প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হচ্ছে কি উদীয়মান অর্থনীতির জোট 'ব্রিকস' (BRICS)? এই প্রশ্নটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশদ বিশ্লেষণে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মন্তব্য, পশ্চিমা শাসনব্যবস্থাকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও, বিশ্বরাজনীতির 'বহুমেরুকরণ' (Multipolarity) বা বহুমুখী করার ক্ষেত্রে জোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে, ব্রিকস বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনীতির বিশাল পরিধি থাকা সত্ত্বেও, নীতিগত অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর যোগদান এবং সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে এই জোটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের অর্থনৈতিক আকার বিশাল হলেও, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, ডলারের আধিপত্যের কথা বলা হলেও, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনও মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, জোটটির গঠিত 'নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' (NDB) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শর্তহীন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করলেও, এর পরিধি বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের তুলনায় এখনও অনেক সীমিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ব্রিকস কোন পশ্চিমা বা ন্যাটো-বিরোধী সুসংগঠিত সামরিক বা একক ভূরাজনৈতিক জোট নয়। এর মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমা আধিপত্যের পতন নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্থায় বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও মার্কিন-ইসরায়েল হামলা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর বিপরীত অবস্থান ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করেছে। যৌথ বিবৃতি বা একক পরাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জোটের মধ্যে বৈচিত্র্যময় ও দ্বান্দ্বিক জাতীয় স্বার্থ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক শেন বার্জেস এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের সফলতা এই জায়গায় নয় যে তারা রাতারাতি পশ্চিমাকে প্রতিস্থাপন করতে পারছে, বরং তাদের সফলতা এতে যে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি এবং বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করাই এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন