শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
বাকেরগঞ্জের তুলাতলি নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নে তুলাতলী নদীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্রজ্যোতি বড়াল।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় মো. আলাউদ্দিন (৩৫) নামের একজনকে থানা পুলিশের সহায়তায় হাতেনাতে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায় যে, আটক ব্যক্তি মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে ভাড়া করে কিছু লোক এনেছে। তবে জমির মালিক বা সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে যে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভরপাশা ইউনিয়নের তুলাতলা নদী তীরবর্তী এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে মাসুম (২৫) নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রনি মিয়ার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বরটিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুমকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রনি মিয়া ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। মাসুমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাদক বিক্রিতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে রনির বাড়ির সামনে মাসুমের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, কয়েকজন মিলে মাসুমকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। কোমরের হাড়েও আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রনি মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় রনির বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রনির বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এই বছর দুই বিশ্বনেতার এটি দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং কৃষ্ণসাগর (Black Sea) অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথের এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে, যা নিয়ে উভয় নেতাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যে কোনো ধরনের সংঘাত ও সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় হলো সংলাপ ও কূটনীতি। মোদি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ভারত সবসময় প্রস্তুত।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই প্রভাবশালী বিশ্বনেতার বৈঠকটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭৫ বছর বয়সি আকলিমা বেগম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা। ঘরে খাবার রয়েছে, কিন্তু রান্না করার মতো কোনো জায়গা নেই। পানিতে তলিয়ে গেছে। পেটের ক্ষুধা মেটানোর কোনো উপায় নেই। ঘরের বাইরে পানির মধ্যে একটি চকি রাখা আছে। এই চকির উপরে দুপুরের খাবারের রান্নার ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে আকলিমা বেগম নামের ওই বৃদ্ধাকে।
আকলিমা বেগম কালিদাসখালী চরের একজন বাসিন্দা। আকলিমা বেগমের মতো অনেকেই রান্না করার জায়গা না পেয়ে, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়ায়, চৌমাদিয়ায়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরে ১ হাজার ২০০ পরিবারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া ফলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, "পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে শেষপর্যন্ত নদীগর্ভে চলেই গেল স্কুলটি। পদ্মার চরের মধ্যে আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। শেষ পর্যন্ত স্কুল স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল।" এ স্কুলে শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৫ জন। শিক্ষক রয়েছে ৩ জন।
এ বিষয়ে চৌমাদিয়া চরের সোলেমান মোল্লা বলেন, "পদ্মায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধিতে পাচ্ছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছেন ১৫টি চরের মানুষ।"
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, "বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই, তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।" এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, "নদীভাঙন ও বন্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দিদের সহযোগিতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া 'হেবা আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬' বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলের সূচনা হয়। মিছিলটি মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজের সামনে দিয়ে কুমার পাড়া মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সদ্য পাস হওয়া হেবা আইনকে কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়াহবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা মন্তব্য করেন, "বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে। বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের মানুষের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছিল, যার ফলশ্রæতিতে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। বিগত সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকেও দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন পাসের সাহস পায়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথাতেই পবিত্র কোরআনের অবিসংবাদিত বিধানের পরিপন্থি এই আইন পাস করেছে, যা জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর স্পষ্ট আঘাত।"
বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে উত্তরাধিকার আইন সুবিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই শরীয়তের বাইরে নতুন কোনো পদ্ধতি বা আইন সংযোজনের প্রয়োজন নেই।
সমাবেশে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। মূল্যস্ফীতির কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সাথে হেবা আইন সংক্রান্ত জটিলতা জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী যে কোনো সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সাধারণ জনগণ আর মেনে নেবে না। তারা অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বিতর্কিত এই শরীয়াহ বিরোধী হেবা আইন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ফয়সাল হোসেন মনি, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী, রাজশাহী জেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসাহাক, ইসলামী যুব আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ হাসিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুফতী ইমরান হোসাইন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ রাবি শাখার সভাপতি পারভেজ আকন্দ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ