প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অ্যানফিল্ডে কাল রাতে বিদ্রূপের ভাষায় লিভারপুল সমর্থকরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা হাজির ছিলেন শত শত ফোলানো কলা নিয়ে।
প্রথমবারের মতো দৃশ্যটি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে সিটির সমর্থকদের কয়েক দশকের পুরনো ঐতিহ্য। ক্লাবের কঠিন সময়ের স্মৃতি এবং নিজেদের ফুটবল সংস্কৃতির পরিচয় দিতে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে কলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারা।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সিটির সমর্থকদের মধ্যে কলা নিয়ে মাতামাতির সূচনা হয়। তখন সিটির স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদিকে এক সমর্থক মজা করে ডাকেন ‘ইমরে ব্যানানা’ নামে।
এরপরের ম্যাচে আরেক সমর্থক মাঠে নিয়ে আসেন একটি ফোলানো কলা। সেখান থেকেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী রীতি, যা আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশকজুড়ে সিটির সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
সময়ের সঙ্গে ফোলানো কলা হয়ে ওঠে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক সংস্কৃতির পরিচিত প্রতীক। বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের বাইরে কাটানো কঠিন দিনগুলোতে এই প্রতীক হয়ে উঠেছিল সমর্থকদের রসবোধ, আবেগ এবং ক্লাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম।
অ্যানফিল্ডে এবার সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছেন সিটির সমর্থকেরা। লিভারপুলের সমর্থকেরা সিটির ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। এর জবাবে অতিথি দলের সমর্থকেরা নিজেদের অতীতের স্মৃতি সামনে এনে গ্যালারিতে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটি সম্প্রতি অনেক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন শঙ্কা জেগেছে, তখন সিটির সমর্থকদের এই কলা প্রদর্শনে ফুটে উঠেছে নিজেদের ইতিহাসকে হাস্যরসের সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা।
ফোলানো কলাগুলো তাই গ্যালারির সাজসজ্জার অংশ নয়। এগুলো সিটির কঠিন সময়ের স্মৃতি, সমর্থকদের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং প্রতিপক্ষের খোঁচার জবাবে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রতীকও।
মাঠেও দারুণ জবাব দিয়েছে সিটি। প্রিমিয়ার লিগে কাল লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন