শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হচ্ছে কি উদীয়মান অর্থনীতির জোট 'ব্রিকস' (BRICS)? এই প্রশ্নটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশদ বিশ্লেষণে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মন্তব্য, পশ্চিমা শাসনব্যবস্থাকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও, বিশ্বরাজনীতির 'বহুমেরুকরণ' (Multipolarity) বা বহুমুখী করার ক্ষেত্রে জোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে, ব্রিকস বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনীতির বিশাল পরিধি থাকা সত্ত্বেও, নীতিগত অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর যোগদান এবং সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে এই জোটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের অর্থনৈতিক আকার বিশাল হলেও, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, ডলারের আধিপত্যের কথা বলা হলেও, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনও মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, জোটটির গঠিত 'নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' (NDB) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শর্তহীন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করলেও, এর পরিধি বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের তুলনায় এখনও অনেক সীমিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ব্রিকস কোন পশ্চিমা বা ন্যাটো-বিরোধী সুসংগঠিত সামরিক বা একক ভূরাজনৈতিক জোট নয়। এর মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমা আধিপত্যের পতন নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্থায় বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও মার্কিন-ইসরায়েল হামলা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর বিপরীত অবস্থান ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করেছে। যৌথ বিবৃতি বা একক পরাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জোটের মধ্যে বৈচিত্র্যময় ও দ্বান্দ্বিক জাতীয় স্বার্থ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক শেন বার্জেস এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের সফলতা এই জায়গায় নয় যে তারা রাতারাতি পশ্চিমাকে প্রতিস্থাপন করতে পারছে, বরং তাদের সফলতা এতে যে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি এবং বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করাই এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকের প্রভাব, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ, আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়ার মতো বিভিন্ন কারণে প্রতিহিংসা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের ফলে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের ৩১ মার্চ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত পূর্ববিবাদের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র সাইদুল ইসলাম (সজীব) আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
১৫ মে গারুরিয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে হালিম হাওলাদার নামে একজনের মৃত্যু ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের কারণে বড় ধরনের জখম ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে একই পরিবারের ৪ জন, যার মধ্যে নারীও রয়েছে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।
আগস্টের শেষের দিকে পাদ্রীশিবপুর গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে এক প্রবাসী পরিবারের বৃদ্ধা মহিলা ও তাঁর নাতির ওপর হামলা হয়।
এছাড়া, ২৩ জুন কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে দুই সন্তানের জননী রীমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের সরসী গ্রামের এক মেয়ে, দুই সন্তানের জননী, ঢাকার খিলগাঁওয়ে পরকীয়ার অপবাদে স্বামীর নির্মম আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।
সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবাই ইউনিয়নের কালের কাঠি গ্রামের ফরাজি মার্কেট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল সিকদার নামে এক ভ্যানচালককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখে।
এদিকে, আশঙ্কাজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উপজেলার সর্বত্র। হাত বাড়ালেই সহজলভ্য দ্রব্যের মতো মাদক পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সামাজিকতার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
প্রতিদিনের এই ঘটনাপ্রবাহে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধী শনাক্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করছে।
তবে, একশ্রেণির অপরাধচক্র অপরাধ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ নিরীহ মানুষের মনে ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, "যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী যে হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালের আবহাওয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছে। শরতের আকাশে কখনো সাদা মেঘের ভেলা দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো কালো মেঘের সাথে মাঝারি থেকে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে।
গত আগস্ট মাসে বরিশাল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের ৪.৩% কম ছিল। জুলাই মাসে বরিশালে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২.৬% কম বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে আবহাওয়া বিভাগ বরিশালে ৩শ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, কিন্তু মাসের প্রথম ১০ দিনে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভাদ্রের বড় অমাবস্যার বৃষ্টিপাত নিয়ে বরিশালের কৃষি অঞ্চলের চাষিদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিলেও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে কৃষিযোদ্ধারা ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯০ ভাগেরও বেশি আমন রোপণ সম্পন্ন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই রোপণ সম্পন্ন হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৮.৯০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে, শেষ শ্রাবণের অমাবস্যায় বৃষ্টিপাতের পর মরা কার্তিকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বরিশালের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে এ অঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি কয়েক দফা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং গত দুদিন ধরে তা বিপদসীমার খুব নিকটে রয়েছে। বর্ষা মৌসুম জুড়ে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে।
এই বৃষ্টিপাতের কারণে আমন বীজতলাসহ রোপা আমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি উপ-বিভাগ জানিয়েছে, বরিশালের ১৮টি পয়েন্টের গেজ স্টেশনের মেঘনা, সুরমা, বলেশ্বর, বুড়িশ্বর, কচা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও বিষখালী নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করছে। ফলে কৃষকের দুশ্চিন্তা অব্যাহত রয়েছে।
গত বছর ১ নভেম্বর বরিশাল থেকে বর্ষা বিদায়ের ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ প্রথম বৃষ্টির দেখা মিললেও মাসজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। এপ্রিলে স্বাভাবিকের বেশি বৃষ্টিপাত হলেও মে ও জুন মাসে বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের কম ছিল। জুলাই মাসে স্বাভাবিকের ১২.৬% বেশি বৃষ্টি হলেও আবহাওয়ার বিচিত্র আচরণ বোঝা যাচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগ চলতি মাসে স্বাভাবিকের কম বৃষ্টিপাতের খবর দিয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলে কালো মেঘের সাথে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর আবার শরতের সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানো সাধারণ মানুষের কাছে উপভোগ্য হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাকেরগঞ্জের তুলাতলি নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নে তুলাতলী নদীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্রজ্যোতি বড়াল।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় মো. আলাউদ্দিন (৩৫) নামের একজনকে থানা পুলিশের সহায়তায় হাতেনাতে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায় যে, আটক ব্যক্তি মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে ভাড়া করে কিছু লোক এনেছে। তবে জমির মালিক বা সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে যে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভরপাশা ইউনিয়নের তুলাতলা নদী তীরবর্তী এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে মাসুম (২৫) নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রনি মিয়ার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বরটিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুমকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রনি মিয়া ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাসুমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাদক বিক্রিতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে রনির বাড়ির সামনে মাসুমের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, কয়েকজন মিলে মাসুমকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। কোমরের হাড়েও আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রনি মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় রনির বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রনির বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ