদে এমন একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে, যার সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় নয় ঘণ্টার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান, তাহলে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করে ২০ বছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের আনুমানিক ব্যয় ৭ টাকা ৪৩ পয়সায় নামিয়ে আনতে পারে।

এদিকে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ব্যয় কমানো ও এর প্রসার বাড়াতে সরকার সম্প্রতি নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ সুবিধা ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে সরকার প্রণোদনা চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা মিলবে।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়াম সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে।’

হাসান মেহেদী বলেন, বিশেষজ্ঞরা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের আরও জোরালো উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদি জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা দরে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১২টি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি করেছে বিপিডিবি।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে গ্রিড-সংযুক্ত ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।’

সৌরবিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও পরিবেশদূষণ কমাতে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকার নতুন বাণিজ্যিক, শিল্প ও সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে, যেসব স্থাপনার বৈদ্যুতিক লোড ১০ কিলোওয়াটের বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ শর্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্পসুদে অর্থায়ন চালুর জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শহরের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের অর্থায়ন কার্যকর হতে পারে।

তবে প্রতি ইউনিটে ৫-৬ টাকা সাশ্রয়ের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%